সোহেল চৌধুরী

কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন রাখা যেমন হাস্যকর, তেমনি ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলাটাও হাস্যকর। নীল নদের পানি যেমন নীল নয় কিংবা লালদীঘির পানি লাল নয়, তেমনি শান্তির ধর্ম বলে অভিহিত ইসলামও শান্তির নয়। প্রকৃত প্রস্তাবে ইসলাম হল সহিংসতার ধর্ম, বিশ্বব্যাপী অশান্তি ছড়ানোর ধর্ম। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একমাত্র ইসলাম ছাড়া আর কোনো ধর্মের নাম উল্লেখ করা যায় না।

যে ধর্মীয় অনুপ্রেরণায় তারা এসব হামলা চালায়, তারা মনে করে জেহাদ করলে স্বর্গ পাওয়া যাবে। জেহাদ করে মৃত্যু বরণ করলে নগদে স্বর্গ। আর স্বর্গে গেলেই পাওয়া যাবে ৭০ হাজার হুর (স্বর্গের বেশ্যা) আর গেলমান। সেখানে তাদের সঙ্গে অবাধে যৌনক্রিয়ায় মেতে উঠা যাবে। এই লোভকে না ছাড়ে। এর জন্য কীই না করতে পারে, এই শান্তিবাদীদের অশান্তি সৃষ্টিকারী তৎপরতার কয়েকটি তথ্য ও উদারহণ দিয়ে এই লেখার ইতি টানছি।

২০০১ আমেরিকায় ইসলামিক জঙ্গিগোষ্ঠীর ওই সন্ত্রাসী হামলার ১৫ বছর পর ২০১৬ সাল পর্যন্ত অসংখ্য হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার সংখ্যা কম করে হলের ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। সন্ত্রাসীদের এরকম হামলার পরে তাদের সম্পর্কে আমাদের যে যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে, এমনটা দাবি করা ঠিক নয়। ২০০১ সালে সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখের ওই সন্ত্রাসী হামলার পর আজ  পর্যন্ত ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর, এই ১৫ বছরে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩০ হাজার ১০টি সুনির্দ্দিষ্ট হামলা হয়েছে।

(এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে The Religion of Peace  সাইট ভিজিট করুন। এই সাইটটি আমাদের অনেকের কাছে খুব পরিচিত। এখানে বলা হয়েছে শান্তির ধর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। সেখানে বোঝা যাবে মানুষের মর্যাদা এবং স্বাধীনতার ওপর ইসলাম কতটা সহিংস। জেহাদের নামে কতটা হিংস্র হয়ে উঠতে পারে, তার বিস্তারিত তথ্য) ইসলাম ওয়াচ  ও কালচার ওয়াচ নামের ম্যাগাজিনে প্রকাশিত নিবন্ধ ও বিবিসি’র একটি প্রতিবেদনের সহযোগিতা নিয়ে এই লেখাটি তৈরি করা হয়েছে।

২০১৬ সালের নভেম্বরেই চালানো হয়েছে ২৩১ টি হামলা, এতে নিহত হয়েছে দুই হাজার আটজন, জখম হয়েছেন তিন হাজার ৮২ জন। আত্মঘাতি বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে ২৭টি, সেখানে ২৯টি মুসলিম দেশের সন্ত্রাসীরা সম্পৃক্ত রয়েছে। এক মাসে যতগুলো হামলা হয়েছিল, সেটার সংখ্যাও কম নয়। ২০১৪ সালে বিবিসি’র এক রিপোর্টে দেখা গেছে ওই বছরের নভেম্বর মাসে ৬৬৪টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সে হামলায় নিহত হয়েছিল ২ হাজার ৫১৫ জন। হামলাগুলো  চালিয়েছিল ইসলামিক জঙ্গিরা। সেখানে ইরাক কিংবা আফগানিস্তানের যুদ্ধ-সংঘাতকে বিবেচনায় রাখা হয় নাই। সুনির্দ্দিষ্ট সন্ত্রাসী হামলাকেই গণনায় রাখা হয়েছে। যেমন আত্মঘাতি হামলা কিংবা ব্যারাকে ঘুমানোর সময় সৈন্য বাহিনীর ওপর অতর্কিতে জঙ্গি হামলাকে আমলে নেওয়া হয়েছে।

