Avatar

আমাদের জীবন যখন প্রৌঢ়ত্বের দিকে এগোয় তখন তাকে ভীষণ ভারী ঠেকে। তখন আমরা কী করি? আমরা আমাদের সন্তানদের আঁকড়ে ধরি। আগেও কি আঁকড়ে ছিলাম না? ছিলাম তো। আজীবন ছিলাম। কিন্তু তখন আঁকড়ে ছিলাম তাকে তৈরি করার জন্য, আর এখন— আমার নিজের একাকিত্ব কাটানোর জন্য, আমার দেখভালের জন্য। 

খুব নির্মমভাবে বললে, আমার ওযুধের বিল মেটানো, আমায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, আমায় সঙ্গ দেওয়া, আমার নানা বিরক্তির বিবরণ শোনা— এ সবকিছুর জন্য তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরি। মুক্তি পাওয়ার জন্য আমার সন্তানই যে ছটফট করছে, সে খেয়াল রাখি না। ফল কী হয়? সে সুযোগ পেলে সরে যেতে চায়। আমরাও দুঃখ পাই, যন্ত্রণা ভোগ করি মনে মনে।

গিয়াস উদ্দিন

এমনটা কিন্তু হয় না, যদি আমরা নিজেরাই যথাসময় নিজেদের নিয়ে একটু সচেতন ভাবে ভাবি, নিজেদের বুড়ো বয়সের কথা চিন্তা করি। কী করতে পারি আমরা? যদি বলি, নিজের বৃদ্ধাশ্রম বেছে নিয়ে সেখানে গিয়ে বসতি করতে পারি? না, সকলের কথা বলছি না নিশ্চয়ই। সকলের পক্ষে বৃদ্ধাশ্রমের ব্যবস্থা করা সম্ভবই নয়, অধিকাংশ মানুষেরই সেই সামর্থ্য নেই। আবার খুব সম্পন্ন যাঁরা, তাঁদেরও সাধারণত এই ভাবনার প্রয়োজন হয় না। 

কিন্তু এই দুইয়ের মাঝখানে আছেন বহু মানুষ, যাঁদের অনেকে নিঃসঙ্গ বা মানসিক যন্ত্রণাময় জীবন কাটানোর বদলে এই পথটা নেওয়ার কথা ভেবে দেখতেই পারেন।
অনেকেই হয়তো বলবেন, তার মানে কি আমাদের সন্তানরা আমাদের ভালবাসে না? দায়িত্ব ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলতে চায়? তা হলে কী শিক্ষা দিতে পারলাম তাকে? আমার নিজের জীবনটা তো পুরোটাই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কাটিয়েছি। তার যাতে কোনও রকম অসুবিধে না হয়, সে যাতে সব উৎকৃষ্ট জিনিস হাতের মুঠোয় পায়, তার জন্য প্রাণপাত করেছি। তা হলে এই বয়সে তার কাছ থেকে কিছু আশা করা অন্যায়?

এর উত্তরে আমি একটা পাল্টা প্রশ্ন করব। আপনি যখন সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন, তখন কি তার কাছ থেকে ভবিষ্যতে কতটা পাবেন, সেই আশায় জন্ম দিয়েছিলেন? নিশ্চয়ই না। তাকে ভালবাসবেন, মানুষের মতো মানুষ করে তুলবেন বলেই তো জন্ম দিয়েছিলেন। পিতৃত্ব-মাতৃত্বের সুখ ও গৌরব পাবেন বলেই জন্ম দিয়েছিলেন। তা হলে, সে বড় হতেই তাকে বিনিয়োগ হিসেবে ভাবছেন কেন? কেন ভাবছেন আপনার পড়ন্ত বেলার সব ভার, দায়দায়িত্ব বইবে সে? তার যৌবন? সে আপনার সন্তান হতে পারে, কিন্তু সে তো এক জন স্বতন্ত্র ব্যক্তি। যার নিজস্ব, মতামত, ভাবনা, পছন্দ-অপছন্দ রয়েছে। ——– চলবে!!

 

 

0 Shares

জিয়াবুল হক এর ব্লগ   ১৭ বার পঠিত