জিয়া হাসান

গত দিন একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পতন এবং একটা ক্র্যাশের আশঙ্কা নিয়ে।

এইটার পেছনে কিছু ডাঁটা কোট করেছিলাম কিন্ত সুত্র গুলো

গত দিন একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পতন এবং একটা ক্র্যাশের আশঙ্কা নিয়ে।

এইটার পেছনে কিছু ডাঁটা কোট করেছিলাম কিন্ত সুত্র গুলো দেই নাই। যারা অনেক পুরাতন বন্ধু তারা রেফারেন্স গুলো কানেক্ট করতে পারবেন। কারন, এই গুলো নিয়ে নিয়মিত লিখেছি। কিন্ত নতুন নতুন অনেক বন্ধু যোগ হচ্ছেন, তাদের অনেকে ডাটা গুলোর সোর্স নিয়ে বিভ্রান্ত এবং অনেকে ভাবছেন, জিয়া হাসান এই গুলো বানায় বানায় বলছে। তাদের সবার জন্যে আমি আবার ডাটা গুলোর সোর্স দিচ্ছি। এই লেখার পর থেকে, আমার প্রোফাইল বন্ধ থাকবে। কোন প্রভোকোসেনা আগামী কিছু দিনে এই দোকান খুলবেনা কারন, সত্যি অনেক কাজ জমে গ্যাছে।

শেয়ার মার্কেট ক্র্যশ

১। অর্থনীতির একটা পরিস্কার সুত্র হচ্ছে, দেশের অর্থনীতি যদি ভালো করে তবে ব্যবসায়ীরা ভালো করবে। ব্যবসায়ীরা যদি ভালো করে, তবে শেয়ার মার্কেট ভালো করবে। আমি দুইটা ছবি দিচ্ছি। একটা ছবিতে দেখতে পাবেন কিভাবে, ২০১৯ সালে এসে মার্কেটের ক্যাপিটাল টু জিডিপি রেশিও আবার ২০০০ সালের প্রিক্র্যাশ অবস্থানে ফিরে এসেছে।

জাস্ট রেফারেন্সের খাতিরে এই খানে আমরা ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত স্টক মার্কেট কিভাবে বাবেল হইছে, তার একটা ছবি রেখে যাই।

মার্কেট ক্যাপিটাল টু জিডিপির রেশিও এত কমার একটাই কারন, মার্কেট ক্র্যাশের কারনে, বিগত ১০ বছরে অনেক গুলো কোম্পানি তার ক্যাপিটাল হারাইছে। নতুন শেয়ার আসে নাই তা না। তারাও ক্যাপিটাল হারাইছে। এই মার্কেট ক্যাপিটাল টু জিডিপি রেশিওকে বলা হয় বাফেট ইন্ডিকেটর, যেইটা দিয়ে মার্কেট অভার ভ্যালুড না আন্ডার ভ্যালুড সেইটা প্রমান করা যায়। বাফেট ইন্ডিকেটর ৫০% এর উপরে গেলে কোন মার্কেট নিয়ে শঙ্কিত হয়। কিন্ত, যেই মার্কেটের বাফেট ইন্ডিকেটর এত ইন্সেন্টিভ এবং ক্যাপিটাল ইনফিউসানের পরেও ৯ বছরে ৩৩.৭৩% থেকে ১৭% এর নিচে নেমে আসে, জিডিপির প্রতি বছর ৬% প্লাস প্রবৃদ্ধির পরে সেই মার্কেটকে ওয়ারেন বাফট কি বলবে আমরা বলতে পারিস্ক্যাম জিডিপি ডাটা ।

অনেকে বলেন যে , তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলোতে স্টক মার্কেট গুলো এমনিতেই খারাপ থাকে। স্টক মার্কেট টা অর্থনীতির কোন ইন্ডিকেটর নয়। কিন্ত আমি জাস্ট একটা একজাম্পল দিবো, এই খারাপ অবস্থার মধ্যেই কিন্ত যে কোম্পানি গুলোর মার্কেট ফান্ডামেন্টাল ভালো সেই কোম্পানি গুলোর শেয়ার পরে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়িয়েছে। এইখানে গ্রামিন ফোনের ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের ইন্ডেক্সের চিত্রটা দিলাম।