২০১২ সালের ২১ জুলাই, ইসলাম ওয়াচ সাইটে প্রকাশিত আলী খালাফ নামে একজন প্রাবন্ধিকের ‘হোমোসেক্সুয়াল সেক্স বিটুইন মুসলিম মেলস হালাল ইফ পারফর্মড ফর দি ভিক্টরি অফ ইসলাম’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ থেকে জানা যায়, আবদুল্লাহ আশিরী নামের একজন জিহাদী ছিলেন। একজন মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। সেই সুবাদে অন্য দুই জেহাদী ভাই এক অবাক করা কান্ড ঘটিয়েছিলেন। আবদুল্লাহ আশিরী। ইসলামের দুষমুনদের উৎখাত করতে যে কোনো কাজেই তিনি রাজী থাকেন। একবার আত্মঘাতী বোমা হামলা ঘটাতে গিয়েছিল সৌদি প্রিন্স নায়েফকে হত্যা করতে। রীতিমত বিস্ফোরক সহ। সৌদি প্রিন্স বলে কথা, তার কাছে যাওয়ার আগেই তল্লাসীতে ধরা পড়বে বহনকৃত বিস্ফোরক। তাই তার সহযোগীরা বহু পর্যবেক্ষণ নিরীক্ষা করে, সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই বিস্ফোরক ঠেসে দিয়েছিল আবদুল আশিরীর পশ্চাতদেশের ভেতরে, মানে গুহ্যদারে, মানে মলদ্বারের ভেতর। (সিট! সিট!) তার বড়ই খায়েশ ছিল নিজেকে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়ে ‘শহীদ’ হবেন, এরপর নিশ্চিত বেহেস্তে যাবেন, পরে সেখানে হুররূপী বেশ্যাদের সঙ্গে কামকেলিতে লিপ্ত হওয়া যাবে।

কিন্তু বিধি বাম। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পশ্চাদদেশের সংরক্ষিত বারুদের আগেই বিস্ফোরণ ঘটাতে। বাটনে আগে চাপ লাগার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়। মিশনটি ব্যর্থ হয়ে যায়। কিন্তু বাটনটি আগেই চাপ লেগেছিল কেন? পরে জানা গেল, যে বিস্ফোরকটি তার সরু মলদ্বারে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেটার চাপে তার মলদ্বারটি ফেটে বারুদের কৌটাটি বের হয়ে আসছিল। ঠিক ওই সময় সৌদি যুবরাজ তার অফিসে ঢোকার সময় হয়ে যায়। ততক্ষণে বারুদের চাপে চিড়ে যাওয়া মলদ্বারে শুরু হয় নরকযন্ত্রণা। সৌদি যুবরাজকে হত্যার চেয়ে তার আগ্রহ তখন পশ্চাৎদেশের চুলকানি। যন্ত্রণা সইতে না পেরে নির্ধারিত সময়ের আগেই সে বাটনে চাপ দেয় সেই চুলকানি থেকে নিস্কৃতি পেতে। আর যথারীতি বিস্ফোরণ ঘটায় মলদ্বারে বহনকরা বোমার। আর চিরদিনের জন্য মুক্তি পায় নিজের পশ্চাতদেশের যন্ত্রণা থেকে। ঘটনাটি ঘটেছিল আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে। আর তার মলদ্বারে বিস্ফোরক ভরে দিয়েছিল তারই দুই তালেবান সাহাবা। এটাই হল শান্তির ধর্ম। একে শান্তির ধর্ম হিসেবে যেভাবে ইনিয়ে বিনিয়ে বর্ণনা করা হচ্ছে, সে প্রচারণাও চলছে জোরে শোরে। এই ১৫ বছরে হামলার প্রকৃত সংখ্যা হবে ৩০ হাজার ১০টি, যা শুধু ৩০ হাজার বলে বর্ণনা করা হয়েছিল। এরমধ্যে ৫ হাজার ৫৮৫ দিন কালের গর্ভে চলে গেছে। অর্থাৎ দিনে গড়ে ৫ দশমিক ৪০টি এবং বছরে দুই হাজার সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল এই শান্তির ধর্মের ধ্বজাধারীরা।

এসব হামলা চালিয়েছিল ইসলামের সৈনিকরা, সেটা ইসলামের নামে এবং ইসলাম রক্ষার নামে। চিন্তা করুনতো ১৫ বছর ধরে প্রতিদিন খ্রিস্টানরা তাদের ধর্মীয় জোসে যদি গড়ে ৫টি করে সন্ত্রাসী হামলা চালায়, এটা কখনোই ভাবা যায় না। এ ধরনের হামলা সংঘটিত হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়ে যেতো। নানামুখি তদন্ত শুরু হতো, খ্রিস্ট্রিয় ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতো, তাদের ধর্মের বাণী দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হতো। প্রচুর সংখ্যক গির্জা বন্ধ হয়ে যেতো।

আমার জানামতে, গত ১৫ বছরের মধ্যে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে একটিও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেনি। অথচ ইসলাম ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সন্ত্রাসী হামলার বিবরণগুলোর কথা ভেবে দেখুন।

তাহলে এই হল শান্তির ধর্মের নমুনা। একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েও শান্তির ধর্ম দাবি করতে পারা কতটা স্ববিরোধী আবদার।

0 Shares
সোহেল চৌধুরী এর ব্লগ   ৫৬১ বার পঠিত