Avatar

“এখন আমি ভয়ানক রকম হতাশাগ্রস্থ। সমাজ, সভ্যতা, পরিবার, রাষ্ঠ্র সবকিছুকে আমি ঘৃণা করি। আমি অনেক পাইছি, আবার কিছুই পাই নাই। এই পূঁজিবাদ আর কর্পোরেট দুনিয়াতে আমি আমার যোগ্য অধিকার পাই নাই। ওরা বলে – আমি যা পাইছি, তা হলো আমার সৌভাগ্যের ফসল; আর যা পাই নাই তা হচ্ছে আমার অযোগ্যতা ।

ছোট বেলা হতে শুনে আসছি খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা আর চিকিৎসা নাকি মানুষের মৌলিক চাহিদা। ধর্ম বইতে পড়ছি যে আল্লাহর কাছে সকল মানুষ সমান। মুহাম্মদ বিদায় হজ্জ্বের ভাষনেও সেই সাম্যের গান গাইছে। তাহলে আমি কেন সমান অধিকার পাবো না? নাকি ওগুলা সবই ছিলো গালভরা বুলি আর তথাকথিত নীতিবাগীশ দার্শনিকদের ভাঁওতাবাজি। ওরা আমার মৌলিক অধিকারকেও বলে আমার সুযোগ বা ভাগ্য আর ওদের সনান্তদের জন্য ঐগুলা শুধু অধিকারই না বরং ওগুলো হচ্ছে চুম্বক যা তাদের অধিকাংশ অপদার্থ সন্তানদের পিছে আঠার মত লেগে থাকে। আমার ভালো রেসাল্ট বা যোগ্যতা থাকলেও আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারব কিনা জানিনা। কিন্তু ওদের কিছুই লাগে না। ওরা টাকা দিয়েই সব কিনে নেয়। টাকা দিয়ে ওরা সার্টিফিকেট কেনে, টাকা দিয়েই কেনে মনুষ্যত্ব, টাকা দিয়েই ওরা পায় সুন্দরী বউ; অবদমিত করে মানবিক প্রেম। আর আমরা ঘুরপাক খাই দারিদ্রের দুষ্ট চক্রে। তবে কোথায় সেই অধিকারের সাম্যতা, আর কোথায় সেই মৌলিক অধিকার?

আপনারা ভাবছেন আমি অধিকারের জন্য আন্দোলন করব; না, মশাই আমি তা করব না। আমি আন্দোলন করব সেই সব বই-পুস্তক আর ধর্মীয় নীতিবাগীশদের বিরুদ্ধে যাতে সেখানে আসল সত্যটা লেখা হয়। রাষ্ঠ্রবিজ্ঞানের বইতে লেখা থাকবে – ‘সকল নাগরিক অধিকার শুধু ধনীদের জন্য, আর সর্বহারা শ্রেণী হতে শুরু করে বাকীরা সবাই তাদের বিলাসিতার সামগ্রী।’

আইনের বইতে লেখা থাকবে – ‘আইনের চোখে সমান অধিকার – দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা।’ আরো একটা কথা থাকবে – “আইনের শাসন বলতে কিছু নেই। আসল সত্য হলো জোড় যার মুল্লুক তার।”

অর্থনীতির বইতে লেখা থাকবে – “যারা গরীব তারা আজীবন গরীব থাকবে কারণ তাদের শোষন না করলে কেউ আঙুল ফুলে কলা গাছ হতে পারবে না।”

গণতন্ত্রের অধ্যায়ে আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গা থাকবে না; থাকবে ধনিক শ্রেণীদের দ্বারা সরকার পরিবর্তনের রূপরেখা। কখনো গনতন্ত্রের নামে আওড়ানো হবে না জনগণের শাসনব্যবস্থার বুলি বরং সত্য কথা বলা হবে; বলা হবে – “জনগনকে শোষণ করার জন্য জনগণ কর্তৃক বাছাইকৃত শাসন ব্যবস্থায় হচ্ছে গনতন্ত্র।”

ধর্ম বইতে লেখা থাকবে না সাম্যের কথা বা ধর্ম বই অপকটে স্বীকার করে বলবে – “আমরাই পূঁজিবাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।”

আমি শোষিত হতে রাজি। পূঁজিবাদের কাছে ধর্ষিত হতে আমার কোনো আপত্তি থাকবে না শুধু পাঠ্যপুস্তকে উপরের কথাগুলো পরিবর্তন করে দাও। ”

২ বছর আগে যখন কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারি নাই , তখন বারবার এই কথাগুলা ভাবছি। কিছুদিন পর আবার এই একই যুদ্ধে অনেকে পরাজিত হবে আর আমার মত দীর্ঘশ্বাস ছাড়বে। কিন্তু কিছুই কি হবে না?

আমি আশাবাদী মানুষ। আমি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতেই ভালোবাসি। তবে এক্ষেত্রে একটা কথা হচ্ছে – “সকলেই একটা সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে কিন্তু বেশিরভাগই চায় সেটা অন্যকেউ সুন্দর করে দিবে; আর অল্প সংখ্যক সেই সুন্দর করার দায়িত্বে নেমে পড়ে।”

আমি সেই সংখ্যালঘুদের দলেই থাকতে চাই। অবশেষে মার্ক্সের মত বলতে চাই – “এ যাবত কালে দার্শনিকরা শুধু পৃথিবীকে ব্যাখ্যাই করে গেছেন কিন্তু আমি চাই এটাকে পরিবর্তীত করতে।”

0 Shares

শোভন এর ব্লগ   ১৭ বার পঠিত