এই সেম পরিয়ডে পুরো মার্কেটের শেয়ার প্রতি আয়ের একটা চিত্র দিলাম। তাতে ইন্ডেক্স নয়, কোম্পানি গুলোর কেমন আয় করছে তার একটা চিত্র পাওয়া যাবে। নিচের ডটায় আমরা পরস্কার দেখতে পারি, বাংলাদেশের মার্কেটের শেয়ার প্রতি আয়২০১০ সালের পিকের পরে, এখন ২০০৬ সালের লেভেলে নেমে এসেছে।

কোম্পানিদের শেয়ার প্রতি আয়

লেট আস বি ভের ক্লিয়ার যে দেশের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশান জিডিপির ২০% এর কাছাকাছি, সেই দেশে লিস্টেড কোম্পানির আয় যদি এই রকম ভয়াবহ ক্র্যাশের মধ্যে দিয়ে যায় সেই দেশে, % / % গ্রোথ হইতে পারেনা। যেখানে এই সেম মার্কেটে ভাল ফান্ডামেন্টালের কোম্পানি গুলো লাভ করে যাচ্ছে। যদি কোন সরকার সেইটা দেখায় তার মানে সেই সরকার তার গ্রোথ ডাটার ব্যাপক ম্যানিপুলেশান করছে।

২। আসুন আমাদের সেকেন্ড ক্লেইম। প্রতি ইউনিট জিডিপি গ্রোথ তৈরি করতে আমাদের পার কেজি কী পরিমাণ তেল এর মুল্য সম পরিমাণ শক্তি ক্ষয় হচ্ছে।

এই ডাটা টায় দেখবেন। ভারত পাকিস্তান মালেশিয়া এবং ভিয়েতনামের সাথে তুলনা করলে, বাংলাদেশ হিস্টরিকালি প্রতি কেজি তেলে জিডিপির উৎপাদন করতে আমরা অনেক কম তেল খরছ করেছি। যেমন ১৯৯০ সালে, ছয় ডলারের জিডিপি প্রবৃদ্ধি করতে আমরা এক কেজি পরিমান তেল খরছ করেছি। যেইটা একই সময়ে চায়নার ছিল ১ ডলার, ভিয়েতনামের চার ডলার, ভারতের তিন ডলার এবং পাকিস্তানের পাঁচ ডলার।

এখন প্রতি কেজে তেলে বাংলাদেশের জিডিপি উদপাদন ১৪ ডলার, ভারতের ৮ ডলার ও পাকিস্তানের ৯ ডলার।

এইটার একটা কারন হচ্ছে, বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক ইকনমি। তাই কৃষির উপরে নির্ভরশীল থাকলে, মোট দেশজ উদপাদনে এনার্জি খরছ কম হবে।

কিন্ত, হ্যাং অন। বাংলাদেশ কৃষি ভিত্তিক দেশ এইটা ১৯৯১ সালের জন্যে সত্য। কিন্ত ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৯ সালে তো জিডিপিতে কৃষির অনুপাত কমেছে, ম্যানুফেকচারিনের পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, প্রতি ইউনিট জিডিপি উদপাদন করতে আমাদের এনার্জি বেশী খরছ হওয়ার কথা যেইটা আমরা নিচের চার্টে দেখতে পাচ্ছি, এগ্রিকালচারের পরিমান ১৯৯১ সালের ৩২.% থেকে ২০১২ সালে ১৫% এর নিচে নেমে আসছে এবং ম্যানুফাকচারিনের সাইজ ২০.% থেকে ২৭.% এ উঠে আসছেএই সময়ে ত পার ইউনিট অফ জিডিপিতে ফুয়েল খরছ বাড়ার কথা । কিন্ত বাড়ে নাই অস্বাভাবিক ভাবে আমাদের এখন প্রতি ইউনিট তেলে ১৪ ইউনিট প্রডাকশান হয় , যেইটা ৯০ সালে ছিল ৭ডবল বারছে।

এগ্রিকালচার ইন্ডাস্ট্রি এবং সারভিস সেক্টরের হ্রাস বৃদ্ধি

২০১০ সালের শেয়ার মার্কেটের পিক এবং ডিপ যেইটা প্রায় সব ডাটায় দেখা যায় কিন্ত যার কোন রিফ্লেকশান কোন সরকারি ডাটায় নাইতার একটা ব্যাখ্যা:

