শ্রীশুভ্র

 

৯/১১, একটি অভিশাপ। একটি মিথ্যাচার। একটি বিশ্বাসঘাতকতা। অভিশাপ বিশ্বরাজনীতির জন্যে। অভিশাপ মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের জীবনে। অভিশাপ বিশ্বমানবতার দিগন্তে। মিথ্যাচার আবিশ্ব মানুষের সাথে। বিশ্বাসঘাতকতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সাথে। এই ঘটনার পর প্রায় দেড়যুগের বেশি সময় অতিক্রান্ত। আবিশ্ব মানুষ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে ঘটনার যথার্থ্যতা নিয়েই।

ঠিক কী ঘটেছিল সেইদিন। কেন ঘটেছিল। এবং কারা ঘটিয়েছিল। প্রশ্ন এইটিও, আবিশ্ব মানুষকে এতবড়ো ধোঁকাই বা কী করে দেওয়া সম্ভব হলো?  অনেকেই এই একটি কারণেই প্রচারিত মিথ্যাচারকেই সত্য বলে বিশ্বাস করতে পছন্দ করেন। কিন্তু যাঁরা বিজ্ঞানের সাধক, যাঁরা দক্ষ প্রযুক্তিবিদ, যাঁরা যুক্তিবাদী তারা কিন্তু অনেক আগে থেকেই সমগ্র ঘটনাটিকে নানান দিক থেকে বিচার বিশ্লেষণ করে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে দিয়েছিলেন। আর সেই সব যুক্তিগ্রাহ্য বিজ্ঞানসম্মত পর্যবেক্ষণে উঠে আসছে একের পর এক চমকে ওঠার মতো সব তথ্য ও তত্ত্ব। রাষ্ট্রের প্রতি অন্ধবিশ্বাসে আচ্ছন্ন যারা, তারা যে সবসময় যুক্তির পথে হাঁটতে রাজি হবেন তাও নয়। হোনও না। আর সেইটাকেই মূলধন করে মিডিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রশক্তি তার ইচ্ছা মতো সত্যকে বিকৃত করে ক্রমাগত প্রচার চালিয়ে যেতে থাকে। তারা বিশ্বাস করে এই ক্রমাগত প্রচারের ঢক্কা নিনাদেই মিথ্যাকে একদিন সত্য করে তোলা যায়। তাদের সমস্ত কার্যকলাপ এই এক লক্ষ্যেই অবিচল থেকে পরিচালিত হতে থাকে।

কিন্তু কী করবে সাধারণ মানুষ? মিডিয়া প্রচারিত অসত্যকেই গিলতে থাকবে অম্লান বদনে? না কী যাঁরা যুক্তির পথে বিজ্ঞানের পথে, একের পর এক প্রশ্ন তুলছেন তাঁদের তোলা সেই সব প্রশ্নগুলিকে যুক্তির আলোতে বিচার বিবেচনা করতে শুরু করবে নতুন করে? অবশ্যই সেটা সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত মৌলিক অধিকারেরই বিষয়। কে কোন পথ অনুসরণ করবেন। কেন করবেন। কিন্তু যদি একবার দেখেই নেওয়া যায়, ঠিক কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? ঠিক কী কী তথ্যগুলি উঠে এসেছে তাঁদের অন্তর্তদন্তে? বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির ণত্ব ষত্ব অনুযায়ীই কোন তথ্যগুলি মিথ্যা আর কোনগুলিই বা সত্য? দেখে নেওয়া যাক একে একে।

 

এক:

বিজ্ঞানীরা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা একবাক্যেই যে বিষয়টি বিজ্ঞানসম্মত ভাবেই নিশ্চিত করেছেন, সেটি হলো টুইন টাওয়ারের কোনটিই এরোপ্লেনের আঘাতে ওইরকম দর্শনীয়ভাবে ভেঙ্গে পড়েনি। তাঁরা বলছেন এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। কেন সম্ভব নয়? সম্ভব নয় এই কারণে যে, যে তাপমাত্রায় স্টীলের স্ট্রাকচার গলে যায়, অর্থাৎ লোহার গলনাঙ্ক, যা কীনা ২৭০০ ডিগ্রী ফারেনহাইটের বেশি, সেই তাপমাত্রায় পৌঁছানো বিমানের জ্বালানী তেল থেকে লাগা আগুনের পক্ষে সম্ভবই নয়। সাধারণত ভাবে যদি ধরেও নেওয়া যায়, যে বিমানের আঘাতজনিত বিস্ফোরণের কারণেই টুইন টাওয়ারে আগুন লেগেছিল, তাহলেও সেই ছড়িয়ে পড়া আগুন থেকে যে তাপমাত্রার উদ্ভব হওয়ার কথা তা কখনোই ৫০০ থেকে ১৫০০ ডিগ্রী ফারেনহাইটের বেশি হতেই পারে না। আর সেই তাপমাত্রায় টুইন টাওয়ারের স্টীলের স্ট্রাকচার ঐভাবে গলে যেতে পারে না। কখনোই।

