Avatar

এক:

সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের পরিচালক আবদুলমাজেদ আল-ওমারি সাম্প্রতিক সময়ে জানিয়েছেন তারা বিশ্বব্যাপী ব্লাসফেমি আইনের প্রয়োগ দেখতে চান এবং এই আইন বিশ্বময় কার্যকর করতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে সহায়তাও চান। মজার ব্যাপার হচ্ছে ব্লাসফেমি আইন আমাদের দেশের মানুষের কাছে অন্ধের হাতি দর্শনের মতন, জামাতের নেতা নিজামী জাতীয় সংসদে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা এই আইন দাড়ি কমা সহ তুলে ধরে। এ দেশের মানুষের ধর্ম সম্পর্কে একটা আবেগের জায়গা থাকার কারণে অনেকেই ব্লাসফেমি আইন সম্পর্কে কোন কিছু না জেনেই নিজেদের সমর্থন দিয়ে বসেন। তাই কিছুটা জানা-বোঝা থাকা দরকার এ সম্পর্কে।

এইতো এই বছরের মার্চ মাসের উনিশ তারিখ আফগানিস্তানে এক মহিলাকে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে, পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। মহিলাটির বিরুদ্ধে কথিত অপরাধ ছিলো মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন পোড়ানো। পরে অবশ্য দেখা যায় কোরআন পড়ানোর মত কোন ঘটনাই সেখানে ঘটেনি। এই খবরটি নিশ্চয়ই আমাদের সবার নজরেই পড়েছে। আফগানিস্তানে এরকম অহরহই হয়, আমরা খানিকটা আহত হলেও ব্যাপারটা নিয়ে তেমন একটা আর আগাইনি, যাচাই করিনি। এমনিতেই দেশের অবস্থা খারাপ, এসব নিয়ে কথা বললে বিপদ হতে পারে। তাছাড়া আমাদের মাথা ঘামানোর মত অনেক অনেক ব্যাপার আছে। ক্রিকেট, হ্যাপি-রুবেল, ভারত, পাকিস্তান, রাজাকার, নির্বাচন… ইস্যুর অভাব নাই। কোথাকার কোন আফগান মহিলা কি না কি করেছে এসব নিয়ে এত মাথা ব্যাথা আমাদের নাই। 

আমার খানিক মাথা ব্যাথা করছে, 

সত্যি করে বললে মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে ব্যাথায়। 

কেন এত কিছু হচ্ছে সেটার একটা ব্যাখ্যা সম্ভবত আমি দিতে পারবো।

কোরান পোড়ানোর অভিযোগ এনে কাবুলে মারমুখী  জনতা ফারকুন্দা নামে ২৭ বছরের যে যুবতীকে পিটিয়ে মেরে ফেলে সেই মহিলা আদতে কোরআন পোড়াননি এমনকি নাস্তিকও ছিলেন না বরং ধর্মীয় বিষয়ে বৈদগ্ধের অধিকারী ছিলেন বলেই জানা যায়। তাহলে আসল ঘটনাটা জানাও দরকার। সত্যি খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এলো সেই লালশালু। এলাকার মসজিদের এক মোল্লার বিরাট ব্যাবসা পানি-পড়া আর তাবিজ-কবজের এবং সেই মোল্লা এলাকার গরীব মহিলাদের এসব জিনিস কিনে নিতে বাধ্য করে। ফারকুন্দা সেই মোল্লার মুখোমুখি হয়ে তার এইসব কাজকর্মের প্রতিবাদ জানায়। তখন সেই মোল্লা এবং সাথের সমর্থক গোষ্ঠী ক্ষেপে ওঠে। ফারকুন্দাকে কাবুলের সবচেয়ে বিখ্যাত মসজিদের বাইরে একটি বাড়ির ছাদে মারধর করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, তাঁকে চাপা দিয়ে যায় একটি গাড়ি। প্রায় আধমরা অবস্থায় তাঁকে জ্বালিয়ে দেয় উন্মত্ত জনতা। তারপর তাঁকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় কাবুল নদীতে।

আচ্ছা আমাদের দেশের কোন ঘটনার সাথে মিল পাচ্ছেন; 

এরকম একটা, না অজস্র ঘটনার মিল পাচ্ছেন?