এবং আমাদের মুল ডাটাতে ২০১০ সালের দিক একটা ডিপ বা নিচের দিকে ঝুকে পড়া এবং তার পরের একটা খুব স্টিপ উপরের মুখি উল্লম্ফন আমরা দেখি। এই প্যাটারনটা আমি অনেক গুলো ডাটায় দেখি। ২০১০ সাল ছিল, শেয়ার মারকেটের পিক। এই সময়ে শেয়ার মার্কেট বাবলের কারনে, মানুষের কাছে টাকা ছিল। এবং সেই সময়ে বাপক ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সবাই শেয়ার মার্কেটে টাকা খাটায় নাই। মার্কেটের ফিল গুড ফ্যাক্টরের কারনে, নতুন নতুন ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে। আভ্যন্তরিন পোশাক শিল্প থেকে টাইলস সহ বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে উদপাদন বেড়েছে এবং তার ফলে, ২০১০ সালে আমরা দেখি, পার ক্যাপিটা জিডিপি উদপাদন করতে তেলের খরছ কম হয়েছে। কিন্ত তার পরেই আমরা দেখি, মার্কেটের পতনের সাথে সাথে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল আউটপুটের পতন। এবং এই সময়ে বিভিন্ন কোম্পানি ক্র্যাশ করে। আমি ইতো পুরবে লিখেছিলাম। বর্তমানে খাতুনগঞ্জের কিছু বড় কম্পানির ঋণ খেলাপি হওয়া শেয়ার মার্কেট ক্র্যাশের সাথে সংযুক্ত। কারনে এই কোম্পানি গুলো বড় পরিমান প্রডাক্ট নিয়ে এসে সেই গুলো সেল করতে না পেরে ধরা খায়। পরে তারা সব কিছু বেচে বিদেশে পালিয়ে যায়।

(এই নিয়ে চারটা গ্রুপের এনালিসিস করে আমার একটা লেখা ছিল, কিন্ত ফেসবুকের খুব দূর্বল সার্চ ফিচারের জন্যে খুঁজে পেলাম না। শিট।)

৩ । চতুর্থ একটা জিনিশ হচ্ছে, নাইট লাইট। লাইট লাইট ইন্ডেক্স হচ্ছে, রাত্রিকালীন আলোর ইন্ডেক্স। এইটা এস্টাব্লিশড একটা ফ্যাক্ট হচ্ছে। একটা দেশে যদি ৬% % গ্রোথ হয় তবে, সেইটার কারনে, দেশের মানুষের যে প্রগতি হবে তাতে মানুষের বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়বে, মিল ফ্যাক্টরিতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়বে, রাস্তা ঘাটে বিদ্যুতের ব্যবহার পারবে। কিন্ত যে দেশ গুলো জিডিপি ডাটা ম্যানিপুলেট করবে সেই সব দেশে, রাত্রিকালীন আলোর ছটা বাড়বে না। নাসার প্রকাশিত ব্ল্যাক মারবেল ডাটাথেকে নেয়া বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কিছু অংশের মহাকাশ থেকে দেখা রাত্রি কালীন আলোর ২০১২ এবং ২০১৬ সালের একটা তুলনা নিচের ছবিতে আছে । এই চার বছরে, ভারতের কলকাতা বা ছত্তিসগড়ে যে পরিমান আলো বেড়েছে বাংলাদেশে তার ধারে কাছে বাড়েনি। যদিও ঢাকা এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশে আলো বেড়েছে।

লিঙ্ক এই খানে। সিলেক্টেড কিছু ছবি

ঢাকার দক্ষিণ অঞ্চল
চট্টগ্রাম। শুধু শহরের ছোট্ট একটা অংশে আলোর ছটা। বাকি অন্ধকার।
দুবাই
একটু বড় স্কেলে ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা
দক্ষিণ পশ্চিম বাংলাদেশ। খুলনা এলাকা। অন্ধকার।
ঢাকা
সিলেট বিভাগ অন্ধকার। বর্ডার ঘেঁষে ভারতের ত্রিপুরা আলোকিত
ব্যাংকক
ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানের পেশোওয়ার
খরগপুর
রাজশাহী এবং উত্তরবঙ্গ
পাটনা, যাকে ঢাকার সাথে তুলনা করা যায়
এমনকি পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের বিস্তার এবং আলো ঢাকা থেকে উজ্জ্বল
ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি
ব্যাঙ্গালুরু
মুম্বাই পুনে
চেন্নাই
ছত্রিশগড়
ভারত বাংলাদেশ একই ম্যাপে, বড় স্কেলে
আহমেদাবাদ
দিল্লীতে আলোর বিস্ফোরণ
ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানের লাহোর
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গ