দুই:

প্রযুক্তি বিশারদরা একথাও বলছেন যে, বিমানের জ্বালানী তেল থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনের তাপমাত্রা যতই হোক না কেন, তাতে নব্বই হাজার টনের কংক্রিট ধুলোয় পরিণত হয়ে যেতেও পারে না। টুইন টাওয়ারের ভগ্নাবশেষ থেকে সেই পরিমাণ ভেঙ্গে পড়া কংক্রিটও উদ্ধার হয় নি। তাহলে এই নব্বই হাজার টন কংক্রিট গেল কোথায়? এই কংক্রিটকেই টিভির পর্দায় ধুলো হয়ে ধোঁয়ায় ঢেকে যেতে দেখা গিয়েছে। নব্বই হাজার টন কংক্রিটকে এইভাবে অত অল্প সময়ের মধ্যে ধুলোয় পরিণত করা কোন আগুনের পক্ষেই সম্ভব নয়। এটাই বিজ্ঞান।

তিন:

বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা এও বলছেন, বেশ যদি ধরেও নেওয়া গেল, বিমানের আঘাতজনিত বিস্ফোরণেই টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়েছে, তবুও যেভাবে টাওয়ারগুলিকে ধ্বসে যেতে দেখা গিয়েছে, সেটা কখনোই বাস্তবে ঘটানো সম্ভবই নয়। অর্থাৎ টাওয়ারগুলি যেভাবে বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ফ্রি-ফল’ ভাবে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে মাটিতে মিশে গিয়েছিল, সেটি কোন আগুন লাগার কারণে আদৌ ঘটা সম্ভব নয়। টাওয়ার গুলির যে যে উচ্চতায় তথাকথিত বিমান হানা হয়েছিল, সেইখান থেকে নির্দ্বিধায় টাওয়ারগুলি ভেঙ্গে পড়লেও তার নীচের অংশ অমন দর্শনীয় ভাবে ধুলিসাৎ হতেই পারে না। এবং সমস্ত টাওয়ার অমন ভাবে হাপিশও হওয়া সম্ভব নয়। এটা বিজ্ঞানের নিয়ম।

চার:

বিজ্ঞানীরা ও দক্ষ অভিজ্ঞ প্রযুক্তিবিদরা দ্ব্যর্থহীন ভাবেই এটা প্রমাণ করতে পেরেছেন যে, বিমানহানাজনিত আগুন লেগে টুইন টাওয়ার ধুলিসাৎ হয়নি আদৌ। তাঁরা দেখিয়েছেন বিশেষ ভাবে দূরনিয়ন্ত্রিত সিরিয়াল ডিমোলিশান ছাড়া এইভাবে অতবড়ো স্টিলস্ট্রাকচারের টাওয়ারকে ধুলিসাৎ করা সম্ভবই নয় কোনভাবে। তাঁরা বলতে চেয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে আগে থেকেই দিনে দিনে টাওয়ারগুলির বিশেষ বিশেষ অংশে বিশেষ একধরনের বিস্ফোরক না লাগিয়ে রাখলে, এইভাবে টাওয়ারগুলি ধ্বংস করা সম্ভবই নয়।

পাঁচ:

তাঁরা এও প্রমাণে সমর্থ্য হয়েছেন যে, ঘটনার পর গ্রাউণ্ড জিরোতে যে তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিল সেটা আগুন লাগার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থেকে অনেক অনেক বেশি। যে তাপমাত্রায় পৌঁছাতে গেলে একমাত্র পথ বিশেষ ধরনের প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করা। আর গ্রাউণ্ড জিরোতে সেই বিশেষ যে বিষ্ফোরক পদার্থের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পরিভাষায় তার নাম ‘ন্যানো থার্মাইট’। যে বিস্ফোরক খোলা বাজারে এমন কী চোরা বাজারেও কারুরই পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।

