এটিএম গোলাম কিবরিয়া

চোখের সামনে প্রথম বিশ্ব আর তৃতীয় বিশ্বের পার্থক্য উম্মোচিত হইতেছে। একটা রাস্ট্র কতটুকু ইফেক্টিভ, কতটুকু জনদরদী, সেইটা মূলত বোঝা যায় ক্রাইসিস টাইমে। নাগরিকদের সে কি সঙ্খ্যা মনে করে, এক্সপেন্ডেবল মনে করে, নাকি মানুষের বাচ্চা মনে করে, এইটা বোঝা যায় তখন, যখন তার পিঠ দেয়ালে ঠেকে। অস্ট্রেলিয়া অলরেডি ৩,৩০,০০০ টেস্ট করছে, অর্থাৎ প্রতি ১০০০ জনে ১৩ জনের টেস্ট করে ফেলছে। বাংলাদেশের সাথে তুলনা করলে আমাদের এতদিনে ২০ লাখ টেস্ট করার কথা। আমরা করছি ৫০০০ এর কাছাকাছি।

দুঃখের ব্যাপার কি জানেন? ৫০০০ আর ২০ লাখের মাঝে যেই পার্থক্য, সেইটা আসলে বাংলাদেশ আর অস্ট্রেলিয়ার পার্থক্য না। আমরা তৃতীয় বিশ্ব হিসেবে ও পারফরম করতেছিনা। আমরা এর চাইতে ও খারাপ পারফর্ম করতেছি।

পাকিস্তানের ইকোনমি আর আমাদের ইকোনমির সাইজ কাছাকাছি, জনসঙ্খ্যা আমাদের চাইতে ওদের দুই কোটি বেশি। আমাদের হিসেবে ওদের কোনভাবেই ছয়হাজারের বেশী করার কথা না।
ওরা কত করছে জানেন?

৫০ হাজার।

ভারত এক লাখ করে ফেলছে আরো আগে।

মমতা যখন রাস্তায় নামছে, গরীব মানুষের জন্য প্যাকেজ ঘোষনা করতেছে, ইমরান যখন প্রথম টিভিতে আসতেছে করোনা নিয়ে, আমাদের স্বনির্বাচিত ডিক্টেটর তখনো আতশবাজি পুড়াইতেছিলো।

ক্রাইসিস মোমেন্টে ডিক্টেটররা ভালো পারফর্ম করে সাধারনত, কারন তার ডিসিশন মেইকিং প্রসেস খুব দ্রুত হয়, যেহেতু সেই সর্বেসর্বা। ধরেন, জার্মান আর্মিকে কিন্তু রাশানরা থামাইতে পারতোনা সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারে, যদি স্ট্যালিনের জায়গায় গণতান্ত্রিক কেউ হইতো। সিঙ্গাপুর যদি গণতান্ত্রিক হইতো, আজকে করোনা থামাইতে বেগ পাইতো অনেক।

আমাদের ডিক্টেটরটা আনফরচুনেইটলি ডিক্টেটর হিসেবে ও থার্ড ক্লাস।

লৌহমানবীর যেই মিথ সারমেয়সন্তানেরা বানাইছে সেইটা পুরাটাই ভুয়া। আপনার হাতে কয়টা স্ট্রোক আছে, তার চাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হইলো আপনি ফোর্থ ইনিংসে কতক্ষন ব্যাট করতে পারেন। দ্যাট ইজ দ্যা টেস্ট অফ ইয়োর ব্যাটসম্যানশিপ।

পাকিস্তানের ফরেন রিজার্ভ ভারচুয়ালি জিরো, ইমরান খান কয়দিন পরেপরেই আইএমএফের সাথে ভিক্ষা নিয়া দেনদরবার করে, যে টাকা দেয় তার সাথেই টেম্পুতে উইঠা পড়ে, আর্মি আছে সারাক্ষন মাথার উপ্রে, তারপরে ও যেইভাবে রেসপন্স করছে, এমেইযিং। প্রভিন্সিয়াল মমতা ব্যানার্জি যেইভাবে রেসপন্স করছে, আনবিলিভেবল। এমনকি নেপাল ভূটানের ও “টেস্ট পার মিলিয়ন” আমাদের চাইতে বেশী। দক্ষিন এশিয়ার মিসকিনদের মাঝে ও আমরা মিসকিনতম। টেস্ট করতে হবে, কন্টাক্ট ট্রেসিং করতে হবে, লকডাউন ইফেক্টিভ করতে হইলে কোন ইন্টারমিডিয়ারি ছাড়া গরীব মানুষের হাতে টাকা পৌছাইতে হবে। এইটাই ম্যানুয়াল, পুরা দুনিয়া এমনেই করতেছে।

গরীব মানুষ, যারা ইনফর্মাল ইকোনমির ইঞ্জিন, তাদের হাতে টাকা না গেলে লকডাউন কাজ করবেনা। প্রচুর টেস্ট না করলে লকডাউন কাজ করবেনা। আপনি অনন্তকাল লকডাউনে থাকতে পারবেননা।

সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হইলো, খেলা সবে শুরু। এইটা কোটা আন্দোলন না, সড়ক আন্দোলন না, হেলমেট বাহিনী-ফেইসবুক ইনফ্লুয়েন্সার-দালাল মিডিয়া দিয়া আটকাইতে পারবেননা। এই এনার্কিতে যেই জনতা আসবে, তারা “প্রোভার্বিয়াল জনতা”, কেয়ামত ঘটানোর শক্তি রাখে যারা। এই মূহূর্তে আপনি যেইটা একদমই চাননা, সেইটা হইতেছে এনার্কি। ট্রাস্ট মি, ইউ ক্যাননট হ্যান্ডল দ্যাট এন্ড ইভেন উই ক্যাননট এফোর্ড দ্যাট।

আমাদের অফিসে আমরা ঠারেঠুরে আলাপ করতেছি কবে সবকিছু নরমাল হবে সেইটা নিয়ে। এইটা খুব বেশী দূরে না ও হইতে পারে। সারা দুনিয়া যখন নরম্যালসিতে ফিরবে, তখন ও যদি আপনি কন্টেইন করতে না পারেন, আপনি আপনার গার্মেন্টস আর রেমিট্যান্স হারানো শুরু করবেন। সস্তাশ্রম আর একটা পার্মানেন্ট আন্ডারক্লাস জারি রাইখা আপনার যে বৈভব, সেইটা ভ্যানিশ হয়া যাবে তখন।

থার্ড ক্লাস ডিক্টেটররা সমাজে যেইটা ঘটায়, সেইটাকে বলে বাস্টার্ডাইযেশন। আবর্জনাগুলারে সামনে আনে তারা, বিকজ দে ফিয়ার পিপল উইথ কোয়ালিটি। তাদের পাশে মীরজাদি সাব্রিনাই থাকবে, ডক্টর এন্থনি ফাউচি থাকবেনা। একাত্তরের পরে আর কোন দূর্যোগই বাঙালী মধ্যবিত্তকে সরাসরি স্পর্শ করেনাই। পঞ্চাশ বছরে ও একটা ফাংশনিং রাস্ট্র গঠন করতে না পারার কাফফারা সে দিতেছে এখন, যখন সে দেখতেছে তার মিথেরা মিথ্যা আর সুপারম্যানদের আন্ডারওয়ারটা ছেঁড়া।

1 Shares