৪। মানুষের ক্যালোরিগ্রহণ এবং আয় কমেছে

ফাও এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে এবং ২০১০ ও ২০১৬ সালের খানা জরিপ অনুসারে বাংলাদেশের মানুষের মানুষের পরিবার প্রতি আয় এবং ক্যালোরি গ্রহন কমেছে। এইটা প্রথম দেখিয়েছিলেন, ঢাকা ইউনিভারসিটির ডঃ তসলিম। এরপরে আমরা বেশ কয়েক জন একটিভিস্ট এই ডাটাটাকে আলোচনায় আনার চেষ্টা করি এবং এখন অধিকাংস অর্থনৈতিক আলোচনায় এই ডাটাটা রেফার করা হচ্ছে।

ডঃ তসলিমের কমপাইল করা ডাটা থেকে তৈরি ডাটায় আমরা দেখতে পাচ্ছি, ২০০৫ সাল থেকে ২০১০ সালে পাঁচ বছরে মানুষের আয় বেড়েছে ১০৪০ টাকা এওবং ক্যালোরি গ্রহন বেড়েছে ৭৯। অন্যদিকে একই সুত্রে মতে ২০১০ থেকে ২০১৬ সালে মানুষের আয় বেড়েছে ২১৮০ টাকা কিন্ত কালোরি গ্রহন কমেছে ১০৮। যেই দেশে দারিদ্র বিমোচন হচ্ছে, যেই দেশে প্রতি বছর জাতিয় আয় বেড়ে নিম্ন আয় থেকে পাঁচ বছরে মধ্যম আয় গ্যাছে, এইটা খুব ভালো প্রশ্ন দেই দেশের মানুষের খাওয়া কেন কমছে ?

তাদের পরিবার প্রতি আয় কেন কমেছে ? এই কথাটা ২০১৮ সালের ডিসেম্বারে ডক্টর দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আব্দুল গফুর মেমোরিয়াল লেকচারের কি নোট স্পিচে বলার চেষ্টা করেন,

তিনি প্রশ্ন রাখেন, খানা জরীপ ২০১৬ এবং ২০১০ যাচাই করলে দেখা যায় এই সময়ে শুধু মাত্র সব চেয়ে ধনী ৫ পারসেন্ট বাদে,দেশের সকল ইঙ্কাম লেভেলে পরিবার প্রতি আয় কমেছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যেখানে ম্যাক্রো ভাবে হিসেব করলে ৬ বছরে দেশের মোট আয় পার ক্যাপিটা GNI ৭৮০ ডলার থেকে ১৩৩০ ডলার হয়েছে, মানে প্রায় ৬০% বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন কেন মাইক্রো হিসেবে খানা জরিপে পরিবার প্রতি আয়প্রথম ৫% বাদে সকলের কমে এসেছে কেন?

এবং তিনি আরো বলেন, এইটা বিসদ্রিশ কারন, ২০০৫ সালের যে খানা জরীপ তার সাথে ২০১০ সালের জরিপে কিন্ত ঠিকই আয় বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং সেই আয় বৃদ্ধি জিডিপির প্রবৃদ্ধির সাথে সমতা রাখে। “

তার ওই স্পিচে এই সময়ে উপস্থীত অনেক অর্থনীতিবিদেরা হই চই করেন যা পরের দিন প্রথম আলোতে ছোট করে প্রকাশিত হয় এবং আমি অন্য অর্থনীতিবিদ এবং সাংবাদিকদের কাছেও এই ক্যাচালের কথা শুনি । দেবপ্রিয় সাহেবের কি নোট একটা কপি আছে এই খানে।

৫। আমি আরো বলেছিলাম, সরকার বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন দাবি করছে, সেইটা হচ্ছে শুধু মাত্র উদপাদনের ক্যাপাসিটির উন্নয়ন। কিন্ত ২০০৭ থেকে ২০১৭ সালে , ১০ বছরে সরকারের দেশের মানুষের বিদ্যুতের খরছ সরকারি ডাটা মতেই, মাত্র দুই গুন বেড়েছে। অথছ এই সময়ে নমিনাল জিডিপি হিসেবে করলে, প্রায় ১৫০% গ্রোথ হয়েছে।