ছয়:

গ্রাউণ্ড জিরোতে কর্মরত দমকলবাহিনীর অনেকেই গলিত লাভার মতো পদার্থ দেখার অভিজ্ঞতার কাহিনী শুনিয়েছে পরবর্তীতে। বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের মতে ন্যানো থার্মাইটের বিস্ফোরণজনিত উচ্চতাপমাত্রায় যা প্রায় ৪০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি, লোহা ও স্টীলস্ট্রাকচার গলিয়ে এইরকম কাণ্ড ঘটানো সম্ভব।

সাত:

বিজ্ঞানীরা একথাও বলছেন, পারিপার্শ্বিক সাক্ষপ্রমাণ থেকে একথাও প্রমাণিত যে, ঘটনার সময়ে অনেকেই পরপর একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছিল। যদিও সেই শব্দের তীব্রতা অন্যান্য সাধারণ বিস্ফোরণের শব্দের তুলনায় কম ছিল। এর কারণ হিসাবে প্রযুক্তিবিদদের বক্তব্য সুনিয়ন্ত্রিত ন্যানো থার্মাইটের বিস্ফোরণে শব্দের তীব্রতা অনেক কমই থাকে।

আট:

ঘটনার ভিডিও ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, টাওয়ারগুলি পড়ার মুহূর্তে টাওয়ারে গা দিয়ে গলিত লোহার কণা ছিটিকিয়ে পড়তেও দেখা গিয়েছে, যেটা বিস্ফোরণ ছাড়া আগুন লেগে ঘটা অসম্ভব।

নয়:

দক্ষ প্রযুক্তিবিদদের মতে টুইন টাওয়ারের স্টিলস্ট্রাকচার এমন শক্তিশালীভাবেই গড়া ছিল যাতে তা বিমানের আঘাতও সহ্য করতে পারে। কারণ ওই উচ্চতায় নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ততম নগরে দূর্ঘটনা বশত কোন বিমানের আঘাত লাগার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই টুইনটাওয়ারের স্থপতিরা নকশা বানিয়েছিলেন।

দশ:

বিজ্ঞানীরা একথাও বলছেন, যদি টুইন টাওয়ারে কোন বিমান সরাসরি গিয়ে আঘাতও করতো তাহলে, বিজ্ঞানের নিয়ম অনুসারেই বিমানের সামনের অংশ আঘাতের প্রথম ধাক্কায় ধুলিসাৎ হয়ে যেত। বাকী অংশের কিছু টুকরো টুকরো হয়ে বাইরেই ছিটকিয়ে পড়তে। টাওয়ারে সেই অংশে তীব্র আঘাতজনিত ক্ষতচিহ্ন ছাড়া সমগ্র টাওয়ার অমনভাবে ধূলিস্মাৎ হতেই পারতো না। এটা প্রযুক্তিগতভাবেই অসম্ভব। হ্যাঁ টাওয়ারের সেই অংশে আগুন লাগলেও তার অভিঘাত এমন ভয়াবহ হয়তো না কোনভাবেই। অথচ আবিশ্ব মানুষকে কী দেখানো হলো? না বিমানদুটি মাখনের মধ্যে ছুরি চালানোর মতো করে টাওয়ারের ভিতর ঢুকে গেল। এবং দ্বিতীয় টাওয়ারের বেলায় সাইড থেকে দেখানো হলো কীভাবে বিমানের সামনের অংশ গোটা টাওয়ারকে এফোঁড় ওফোঁড় করে বেড়িয়ে গিয়ে বাইরে ছিটকীয়ে পড়লো আগুনের গোলার মতো। বিজ্ঞানীরা পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্র দিয়েই ব্যাখ্যা করে দেখাচ্ছেন এটা ঘটা একেবারেই অসম্ভব। অর্থাৎ যে ছবি সারা বিশ্বকে দেখানো হয়েছে, সেটা একেবারেই অবাস্তব। মিথ্যা। ফটোশপ করে ভিডিওগ্রাফি দিয়ে স্টুডিওতে বানানো।

এগারো:

অনেকেই হয়তো জানেন না সেই একইদিনে টুইন টাওয়ারে পাশেই ওয়ার্লড ট্রেড সেন্টারের সাতচল্লিশ তলার সাত নম্বর বিল্ডিংটিও, মাত্র সাত সেকেণ্ডে ধূলিস্মাৎ হয়ে যায়। বিকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছিল টুইন টাওয়ারের আগুন ছড়িয়ে পড়েই বিকাল নাগাদ ওই বিল্ডিংটিও ধ্বংস হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে যেটি সর্বৈব মিথ্যা। মাত্র সাত সেকেন্ডে সাতচল্লিশ তলার একটি স্টিলস্ট্রাকচারকে ধুলিসাৎ করার মতো ক্ষমতা কোন আগুনের পক্ষেই নাকী সম্ভব নয়। তাঁরা বলছেন, এই বিল্ডিংটিকেও আগের দুটির মতোই আগে থেকে বহুদিন ধরে ন্যানো থার্মাইট জাতীয় সর্বাধুনিক বিস্ফোরণে মুড়ে রাখা হয়েছিল। না হলে মাত্র সাত সেকেন্ডে বিল্ডিংটি অমনভাবে ছবির মতো ধুলিসাৎ হয়ে যেতে পারে না। আরও মজার কথা, সেদিনের বিবিসি’র সংবাদে এই বিল্ডিংটি ধুলিসাৎ হওয়ার খবর প্রচারিত হয়ে যায় মূল ঘটনা ঘটার মাত্র কুড়ি মিনিট আগেই! প্রচারিত সংবাদের ভিডিও ফুটেজে জ্বলজ্যান্ত সাতচল্লিশ তলার বিল্ডিংটিকে দিব্বি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় প্রচারিত সংবাদের সময়ে। ঠিক তার কুড়ি মিনিট বাদেই বিল্ডিংটিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

বারো:

সম্প্রতি অল্টারনেটিভ নিউজ নেটওয়ার্কের পঁচিশে জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় জনৈক প্রাক্তন সিআইএ এজেন্ট হাওয়ার্ড তাঁর মৃত্যুশয্যায় দেওয়া স্বীকারোক্তিতে জানান, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের এই সাতচল্লিশ তলার সাত নম্বর বিল্ডিংটিকে আগে থেকেই ন্যানো থার্মাইট দিয়ে তৈরি বিস্ফোরকে এমনভাবে মুড়ে রাখা হয়েছিল যাতে গোটা বিল্ডিংটি কয়েক সেকেন্ডেই ধুলিসাৎ হয়ে যায়। প্রসঙ্গত তিনি একথাও জানান যে তিনি নিজে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হয়েও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ বলেই বহুদিন তিনি সিআইএ’র হয়ে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর নিজের জবানীতেই দেখা যাক ঠিক কী বলেছিলেন তিনি,

“It was a classic controlled demolition with explosives. We used super-fine military grade nano-thermite composite materials as explosives. When the building came down, it was such a rush. Everything went exactly to plan. It was so smooth. Everybody was evacuated. Nobody was hurt in WTC 7. We were celebrating. We kept watching replays of the demolition, we had the whiskey and cigars out, and then all of a sudden the strangest thing happened. We all started to worry that it looked a bit too smooth. We watched the tape again and again and again and we started to get paranoid. It looked like a controlled demolition. We thought people are going to question this. And then we heard that people from the street were reporting that they heard the explosions during the afternoon.”

তিনি আরও বলেন,

“There were so many loose ends, so much evidence left behind. We thought the public would be all over it. We thought there would be a public uprising that the media couldn’t ignore. They’d be funding investigations and demanding to know why they were being lied to. We thought they’d find chemical composites in the area that would prove Building 7 was blown up. We thought there would be a revolution. It would go all the way to the top, to President Bush. He’d be dragged out of the White House. But none of that happened. Almost nobody questioned anything. The media shot down anyone who dared question anything they were told.

