শান্তনু আদিব

থাবা মরার পরে বেশ দ্রুত, খুনিদের বেশ তোরজোড় করেই ধরা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে থাবার বাসায় গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলেন। কারন তখন গণজাগরণ মঞ্চের রমরমা অবস্থা, আমাদের সবার স্বপ্নে তখন যুদ্ধাপরাধীর বিচার। আওয়ামীলীগের স্বপ্নে ভোট ব্যাংক সফলতা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্মূলের সুবর্ণ সুযোগ। হ্যাঁ, গণজাগরণ ছিল শুধু আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্মূলের একটা প্ল্যাটফর্ম আর কিছুই না। এতে সারা দুনিয়ার মানুষ, আমরা দেশের মানুষ মনে করলাম আন্দোলন করে রাজাকারদের শাস্তির ব্যাবস্থা আমরা  করেছি। আমাদের ভোঁদাই জনগণের সে কি উল্লাস

 

আওয়ামী প্রতিষ্ঠিত তথাকথিত সেকুলারের দল থাবা খুনের পর থেকেই প্রচার করার চেষ্টা চালাতে লাগল, থাবা আসলে নাস্তিক না। কারণ তখনো থাবার তখন দরকার আছে। যেকোন আন্দোলনে একজন একজন শহীদের মূল্য অপরিসীম। বিচার প্রক্রিয়া যেই সিল্কি স্মুথ পথে গড়াতে শুরু করল, একটাকে ঝুলিয়ে দেয়া হল তারপরে গজার তেমন দরকার নেই। পুলিশের পেটাও খেয়েছিল তারা একবার, যেই গজায় কিনা মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসে একাত্মতা প্রকাশ করে গিয়েছিলেন।

 

ততদিনে গজার সাথে থাবার প্রয়োজনও ফুরিয়েছে। কিছুদিন পরে খুনিদের কয়েকজনকে ছেড়ে দেয়া হল। একজনকে জামিন দেয়া হয়েছে নাকি তার পরীক্ষা না কি আছে সেজন্য।

 

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্মূল প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়েই শেখ হাসিনা দিলেন আরও কয়েকটি শক্ত চাল। যেমন মদিনা সনদে দেশ চালানোর ঘোষণা, রেলের ৩০ কোটি টাকার জমি হাটহাজারিকে বরাদ্দ, ওলামা লীগ তৈরী যাদের সাথে জামাত হেফাজতিদের আসলে কোন তফাত নেই, ৫৭ ধারা পরিমার্জন ইত্যাদি। লাভের মধ্যে লাভ তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরাট একটা অংশ ঢুকে গেল নৌকার ছই এর তলে।

 

বাংলাদেশে আসলে নাস্তিক আছে কয়জন, প্রকৃত সেকুলার আছে কয়জন, ভোট ব্যাংকে তাদের কন্ট্রিবিউশান কতটুকু সেটা হাসিনা সরকার খুব ভালো করেই গুনে রেখেছে। আমাদের সেখানে যে কোন মূল্য নেই সেটা যত তাড়াতাড়ি আমরা বুঝতে পারব ততই ভালো হবে আমাদের জন্য।   

 

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ক্ষুদ্র একটা অংশ কিন্তু আমরাও। স্মল বাট লাউড। যাদের সহজে কেনা যায়না, যায়না মুখ বন্ধ করা। তাই কাটা দিয়ে কাটা তোলার মত করে একে একে উপরে ফেলছে আমাদের। আমার চোখে নাস্তিক হত্যা সরকারের পরোক্ষ ভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন ছাড়া আর কিছুই না।

0 Shares