বিবিএসের উৎপাদন শিল্প জরিপে শিল্প কারখানার সংখ্যা কমেছে

৬। আমি আরো অজস্র্য উদাহরন দিতে পারবো। কিন্ত যে একটা উদাহরন সব চেয়ে ভয়াবহ সেইটা হচ্ছে, এই বছরের ৩০ মে তে প্রকাশিত বিবিএসের ডাটা অনুসারে এই সময়ে সরকারি হিসেবে মতেই, মাঝারি এবং বড় শিল্পের পরিমান কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) উৎপাদন শিল্প জরিপে বড় ও মাঝারি শিল্পকারখানার জরিপে দেখা গ্যাছে, আমি কুসুম কুসুম সরকার পন্থি পত্রিকা প্রথম আলো থেকে কোট করছি,
“ ২০০১ থেকে ২০১০—এই দশকেই দেশের শিল্পায়ন বেশি হয়েছে। “
“ ২০১২ সালের পর শিল্পায়নের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। গত ছয় বছরে মাত্র সাড়ে চার হাজার নতুন কারখানা হয়েছে “
“ গত ছয় বছরে দেশের বড় শিল্পকারখানা বাড়েনি, বরং কমেছে ৬০৮টি। “
এবং প্রথম আলো এই লেখাটায় খুব সঠিক ভাবে কিছু প্রশ্ন করেছে, জিডিপির ২৪ শতাংশ আসে শিল্প উৎপাদন খাত থেকে। আর বড় ও মাঝারি শিল্পকারখানার অবদান সাড়ে ২০ শতাংশের বেশি। কয়েক বছর ধরেই জিডিপিতে বড় ও মাঝারি শিল্পকারখানাগুলোর অবদান ক্রমশ বেড়েছে। কিন্তু জরিপ বলছে, গত ছয় বছরে বড় ও মাঝারি শিল্পকারখানার সংখ্যা কমে গেছে। এইটা কেম্নে হইলো ?
যেইটার একটাই কারন হতে পারে, বুজরুকির মাধ্যমে গ্রস ডোমেস্টিক প্রডাক্ট এবং পার ক্যাপিটা আয় বাড়ানো হয়েছে। কিন্ত ডিটেলে গেলে সেই যুক্তি টিকতেছেনা।

বিশ্ব ব্যাঙ্কের ২০১৯ সালের মার্চে প্রকাশিত সারভে অনুসারে জাতিয় ইউনিভারসিটির গ্রাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৭০%

৮। সবার শেষে ছোট্ট একটা ডাটা দেই। বাংলাদেশের বেকারত্ব নিয়ে সব চেয়ে অথেন্টিক ডাটাটা দিয়েছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক, মাত্র এক মাস আগে। এর আগে বেকারত্ব নিয়ে আমরা বিভিন্ন রকম উলাটা প্লাটা ডাটা পেতাম। জাতিয় ইউনিভারসিটির ছাত্র ছাত্রিদের উপরে জরিপ চালিয়ে বিশ্ব ব্যাঙ্ক বলেছে, জাতিয় ইউনিভারসিটির ৭০% ছাত্র ছাত্রী গ্রাজুয়েশানের ৩ বছর পরেও চাকুরী খুজে পায় নাই।
রিপোর্টটা আমি পরে দেখেছি এবং তাতে দেখা যাচ্ছে যারা চাকুরী পেয়েছে বেশির ভাগ পেয়েছে, এডুকেশান সেক্টরে। ম্যান্যফাকচারিং বা কৃষি তাদের জন্যে তেমন চাকুরির সুযোগ করে দেয় নাই। নতুন উদ্যকতাদের সংখ্যা মাত্র ১%।
তো বাংলাদেশের যদি প্রতি বছর ৭% বা ৮% গ্রোথ হয় তব্রে, অকুন্স ল এর একটা ক্যাল্কুলেশান অনুসারে বাংলাদেশে প্রতি ১% গ্রথে ২.২ লক্ষ চাকুরির সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা। মানে,৬% থেকে ৮% গ্রোথে ১৩ থেকে ১৫ লক্ষ চাকুরীর সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা। কিন্ত চাকুরির সুযোগ কত তৈরি হচ্ছে?

বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপ–২০১৫ অনুসারে দুই বছরে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে মাত্র ৬ লাখ। link

এই ডাটাটা নিয়ে সেই সময়ে অনেক হই চই হওয়ার পরে ২০১৭ সালে বিবিএস ডাটাটা সম্পুরন চেঞ্জ করে। এবং ডাটাটা পলিটিকালি সেন্সিটিভ হওয়াতে বিবিএস ২০১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপে ক্লেইম করে এখন বাংলাদেশ ১ বছরে ১৩ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।
পলিটিকাল বিতরকের ফলে, বিবিএসের এই ধরনের গাজাখুরি ডাটা পরিবর্তনের এই একটা প্রমান ই যথেষ্ট বুঝতে বাকি পলিটিকাল ডাটায় কি তৈরি হচ্ছে।

ভুয়া ডাটার আরো পরিস্কার প্রমান

এই বিষয়ে আমাদের হাসিব ভাই ও খুব সুন্দর একটা চার্ট দিয়েছিল যে কিভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ডাটা উঠা নামা করে, কিন্ত আমাদের দেশের সকল ডাটায় একটা এলিভেটরের মত প্রগ্রেস দেখা যায়,উপরের ছবিটা দেখেন, শিক্ষা কৃষি শিল্প পানি বিদ্যুৎ সব ক্ষেত্রেই বিশ্বের সকল দেশের ডাটাতে উঠা নামা আছে। কিন্ত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ডাটা সব সময়েই একটা সিরির মত উপরে উঠে যায়। আমাদের কোন বিজনেস সাইকেল নেই। কোন পতন নেই। এমন কি হটাত কোন উল্লমফন ও নেই।
বিবিএসের ডাটা কেন এমন এইটা দেখাতে লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স এবং ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোরড এর তত্ত্বাবধানে বিবিএসের ডাটা কোয়ালিটির নিয়ে ডক্টর এস আর
ওসমানির রিভিউকে রেফার করি যে রিভিউটা ফান্ড করে, ইউকে এইআইডি। এই রিভিওতে ডক্টর ওসমানীর রেফারেন্স থেকে বোঝা যায়,
১। কেন আমাদের ডাটা প্যাটারন সিঁড়ির মত।
২। এবং অনেকে যে বলেন, বিবিএসের ডাটা সঠিক কারন, এই ডাটা গুলো সব ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক,আইএমএফ বা সিপিডি চেক করে। রিভিউ থেকে আমরা পরিস্কার বুঝতে পারি, ন্যাশনাল একাউন্টিং এতো কমপ্লেক্স একটা ডাটা সেইটার একিূরেসি চেকের কোন ম্যাকানিজম ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আইএম অফ বা অন্য গবেষণা সংস্থা গুলোর নাই।
ডক্টর ওসমানীর গবেশনা নিয়ে আমার লেখার লিঙ্ক এই খানে। ডক্টর ওসমানীর মুল স্টাডির লিঙ্ক এই খানে।

সরকারের ডটা লুকানোর আরো প্রমান। এক্সটারনাল ডেবট নিয়ে ভয়ঙ্কর লুকোচুরি

সরকার যে ডাটা লুকাচ্ছে তার অজস্র প্রমান আছে। বাংলাদেশের বইদেশিক ঋণ কত এই প্রশ্নটা খুজতে গিয়ে আমি সরকারি রেফারেন্সে খুজে পেয়েছি, বাংলাদেশের বৈদেশিক , ২০১৬ সালে ৬৫ বিলিয়ন ডলার ক্রস করে গ্যাছে। ফাপাড নামের একটি সংস্থা যে, বাংলাদেশের ফরেন ঋণের প্রজেক্ট গুলো অডিট করে, তাদের হিসেবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের এক্সটারনাল ডেবট ৬৫ বিলিয়ন ডলার ক্রস করে গ্যাছে। লিঙ্ক এই খানে।

বাংলাদেশের অডিটর জেনারেলের অফিসের ডেবট অডিট যারা করেন সেই ডিপারট্মেন্ট ফাপাডের একজন ডিরেক্টরের লেখার সোর্স
যেখানে সরকারের অফিসিয়াল দাবি বাংলাদেশের ফরেন ঋণ, ৩০ বিলিয়ন ডলার – যেইটার ভিত্তিতে আই এম এফ স্ট্রেস টেস্ট করে সারটিফিকেট দেয় বাংলাদেশের তেমন কোন ডেবট রিস্ক নাই । যদিও সরকারের মধ্যে থাকা বিভিন্ন সংস্থাই আবার দাবি করে, এই ঋণ এখন ৫৫ বিলিয়ন ডলার। financial exprress এর লিঙ্ক এই খানে। এই গুলো ছাড়াও আরো নোন আন নোন রয়েছে।

অলস বিবিএসের ডাটাচুরি পাঁচ বছর ধরে ছাগলের গ্রোথ ২.৩৮%

কেন ক্রাশ ? কিসের ক্রাশ ? কেমন ক্রাশ ?