আসুন দেখি তার মৃত্যুর পরবর্তী অধ্যায়।

মেয়েটির বাবা এরপর সংবাদ মাধ্যমে জানায় “ফারকুন্দা ছিলেন একজন বিশ্বাসী মুসলিমা এবং একটি স্থানীয় কলেজের ‘ইসলামিক স্টাডি’- বিষয়ের জনপ্রিয় শিক্ষক। সে নিয়মিত নামাজ পড়তো এবং এতটুকু বলতে পারি হৃদয় দিয়ে কোরআন পড়তো।” ফারকুন্দার মৃত্যুর পর আফগানের হাজার মানুষকে জড় হয় কাবুলের শাহ ধোসামসেরা মসজিদের সামনে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার বিচার ও সাজা চায় দেশটির জনতা। আফগানের অনেক ধর্মীয় নেতাই এই হত্যাকান্ডে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। 

আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, কেন বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা করছি যে “সাধারণ মুসলমানেরা এই হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে”। একটা কারণ আছে, সেটার নাম মোল্লাতন্ত্র তালেবানতন্ত্র। আফগানিস্তানে তালেবানেরা বরাবরই ব্লাসফেমির মত আইন প্রয়োগ করতে চায়। তালেবান পর্যন্ত চাহিদাটা ঠিকই আছে, ওরা এরকম চিন্তা করবে সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু আমাদের লক্ষ রাখতে হবে এই হত্যাকাণ্ডটা সম্পন্ন করেছে একদল উন্মত্ত সাধারণ জনতা। তারা একবারের জন্য ভেবেও দেখেনি আসলেই কি কোন কোরআন পোড়ানো হয়েছে  কি না। “হুজুর বলেছেন; এবং হুজুর কখনো ভুল বলেন না”- এর বাইরে অন্য কোন কিছু চিন্তা করার প্রয়োজন পড়ে নি সেই উন্মত্ত জনতার। 

আমাদের দেশেও এমন ঘটনা অহরহ ঘটে। ব্লাসফেমি আইনের জন্য অনেককেই মাতামাতি করতে শোনা যায়। অথচ ব্লাসফেমির মত আইন যে মোল্লাতন্ত্র আর তালেবানতন্ত্রের সমস্যার বিরুদ্ধে আঙ্গুল তোলা সাধারণ মানুষকে হত্যা করার, সংখ্যালঘুদের এক হাত দেখে নেয়ার লাইসেন্স সেটা আমরা বুঝতেই পারি না।

কারণ একটাই-

“হুজুর বলেছেন; এবং হুজুর কখনো ভুল বলেন না”

দুইঃ

আসুন ব্লাসফেমি নিয়ে কিঞ্চিত বিস্তারিত আলোচনা করি। 

ব্লাসফেমি শব্দের অর্থ’- ‘ধর্ম নিন্দা’ বা ‘ঈশ্বর নিন্দা’

ব্লাসফেমির উদ্ভব হয়েছিল প্রাচীন ও মধ্যযুগে। এখন থেকে এক হাজার ৪৫০ বছর আগে রোমের সামন্ত রাজারা প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী খ্রিষ্টান ক্যাথলিক চার্চের যাজকদের সহায়তায় জনগণের ওপর ধর্মের নামে অত্যাচারের হাতিয়ার হিসেবে ‘ব্লাসফেমি’র ব্যবহার শুরু করেছিল। সে সময় রাজা বাদশাদের বলা হত ঈশ্বরের প্রতিনিধি, তাই রাজাদের বিরুদ্ধে কিছু বলা মানে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বলা,এইভাবে রাজার অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগনের আন্দোলন যাতে গড়ে না উঠতে পারে সেই জন্য ওই সময় ব্লাসফেমি নামের এই কালো আইন তৈরী হয়েছিল। আধুনিক যুগে এসে যখন চার্চ ও রাষ্ট্রকে আলাদা করা হয়, তখন থেকে এ আইনের বিবর্তন ঘটে।

তবে ইসলামের ইতিহাসে ‘ব্লাসফেমি’ আইনের দেখা পাওয়া যায় না। পাকিস্তানের প্রখ্যাত ইসলামিক পণ্ডিত জাভেদ আহমদ ঘাদামি বলেছেন, ইসলামের কোথাও ব্লাসফেমি আইনের সমর্থনে কিছু বলা নেই। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন বেতিক্রম ছাড়াত বর্তমান পৃথিবীতে একমাত্র পাকিস্তানেই ব্লাসফেমি আইনের সম্পূর্ণ প্রয়োগ দেখতে পাওয়া যায়। পাকিস্তানের স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়াউল হক ধর্মের বাতাবরনে স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখার স্বার্থে মধ্যযুগের এই বর্বর কালো আইনটিকে ধার করেছিলো, পাকিস্তানের দণ্ডবিধিতে ১৯৮২ সালে ২৯৫(খ) এবং ১৯৮৬ সালে ২৯৫(গ) ধারা সংযুক্ত করা হয়েছিলো।

