অনুপম সৈকত শান্ত

ছবি: প্রতীকি (অনলাইনে প্রাপ্ত)

 

ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতন বিষয়ক আইনে এইজ অব কনসেন্ট (Age of consent) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেহেতু ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞায় অসম্মতিতে তথা জোরপূর্বক যৌন সঙ্গম, যৌন স্পর্শ প্রভৃতি ক্রিয়া সংঘটিত করার বিষয়টি রয়েছে- সেহেতু উল্টোদিক দিয়ে বলা যায়- কারো সাথে তার সম্মতিতে তথা স্বেচ্ছায় যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে সেটি ধর্ষণ/ যৌন নিপীড়ন হবে না। এরকম ক্ষেত্রেই সম্মতি প্রদানের সক্ষমতা বা সামর্থ্যের প্রসঙ্গটি চলে আসে এবং ব্যতিক্রম হিসেবে কিংবা সম্মতির ব্যাখ্যায় বিভিন্ন দেশের আইনে সম্মতির বাউণ্ডারি লাইন বিবৃত হয়েছে। যেমন আমাদের আইনে- প্রতারণাপূর্বক সম্মতি আদায় করে যৌন সঙ্গম করলেও সেটি ধর্ষণ হবে, এ অনুযায়ী বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক করে, পরে সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলেও অনেকে ধর্ষণের মামলা করে বসে। বিভিন্ন দেশের আইনে, অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি, ঘুমে থাকা, অচেতন, ড্রাগ দেয়া ব্যক্তি, সামাজিক দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সাথেও যৌন সম্পর্ক স্থাপনকেও অসম্মতি হিসেবে বলা হয়েছে। একইভাবে, সমস্ত আইনেই একটি নির্দিষ্ট বয়সের নিচের শিশুদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে সম্মতিকে অসম্মতি হিসেবে ধরা হয়। এই বয়সটিই হচ্ছে এইজ অব কনসেন্ট।

 

আমাদের দণ্ডবিধি কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে- Age of consent শব্দবন্ধটি সরাসরি নেই, বেশিরভাগ আইনেই থাকেনা। Age of consent এর সরাসরি বাংলা ‘সম্মতি দেয়ার বয়স’ হলেও আসলে কিন্তু সেটি দিয়ে যেকোন কিছুতে সম্মতি দেয়ার বয়স বুঝায় না। এটি একটি আইনি ভাষা- যার অর্থ হচ্ছেঃ

 

The age of consent is the age at which a person is considered to be legally competent to consent to sexual acts, and is thus the minimum age of a person with whom another person is legally permitted to engage in sexual activity. The distinguishing aspect of the age of consent laws is that the person below the minimum age is regarded as the victim, and their sex partner as the offender

 

ফলে আইনে সরাসরি Age of consent শব্দকটি লেখা থাকুক আর না থাকুক- যে জায়গাটিতে নির্দিষ্ট বয়সের নিচে যৌনসম্পর্কের সম্মতি দিলেও সেটাকে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হবে- সেই জায়গাটিকেই এইজ অব কনসেন্ট নির্দেশ করার আইন বলা হয় এবং যে বয়সের নিচে যৌন সম্পর্কের সম্মতি দিলেও ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়- সেই বয়সকে Age of consent বলা হয়। একেক দেশের আইনে এইজ অব কনসেন্ট একেকরকম। আমাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ নম্বর ধারার ধর্ষণের সংজ্ঞায় বলা হয়ঃ

 

“ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন”

 

সেটার মানেই হচ্ছে- এই আইন অনুসারে বাংলাদেশে Age of consent হচ্ছে ১৬ বছর। ইউকে’র Sexual Offences Act 2003 এর ১ ও ৫ নম্বর ধারায় যথাক্রমে Rape এবং Rape of a child under 13 সংজ্ঞায় সব কিছু হুবহু একই, কেবল ১ নম্বর ধারার সংজ্ঞায় উল্লেখিত ” B (ভিকটিম) does not consent to the penetration লাইনটি ৫ নম্বর ধারায় নেই; অর্থাৎ সেখানে এইজ অব কনসেন্ট হচ্ছে ১৩ বছর। ভূটানের আইনে এইজ অব কনসেন্ট ১২ বছর, নেদারল্যাণ্ডের আইনে এটি ১৬ বছর, কানাডার আইনে কিছু ব্যতিক্রম সহ এটি ১৬ বছর।

 