গত লেখায় আমি বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্পকে টিউলিপ ম্যানিয়ার সাথে তুলনা করেছি। এবং বলেছি এই বাবল আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে বারস্ট করবে যার প্যাটারটা কি হতে পারে, সেইটা আমি এই লেখায় ব্যাখা করেছি। আমার মুল আরগুমেন্ট টা হচ্ছে, এতো দিন পর্যন্ত আমরা বলেছি, জিডিপি ডাটা ম্যানিপুলেশান হচ্ছে। কিন্ত আমরা কোন ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিসের কথা বলি নাই।
কিন্ত, সেই জিডিপি ডাটা মানিপুলেশানের কারনে ব্যাপক গ্রোথ দেখিয়ে সহ ফিনান্সিয়াল সেক্ট্রের মিস ম্যানেজমেন্ট এবং সরকারি খরছকে একটা অস্বাভাবিক যায়গায় নিয়ে যাওয়ার কারনে এখন আমরা বলা শুরু করেছি একটা ক্রাইসিসের সম্মুখে আমরা যেইটা বাস্ট করবে। এবং এর পেছনে মুল একটা ইস্যু হচ্ছে, সরকার ডাটা লুকাচ্ছে এবং সরকার তার খরছ অতিরিক্ত বারিয়ে ফেলেছে যার ফলে ডেবট ফিনান্সিং করে দেশ চালাচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের যে ডেবট ফিনান্সিং করে সরকারের খরচ চালাচ্ছে এবং এই বছরে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা গ্যাপ হয়েছে সরকারের প্রত্যাশা থেকে আয়ের মধ্যে সেইটার জন্যে দায়ী করা হয়েছে, আমাদের মানুষের ট্যাক্স দেয়ার অনিহাকে। কিন্ত এইটা আমি দায়ী করি, রিয়েল গ্রোথ থেমে যাওয়াকে এবং মিথ্যা জিডিপি দেখানোকে । এজ এ ম্যাটার অফ ফ্যাক্ট, ২০০৯ সালে ৯ বছরে , আমাদের ইন্ডাইরেক্ট ট্যাক্স ৩৮০% বৃদ্ধি পেয়েছ যেইটা পৃথিবীর সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
তারপরেও নাকি আমাদের ট্যাক্স কম কিন্ত জিনিষের দাম পৃথিবীর সব চেয়ে হাইয়েস্ট গুলোর মধ্যে একটা।
ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিসটা যেইটা প্রডিক্ট করতেছি, সেইটা ইকনমিকসের ইস্যু না। ফিনান্সের ইস্যু। অর্থনীতির সাথে সংযোগ টা হইল, এই জিডিপি ম্যানিপুলেশান জেইটার মাধ্যমে সরকার দেখাইতে পারতেছে আমার গ্রোথ হইতেছে তাই আয় বাড়তে থাকবে, যেইটা যে ট্রু না। সেইটা এই বছরের বাজেটে বোঝা গ্যাছে। ২০১৪ সাল থেকে সরকার খরছ যে ভাবে বাড়াচ্ছে সেইটার প্রভাবটাই আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রকৃত অবস্থা তার থেকে ভয়াবহ।
এবং আমি প্রেডিক্ট করতেছি আগামী এক বছরে আমরা মনিটারি ইনফ্লেশান দেখতে পাবো যেইটা আমরা সেই ভাবে বিগত ২০ বছরে দেখি নাই। আমার মা দেরকে দেখেছি, টুক টুক করে -মাসে মাসে ইন্সুরেন্সে ৫০০ টাকা করে রাখছে যে টাকা ১০ বছর পরে, ১০ লাখ হইছে। আমাদের সবার নামে এই সব বিনিয়োগ করেছে। এই বিনিয়োগ গুলো অয়াইপড আউট হয়ে যাবে। এজ এ ম্যাটার অফ ফ্যাক্ট ২০%থেকে ৩০% ইনফেলশান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খুব স্বাভাবিক ঘটনা। ইন্টারন্যাশ্নালি প্রতি বছর পাঁচ ছয় টা দেশ, ২০% থেকে ৩০% ইনফ্লেশানে পরে, এইটা কোন নিউজ ও হয় না।
