নবযুগ সম্পাদক

এন,সি নীল ওরফে নীলয় নীলকে জবাই করে হত্যা!

 

আবারও ইসলামি জঙ্গীদের হাতে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশী ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট নীলয় নীল। আজ শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও থানার গোড়ান এলাকায় নীলয় নিলের ভাড়া নেয়া ১৬৭, উত্তর গোড়ান-এর বাসায় ঢুকে ইসলামি জঙ্গীরা তাকে জবাই করে হত্যা করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নীলয় নীল  নবযুগ ব্লগে লেখালেখি করতেন।

 

নবযুগ ব্লগ কর্তৃপক্ষ নীলয় নীলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে। পাশাপাশি ইসলামি জঙ্গীদের চারণক্ষেত্র বাংলাদেশ সরকারের ব্যর্থতার জন্য নিন্দা ও ঘৃণা জানাচ্ছে। ইসলামি জঙ্গীদের হাতে একের পর এক ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট খুন হলেও সরকার তাদের দমনের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নেয়াতে ব্লগার খুনের মিছিল লম্বাই হচ্ছে।

ব্লগার বাবু হত্যাকাণ্ডের পর তিনি তাঁর ফেসবুকে যা লিখেছিলেন-

“আমাকে দুজন মানুষ অনুসরণ করেছে গত পরশু। ‘অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার’ প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে যোগদান শেষে আমার গন্তব্যে আসার পথে এই অনুসরণটা করা হয়। প্রথমে পাবলিক বাসে চড়ে একটা নির্ধারিত স্থানে আসলে তারাও আমার সাথে একই বাসে আসে। এরপর আমি লেগুনায় উঠে আমার গন্তব্যস্থলে যাওয়া শুরু করলে তাদের মধ্যে একজন আমার সাথে লেগুনায় উঠে। লেগুনায় বসে আমার মনে পড়ে বাসে তো এই ব্যক্তিই ছিলো কিন্তু তারা তো দুইজন ছিল। মনে মনে ভাবি হতেই পারে, একজনের গন্তব্য অন্যদিকে তাই সে চলে গেছে।

এ পর্যন্ত ব্যপার স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে লেগুনায় বসে সেই যুবক ক্রমাগত মোবাইলে টেক্সট করছিল যা দেখে আমার সন্দেহ হয়। আমি আমার নির্ধারিত গন্তব্যস্থলের আগেই নেমে গেলে আমার সাথে সেই তরুণও নেমে পড়ে। আমি বেশ ভয় পেয়ে সেখানের একটি অপরিচিত গলিতে ঢুকে যাই। পরে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি ঐ তরুণের সাথে বাসে থাকা আরেক তরুণ এসে যোগ দিয়েছে এবং তারা আমাকে আর অনুসরণ না করে গলির মুখেই দাড়িয়ে আছে। তখন থেকে আমি নিশ্চিত হলাম যে আমাকে অনুসরণ করা হচ্ছে কারণ তাদের দুজনের গন্তব্য একই জায়গায় হলেও তারা ভিন্নভাবে এসেছিলো এবং আমাকে অনুসরণ করেছিলো। আমি গলির আরও অনেক ভিতরে যেয়ে রিক্সা নিয়ে হুড ফেলে আমার গন্তব্যস্থলে যাই এবং পরে কাছের এক বন্ধুর সহযোগিতায় আপাত নিরাপদেই পৌছাই।

এই ঘটনায় জিডি করতে যেয়ে আরও উদ্ভট পরিস্থিতির সম্মুখীন হই। প্রথমেই এক পুলিশ অফিসার ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছিলো যে এই ধরণের জিডি পুলিশ নিতে চায় না, কারণ ব্যক্তির নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যাপারে যে কর্মকর্তা জিডি গ্রহণ করবে তার একাউন্টেবেলিটি থাকবে সেই ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। আর যদি ঐ ব্যক্তির কোনো সমস্যা হয়, সেইক্ষেত্রে ঐ পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার জন্য চাকুরী পর্যন্ত চলে যেতে পারে। থানায় জিডি করতে ঘুরেও একই চিত্র দেখলাম, অনুসরণকালে অনেকগুলো থানা অতিক্রম করার জন্য গতকাল ঘটনাস্থলের আওতায় থাকা একটি থানায় গেলে তারা জিডি নিলো না, তারা বললো আমাদের থানার অধীনে না, এটা অমুক থানার অধীনে পড়েছে ওখানে যেয়ে যোগাযোগ করুন, আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশ ছেড়ে চলে যান”!

নবযুগ ব্লগ কর্তৃপক্ষ নীলয় নীলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে। পাশাপাশি ইসলামি জঙ্গীদের চারণক্ষেত্র বাংলাদেশ সরকারের ব্যর্থতার জন্য নিন্দা ও ঘৃণা জানাচ্ছে। ইসলামি জঙ্গীদের হাতে একের পর এক ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট খুন হলেও সরকার তাদের দমনের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নেয়াতে ব্লগার খুনের মিছিল লম্বাই হচ্ছে।

অবিলম্বে এইসব হত্যাকাণ্ড বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের নিকট দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি তথাকথিত আইসিটি এক্টের ৫৭ ধারা বাতিলসহ মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

0 Shares