বাংলাদেশের ধর্ষণ সংক্রান্ত আইন হচ্ছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, কিন্তু এখানে সংজ্ঞা নামক ধারাটিতে ধর্ষণের সংজ্ঞায় পেনাল কোডের ৩৭৫ ধারাকেও জীবিত রাখা হয়েছে। ফলে, অনেক সময়েই এ দুটি আইন মিলিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তিতে ভুগেন আমাদের দেশে এইজ অব কনসেন্ট আসলে কত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী এটি ১৬ বছর, পেনাল কোডের ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী, সাধারণভাবে এটি ১৪ বছর, বিবাহিত স্ত্রীর ক্ষেত্রে এটি ১৩ বছর। আমাদের আইনসমূহের এমন পরষ্পরবিরোধী ধারাগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্যতা আনা দরকার স্বীকার করেও বলা যায় যে, বস্তুত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ যেহেতু আধুনিকতর আইন, সেহেতু এই মোতাবেক আমাদের দেশে এইজ অব কনসেন্ট হচ্ছে ১৬ বছর। যেহেতু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এ বিবাহিত স্ত্রীর ব্যাপারে কিছু বলা নেই- সেহেতু এরকম ক্ষেত্রে পেনাল কোডের ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী বিবাহিত স্ত্রীর ক্ষেত্রে এইজ অব কনসেন্ট হবে ১৩ বছর। এতদিনকার বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কমবয়সী স্ত্রীর আইনগত স্বীকৃতি যেহেতু ছিল না- সেহেতু কার্যক্ষেত্রে একটিই এইজ অব্যয় কনসেন্ট ছিল- সেটি হচ্ছে ১৬ বছর। তবে, অধুনা বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর বিশেষ বিধান পেনাল কোডের ৩৭৫ ধারার এই বিধানটিকে আবারো পুনরীজ্জবন দিয়েছে। অর্থাৎ, বিশেষ বিধান মোতাবেক যদি ১৩ বছরের নীচের শিশুর সাথে বিয়েও হয়- তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনও ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে, কিন্তু ১৩ বছরের উপরের শিশুর সাথে বিয়ের ক্ষেত্রে তার সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপনে কোন বাঁধা থাকছে না।

 

এইজ অব কনসেন্টের সাথে আরো কয়েকটি বয়সসীমা সংক্রান্ত ধারা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যেমন,

 

১) শিশুর সংজ্ঞায় শিশুর বয়স

২) বিয়ের ন্যুনতম বয়স

৩) এইজ অব ক্রিমিনাল রেস্পন্সিবিলিটি

 

শিশুর সংজ্ঞায় শিশুর বয়স:

আমাদের অধিকাংশ আইনেই শিশুর সংজ্ঞায় ১৮ বছরের কম বয়সের ব্যক্তি বলা হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ২ (ট) ধারায় শিশুর সংজ্ঞায় বলা হয়েছেঃ (ট) ““শিশু অর্থ অনধিক ষোল (১৬) বৎসর বয়সের কোন ব্যক্তি। অবশ্য বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এ শিশু শব্দটির বদলে অপ্রাপ্তবয়স্ক’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং সংজ্ঞায় জানানো হয়েছেঃ

 

অপ্রাপ্ত বয়স্ক অর্থ বিবাহের ক্ষেত্রে ২১ (একুশ) বৎসর পূর্ণ করেন নাই এমন কোনো পুরুষ এবং ১৮ (আঠারো) বৎসর পূর্ণ করেন নাই এমন কোনো নারী” এবং “প্রাপ্ত বয়স্ক অর্থ বিবাহের ক্ষেত্রে ২১ (একুশ) বৎসর পূর্ণ করিয়াছেন এমন কোনো পুরুষ এবং ১৮ (আঠারো) বৎসর পূর্ণ করিয়াছেন এমন কোনো নারী”। অন্যদিকে শিশু আইন ২০১৩ এর ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী অনুর্ধ্ব ১৮ (আঠার) বৎসর বয়স পর্যন্ত সকল ব্যক্তি শিশু হিসাবে গণ্য হইবে

 

বিয়ের ন্যুনতম বয়সঃ

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী, 

 

বাল্যবিবাহ অর্থ এইরূপ বিবাহ যাহার কোন এক পক্ষ বা উভয় পক্ষ অপ্রাপ্ত বয়স্ক”। অর্থাৎ সাধারণভাবে বিয়ের ন্যুনতম বয়স- পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর এবং নারীর ক্ষেত্রে ১৮ বছর। কিন্তু নতুন এই আইনটিতে বিশেষ বিধান নামে একটি ধারা (ধারা ১৯) যুক্ত করে আরো কমবয়সী শিশুদের বিয়ের অনুমোদনও দেয়া হয়েছে। ধারা ১৯ অনুযায়ীঃ এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোন বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্ত বয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ এবং পিতা-মাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে, বিবাহ সম্পাদিত হইলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে না

 

 

এইজ অব ক্রিমিনাল রেসপন্সিবিলিটি:

এর অর্থ অপরাধ করার ন্যুনতম বয়স। কথায় আছে, শিশুরা ফুলের মত নিষ্পাপ। অন্য কথায় শিশুরা পাপ করতে পারে না, বা পাপ শিশুদের ছুতে পারেনা। প্রচলিত এই কথাগুলোর কিছুটা প্রতিফলন ঘটে- এই সংক্রান্ত ধারাসমূহে। অর্থাৎ, আইনের দৃষ্টিতে একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিশুদের যেকোন অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই ধরা হয় না, ঐ বয়সে কারো কোন কর্মই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। পেনাল কোডের ৮২ ও ৮৩ নম্বর ধারা অনুযায়ীঃ ৯ বছরের নীচের কোন শিশুর কোন কর্মই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না এবং ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে কোন কর্ম অপরাধ হবে না যদি সেই কর্মটির প্রকৃতি ও তার ফলাফল সম্পর্কে বুঝার মত পরিপক্কতা ঐ শিশুটির না থাকে।