তেরো:

ওয়ার্লড ট্রেড সেন্টার থেকে নজর সরানো যাক এবার পেন্টাগনের দিকে। তথাকথিত বিমান হানার প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা ঠিক কী বলছেন? তাঁরা জানাচ্ছেন পেন্টাগনে যদি বিমান হানাও হয়ে থাকতো, তবে সেই বোয়িং ৭৫৭ বিমানটিকে মাটির কুড়ি ফুট ওপর দিয়ে ৪০০ নট গতিতে ন্যূনতম আধ মাইল উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে আঘাত হানতে হতো। বিশেষজ্ঞ বিমান চলাকরাই জানাচ্ছেন কোন বোয়িং ৭৫৭ বিমানের চালকের পক্ষেই সেটা কোনভাবেই করা সম্ভবপর নয়। বিশেষজ্ঞরা আরো জানিয়েছেন, পেন্টাগনে তথাকথিত বিমান হানার স্থানে যে ১৬ ফুট চওড়া গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল, সেটা কখনোই বোয়িং ৭৫৭ বিমানের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ সেই বিমানের দুই ডানা মিলিয়ে বিমানের প্রস্থই কম করে ১০০ ফুটের বেশি। সেক্ষত্রে বিমান হানা হলেও গোটা বিমানের পক্ষে মাত্র ১৬ ফুট চওড়া গর্তে ঢুকে যাওয়া সম্ভব নয় কিছুতেই। এবং গর্তের পাশের বিল্ডিঙের অংশগুলিও অমন অক্ষত থাকতে পারতো না। তারা এও জানাচ্ছেন তথাকথিত বিমান হানা হলে বিমানের অবশিষ্টাংশগুলি নিশ্চয় পাওয়া যেত। এবং সবচেয়ে বড়ো কথা পেন্টাগনের তোলা কোন ছবিতেই কোন বিমানকে আঘাত হানতে দেখাও যায় নি। বিশেষজ্ঞদের মতে পেন্টাগনের মতো সুরক্ষিত জায়গায় মিলিটারি সুরক্ষাবলয় ভেদ করে কোন মাছিও গলার উপায় নাই। সেখানে বিমান হানা হয়ে গেল, অথচ সুরক্ষায় থাকা নজরদারী বন্দোবস্ত চুপচাপ বসে থাকল এটা অবিশ্বাস্য। তারা জানাচ্ছেন পেন্টাগনকে ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা বলয়ে ঘিরে রাখা হয়। পেন্টাগনের চারিদিকে ৭০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে থাকে প্রথম ধাপ। পরের ধাপ ৫০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের আর সবার শেষে ৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের সুরক্ষার বলয়। ফলে এই সুরক্ষার বলয় ভেদ করার ক্ষমতা কোন বিমানের পক্ষেই সম্ভব নয়। যে মূহুর্তে কোন বিমান নির্দিষ্ট গতিপথ থেকে বেড়িয়ে বিনা অনুমতিতে এই সুরক্ষা বলয়ের ভিতরে ঢুকে পড়বে, সেই মুহুর্তেই একাধিক সামরিক বিমানঘাঁটি থেকে যুদ্ধ বিমান ধাওয়া করবে ঢুকে পড়া বিমানকে। এবং যুদ্ধ বিমানের পাইলটদের হাতে প্রয়োজনে বিনা অনুমতিতে ঢুকে পড়া বিমানকে উড়িয়ে দেওয়ার চুড়ান্ত ক্ষমতাও দেওয়া থাকে। এতটাই কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু কোথায় ছিল সেদিন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা? এছাড়াও রয়েছে স্বয়ংক্রিয় এন্টিএয়ারক্রাফ্ট মিসাইল সিস্টেম। সব কী ঘুমিয়ে পড়েছিল সেদিন? তাই বিশেষজ্ঞরাই বলছেন না কোন বিমানই পেন্টাগনে আঘাত হানেনি সেদিন। তাহলে ঠিক কী ঘটেছিল পেন্টাগন। তাঁদের মতে সমস্ত নিরাপত্তা সিস্টেমকে নিস্ক্রিয় করে রেখে যুদ্ধ বিমান থেকে ছোঁড়া মিসাইল হানাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল পেন্টাগন। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অভ্রংলিহ অহংকার।

চোদ্দো:

সবচেয়ে মজার একটি তথ্য দিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। যে কোন সাধারণ বুদ্ধির মানুষের পক্ষেই সেই তথ্যের মিথ্যাচার ধরে ফেলা সম্ভব। যে প্রলয়ঙ্করীকাণ্ডে টুইন টাওয়ারের স্টিল স্ট্রাকচার গলে শেষ হয়ে হয়ে গেল। নব্বই হাজার টনের কংক্রিট ধুলো হয়ে গেল, তারপর কীনা, গ্রাউন্ড জিরোর অদূরেই প্রায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হল, তথাকথিত হাইজ্যাকারদের এক লিডারের পাসপোর্ট!