এখনকার প্রেক্ষাপটে ব্লাসফেমি আইন সংখ্যালঘূদের এক হাত দেখে নেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। পাকিস্তানের সংখ্যালঘু হিন্দু এবং খৃষ্টানদের ওপর নির্যাতনের প্রত্যক্ষ হাতিয়ার এই ব্লাসফেমি আইন। আর এই আইনের সাথে যেহেতু ধর্মের দোহাইকে জুড়ে দেয়া যায় ফলে সাধারণ জনগণ এই আইনের বিরুদ্ধে তেমন একটা সোচ্চার হতে পারে না। ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানে ব্লাসফেমি আইনের কিছু প্রয়োগ দেখুন যাতে সবার কাছে ব্লাসফেমি আইনের স্বরূপটি উন্মোচন হবে।

১) ১৯৯১ সালের ১০ ডিসেম্বার পাঞ্জাবে পানির কল মেরামত সংক্রান্ত বিষয়ে দুই প্রতিবেশী সাজ্জাদ হোসেন ও গুল মাশীহের ঝগড়া হয়। তাদের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন মুসলান এবং গুল মাশীহ খৃষ্টান ধর্মের অনুসারী। ঝগড়ার পরে মিটমাট হয়, এমনকি দুজন শেষ পর্যন্ত করমর্দন করে স্থান ত্যাগ করেন। কিন্তু স্থানীয় ইমামের প্ররোচনায় সাজ্জাদ হোসেন গুল মাশীহের বিরুদ্ধে ব্লাসফেমি আইনে মামলা করে। তিনি দাবী করেন গুল মাশীহ ঝগড়ার সময় মহানবীকে কটূক্তি করে মন্তব্য করেছে। এই মামলায় তিনজন সাক্ষী ছিলো একজন ফরিয়াদি সাজ্জাদ হোসেন নিজে অপর দুইজন তাঁর প্রতিবেশী।

দুই প্রতিবেশীর একজন আদালতকে বলেন; “আমার উপস্থিতিতে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি”

আরেকজন বলেন; “গুল মাশীহ নবী সম্পর্কে কোন কটূক্তি করেনি”

এই অবস্থায় শুধু অভিযোগকারীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত বলেন; “সাজ্জাদ হোসেন ২১ বছরের যুবক, তার মুখে দাঁড়ি আছে এবং তাকে প্রকৃত মুসলমানের মত দেখায়। ফলে তাকে বিশ্বাস না করার কোন কারণ দেখি না।”

১৯৯২ সালের ২ নভেম্বর পাঞ্জাবের সারগোদা সেশন কোর্টে মাত্র একজন সাক্ষীর সাক্ষে (যে কিনা ফরিয়াদি নিজে) ৪২ বছর বয়স্ক গুল মাশীহকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে আদালত।

২)  ১৯৯৩ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি লন্ড্রি কর্মচারী খৃষ্টান ধর্মানুসারি আনোয়ারের সাথে তার মুসলিম বন্ধু মোহাম্মদ আলমের ঝগড়া হয়। দুজনই ধর্ম নিয়ে কটূক্তি ও বাদানুবাদে লিপ্ত হয়। ঘটনা শুনে মৌলবাদী সংগঠন “আঞ্জুমান সিপাহি সাহাবা”র নেতা হাজী মোহাম্মদ তৈয়ব ব্লাসফেমি আইনে মামলা করে। আদালতে আনোয়ার তার অপরাধ স্বীকার করে নেয়, কিন্তু সাথে সাথে এও জানায় মোহাম্মদ আলমও তার ধর্মের যীশু ও মেরীকে উদ্দেশ্য করে অনেক অশ্লীল কথা বলেছে। মুলত খৃষ্ট ধর্মকে গালিগালাজ করার পরেই আনোয়ার ইসলাম সম্পর্কে কটূক্তি করে। আনোয়ার; মোহাম্মদ আলমেরও বিচার দাবী করে।

আদালত তাকে জানায়; “ব্লাসফেমি আইনে শুধু মহানবীকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তিকে অপরাধ হিসেবে গন্য করা হয়। কিন্তু অন্য ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা কিংবা অন্য ধর্মের ঈশ্বর সম্পর্কে কটূক্তি অপরাধ হিসেবে গন্য করা হয় না।”

৩)  ১৯৯৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পাঞ্জাবের এক কোর্টে ব্লাসফেমি আইনে বিকৃত মস্তিষ্কের আরশাদ জাভেদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে আদালত। রায় শুনে সে আদালত জুড়ে নাচতে শুরু করে।