কিন্ত বাংলাদেশ এইটার অবস্থা হবে ভয়াবহ। কারন এই ধরনের ইনফ্লেশান আমরা বিগত ৪০ বছরে দেখি নাই। ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিসের ইতিহাস নিয়ে আমার নিজসব একটা দীর্ঘ স্টাডি আছে তাতে আমি দেখেছি ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিস নিয়ে এত ভয়ের কিছু নাই। কারন, ইতিহাসের প্রতিটা দেশ ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিস ২ থেকে ৪ বছরে কাটায় নিছে। কিন্ত আমি ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিসের ইতিহাসে এমন কোন দেশ দেখি নাই যার ক্রাইসিসকে, মিড নাইট ইলেকশানে মত অস্বীকার করে গ্যাছে।
এই কথাটা বলা সম্ভব যে, ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিসের জন্যে ৪ বছর অপেক্ষা করতে হবেনা। আমরা অলরেডি ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি কিন্ত সরকার ক্রাইসিসটা ম্যানেজ করে নিচ্ছে।
জাস্ট দেখেন, ডেপোজিট গ্রোথ নাই, কিন্ত, ইন্টেরেস্ট রেট ১৫% এর কাছাকাছি। ক্লাসিক স্টাগফ্লেশান। যেইটা এখন হচ্ছে, সরকার ক্রাইসিস টাকে ডিনাই করে যাচ্ছে এবং সিপিডি সানেম ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক আইএমএফের ইকনমিস্টরা ক্রিটিকাল হচ্ছে শুধু মাত্র ব্যাঙ্কিং সেক্টরের মিস ম্যানেজমেন্ট এবং বাজেটের খরচ করতে পারার প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতাকে। তাদের ন্যারটিভ হচ্ছে , কিছু ভুল হচ্ছে কিন্ত যেহেতু রেমিটেন্স এবং গারমেন্টস আছে দেশের অর্থনীতি মোটামুটি ঠিক আছে। কিন্ত দেশের রিয়েল অর্থনীতিতে যে ব্যাপক ক্রাইসিস যাচ্ছে, এই সব কথা বলে তারা সেই ক্রাইসিস টাকে ডিনাই করছে। কিন্ত ক্রাইসিস অলরেডি ভয়াবহ। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি যেই খানে, দেশের ৬০% এর উপরে গ্রাজুয়েট পরে, তাদের ৭০% স্টুডেন্ট গ্রাজুয়েশানের ৩ বছরে চাকুরী পাচ্ছেনা মানে, দেশ এখুনি একটা রিসেশানারি পিরিয়ড পার করছে।
কিন্ত অর্থনীতি একটা মজার সাইন্স। এইটা কোন সাইন্স ই না। এইটা অকাল্ট। আপনি যেইটা বিশ্বাস করবেন, সেইটাই এইখানে কনফারমেশান বায়াসের মত কাজ করবে। এইযে মনে করেন, আপনার পকেটে ১০০ টাকা এইটার দাম আসলে, ২০ পয়সাও না। কিন্ত কেন আপনি ভাবেন, এইটার ভ্যালু ১০০ টাকা? কারন, এইটা আপনি বিশ্বাস করেন। কারন আপনাকে বলা হয় বিশ্বাস করতে। তাই করেন। কিন্ত এই বিশ্বাস যখন ছুটে যাবে তখন আপনি ছুটে যাবেন, এই টাকাটার বদলে কিছু কাইন্ড কিনে নিজের মউজুদে রাখতে, জেইটার দাম আপনি জানেন আস্লেই ১০০ টাকা।
এই ধরনের একটা দিন আস্তেছে। যখন আপনার এই বিশ্বাস ছুটে যাবে। তখন কি প্যানিক তৈরি হয়, সেইটা আমরা সবাই দেখবো। বেশি দূরে নাই।
এইটা আমার শেষ লেখা।আমার বেশ কিছু সিরিয়াস কাজ পরে রয়েছে, আগামী কয়েক মাসে, আমি অফ থাকবো।
হাস্তালা ভিস্তা

0 Shares
জিয়া হাসান এর ব্লগ   ১৪১ বার পঠিত