 

শেষ কথা: 

৯/১১র পর কেটে গিয়েছে প্রায় ষোলটি বছর। এখনো যে প্রশ্নগুলির শেষ উত্তর পাওয়া যায়নি, একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক সেগুলির ওপরেই।

ক) টুইনটাওয়ার কী শুধুই ন্যানো থার্মাইটের বিশেষ বিস্ফোরকের মাধ্যমেই ধুলিসাৎ করা হয়েছিল? না কী দুটি টাওয়ারেই মিসাইল হামলাও হয়েছিল, যে মিসাইলের গতিপথেই নকল বিমানের ছবি লাগিয়ে ঢপ দেওয়া হয়েছিল বিশ্বকে।

খ) কেন সাতচল্লিশ তলার সাত নম্বর বিল্ডিংটিকে বিকালের দিকে উড়িয়ে দিতে হলো? এর একটি সম্ভাব্য উত্তর এই হতে পারে যে, চতুর্থ যে কাল্পনিক বিমান ছিনতাইয়ের কথা বলা হয়েছিল, সেই বিমানটি এই বিল্ডিংয়ে হানা দিয়েছে এমন একটি নকল ভিডিও বানিয়ে তুলতে সময়ের সামান্য দেরি হয়ে গিয়েছিল। যে সময়ের মধ্যে অন্যান্য মিডিয়ার ক্যামেরাও অকুস্থলের লাইভ টেলিকাস্ট করা শুরু করে দিয়েছিল। ফলে টুইন টাওয়ারের পরপরই যদি সাত নম্বর বিল্ডিংটিও ধ্বংস করে দিয়ে টিভিতে নকল বিমান হানার ছবি দেখানো হতো, তবে বিল্ডিং ধ্বংসের আসল ছবিও অন্য কোন মিডিয়ার ক্যামেরায় ধরা পড়ে যেত। এবং আসল ও নকল ছবির গল্প ফাঁস হয়ে যেতে পারতো। আবার যেহেতু গোটা বিল্ডিংয়েই ন্যানো থার্মাইট জাতীয় ভয়ঙ্কর বিষ্ফোরক রাখা ছিল, যা আর সরিয়ে নিয়ে এসে বিপদ মুক্ত করাও অসম্ভব তাই হয়তো শেষমেষ অনেক হিসাব নিকাশ টালবাহানার পর তৃতীয় এই বিল্ডিংটিকেও উড়িয়েই দিতে হলো। তখন আর ফেরার কোন রাস্তা ছিল না বলেই।

গ) যারাই এই ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করুক, আজ  এতদিনেও, কোনভাবেই আসল  সত্য ফাঁস হলো নাই বা কেন? কেউ না কেউ কেন সত্যের কোন একটি সূত্রও ফাঁস করে দিল না এতোদিন। এর একটিই উত্তর, এই পর্যায়ের ষড়যন্ত্র কোনদিনই ফাঁস হয় না। যদি না সঠিক তদন্ত হয়।

ঘ) মার্কিন প্রশাসন কেন এই মিথ্যাকেই সত্য বলে প্রমাণ করতে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে ছিল? এখন কথায় বলে সর্ষের মধ্যেই ভুত থাকলে যা হওয়ার তাই তো হবে।

ঙ) তথাকথিত ছিনতাই হওয়া চারটি বিমানের যাত্রীদের আত্মীয়স্বজনরা নিশ্চুপ কেন?

চ) ঘটনার সাথে সাথেই নির্দিষ্ট কোনরকম তদন্ত ছাড়াই মার্কিন প্রশাসন কী করে ঘটনার দায় আলকায়দার উপর চাপিয়ে দিয়েছিল। যা আজও  প্রমাণ করা গেল না?

ছ) যে কোন যড়যন্ত্রের ফলে শেষমেষ কাদের ঘরে লাভের করি ওঠে দেখে বোঝা যায় নেপথ্যের কুশীলব কারা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কী সেই ক্ষমতাও বিলুপ্ত?

এবং সকলের শেষে একটি কথাই আমাদের ভাবতে বাধ্য করায়। সেটি হলো এতোবড়ো অপরাধের অপরাধীরা কী চিরকাল অধরাই রয়ে যাবে? আর তাদেরই অঙ্গুলি হেলনে আবর্তিত হতে থাকবে বাকী বিশ্ব? এটাই এই শতকের সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন।

 

শ্রীশুভ্র এর ব্লগ   ১১৩ বার পঠিত