ঘটনা হচ্ছে কয়েক মাস আগে সালমান রুশদি লিখিত স্যাটানিক ভার্সেস বইয়ের বিরোধী ছাত্ররা মিছিল বের করে। সেই মিছিলের সামনে এসে জাভেদ নাচতে থাকে এবং দাবী করে সালমান যা লিখেছে ঠিক লিখেছে। ছাত্ররা তাকে মেরে থানায় সোপর্দ করে। দীর্ঘদিন আটক অবস্থায় তার চিকিৎসা হয় মানসিক হাসপাতালে। সরকার পক্ষের ডাক্তারও তাকে পরীক্ষা করে পাগল ঘোষণা করে।

কিন্তু আদালত বলে; “ব্লাসফেমি আইনের কোথাও লেখা নেই যে একজন লোক পাগল হলে সে ধর্ম অবমাননা করতে পারবে”

৪) সাজা ভোগ করে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও রেহাই মেলেনা। ২০১২ সালে উত্তর পাঞ্জাবে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কুরআনের পাতা রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলেছে এই অভিযোগে গ্রেফতার হলে শতশত উগ্র জনতা পুলিশি হেফাজত থেকে তাকে কেড়ে এনে পিটিয়ে মেরে ফেলে। মেরে ফেলেই ক্ষ্যান্ত হয়নি তার মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলে তারা।

তিন:

লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স বিভাগের প্রোফেসর ইজাজ আকরামের ভাষ্যমতে,”বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় এইসব মানুষ প্রকৃতই কি ঘটেছে সেটা না জেনে বা সঠিক ঘটনা না শুনেই কারো উস্কানিতে এরকম আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এই ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। মব সাইকোলজি, এখানে একজন কারো উস্কানিতেই উত্তেজিত হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, সেখানে নিজের বিচার বিবেচনা কেউ খাটানোর কথা চিন্তাও করে না।”

একজন মানুষের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনলেই তাকে যাচাই না করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলাটা আমাদের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আমাদের দেশের এক শ্রেণীর মানুষও স্বাধীনতার পর থেকেই ব্লাসফেমি আইন চালু করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা নিজামী পকিস্তান পার্লামেন্ট থেকে দাড়ি-কমা সহ আইনটি সংসদে উথাপন করে। হেফাজতে ইসলামের তের দফার একটি ছিলো ব্লাসফেমি আইনের প্রত্যাবর্তন। 

সম্ভবত ব্লাসফেমি আইন আপাতত দেশে আসার হয়ত কোন সম্ভাবনা নেই কিন্তু আমাদের মানুষ ব্লাসফেমি আইন চায় না সে কথা বললেও নিস্তার নেই। সবকিছু জেনে বুঝে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না সেই কথা বললেও আপনার মাথায় ফতোয়া জুড়বে। কথা বললেই বিপদ, না বললেও বিপদ। 

আপনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিকার হতে পারেন এমন একটি আক্রমনের যেটা কল্পনাও করতে পারছেন না। সঠিক ঘটনা না জেনে শুধু উস্কানিতে এসব নৃশংস ঘটনা বন্ধ  হবে না ততদিন যতদিন আপনি-আমি-আমরা সবাই একত্রে আওয়াজ না তুলতে পারছি। কোন কিছুর সাথে ধর্মের দোহাইকে জুড়ে দেয়া হলেই আমরা ঘরের দরজাটা বন্ধ করে দেই, বিপদ ডাকতে চাই না। দরোজা বন্ধ করে নিষ্ক্রিয় থাকার অধিকার আপনার আছে। তবে আপনার কিংবা আমার নিষ্ক্রিয়তা যখন অন্য কারো জীবন কেড়ে নেয় তখন তার দায় কিন্তু আপনি কিংবা আমি এড়াতে পারি না। 

সুত্রঃ

১) উইকিপিডিয়া

২) আল জাজিরা রিপোর্ট

৩) গলার কাঁটা ব্লাসফেমি আইনঃ প্রেক্ষিত পাকিস্থান; ডাঃ আতিক

৪) ব্লাসফেমি আইন সভ্যতা বিরোধী; খালেকুজ্জামান

৫) dailymail.co.uk/news/article-3008987/Afghan-woman-beaten-death-streets-murdered-dared-speak-against-superstitious-mullah-NOT-burned-Koran.html

৬) bbc.com/news/world-asia-32056593

৭) washingtonpost .com/news/morning-mix/wp/2015/03/23/afghan-woman-beaten-to-death-for-a-crime-she-didnt-commit-becomes-a-rallying-point-for-activists/

৮) abpananda.abplive.in/international/2015/03/23/article535483.ece/Young-lady-beaten-to-death-in-afghanistan-protestors-demand-for-justice.

৯) jugantor.com/ten-horizon/2015/03/22/238409

0 Shares

আরিফ রহমান এর ব্লগ   ৪৫ বার পঠিত