 

(*82: Nothing is an offence which is done by a child under nine years of age, 83: Nothing is an offence which is done by a child above nine years of age and under twelve, who has not attained sufficient maturity of understanding to judge of the nature and consequences of his conduct on that occasion)।

 

উল্টোদিক দিয়ে বলা যায় যে, ৯ বছরের উপরের কিংবা মানসিক পরিপক্কতাহীনতার ক্ষেত্রে ১২ বছরের উপরের কোন শিশু অপরাধ করতে সক্ষম হিসেবে ধরা হয়।

 

এইজ অব কনসেন্টের সাথে এই ধারাগুলোর সম্পর্ক রয়েছে। বিয়ের ন্যুনতম বয়স আর এইজ অব কনসেন্টের পার্থক্য নির্দেশ করে যে, যৌন সম্মতি দেয়ার বয়স হওয়ার পরেও একজন বিয়ে করার উপযোগী নাও হতে পারে। আমাদের দেশে যৌন সম্মতির ন্যুনতম বয়স ১৬ আর বিয়ের ন্যুনতম বয়স ১৮ বছরকে দেখিয়ে অনেক সময়ে এই যুক্তি করা হয় যে- ১৬ বছরে একজন যৌনভাবে সক্ষম হতে পারলে কেন সে বিয়ে করতে পারবে না। এ যুক্তিতে বিয়ের ন্যুনতম বয়স কমিয়ে ১৬ বছর করার পক্ষে তারা যুক্তি দেন। তারা ভুলে যান, স্রেফ যৌনতা আর বিয়ে করা এক বিষয় নয়, বিয়ের সাথে সাথে একটি সংসারের দায়িত্ব ঘাড়ে চলে আসে, নারীদের সন্তানধারণের বিষয় চলে আসে এবং এর ফলে স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন শেষে কর্মক্ষম হওয়ার সুযোগ নষ্ট হওয়ার ব্যাপারও জড়িত। উল্টোদিকে-অনেক নারীবাদী সংগঠন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন- ২০০০ এর এইজ অব কনসেন্ট বাড়িয়ে ১৮ বছর করার দাবি তুলেন এই যুক্তিতে যে, এতে ধর্ষণের মামলার ভয়েও বাল্যবিবাহ অনেকাংশ কমে যাবে। এমন যুক্তির বাস্তব ভিত্তিও আছে, কেননা আমাদের দেশে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী নারীর মধ্যে বাল্যবিবাহের হার সর্বাধিক। একইসাথে এই বয়সী নারীর মাঝে শিশুমাতৃত্বের হারও আশংকাজনকভাবে বেশি। ইউনিসেফের তথ্যমতে ১৮ বছর বয়সের আগেই ৬৬% নারীশিশু বাল্যবিবাহ করতে বাধ্য হয়, যার দুই তৃতীয়াংশের বয়সই ১৫-১৮ বছরের মধ্যে।

 

অবশ্য অন্য একটি বেসরকারি গবেষণার তথ্যমতে বিগত এক দশকে বাল্যবিবাহের হার কমে হয়েছে ৪৩%। এর বড় অংশই কমেছে ১৫ বছরের নিচে। অবশ্য বাল্যবিবাহ নিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া এবং আইন অমান্যে সাজার পরিমাণ বাড়ানোর মধ্য দিয়েও বাল্যবিবাহের হার কমানোর দাবি প্রায় সকল নারীবাদী ও মানবাধিকার সংগঠনের। এবছর বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এ আগের তুলনায় সাজার পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও, আইনে বিশেষ বিধানের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের বিশেষ আইনী অনুমোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছ। তদুপরি, আইনের প্রয়োগের ব্যাপারে বিশেষ অভিযান চালানো, প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে জনসচেতনতা তৈরি- প্রভৃতি পদক্ষেপও চোখে পড়ছে না।

 

বিয়ের ন্যুনতম বয়স এবং এইজ অব কনসেন্ট এর পারস্পরিক সম্পর্ক বুঝার জন্যে, সাম্প্রতিক একটি রায়ের দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক। এই রায়ে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে এক ব্যক্তি কেবল মুক্তই হননি, ধর্ষিতার সাথে তার বিয়েও হয়। আমাদের ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলাগুলোর একটা বড় অংশই বিয়ের উদ্দেশ্যে করা হয়। অর্থাৎ কোন নারীর সাথে যৌন সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার পরে, এমনকি তাকে সন্তানসম্ভবা করার পরে পুরুষটি যখন আর তাকে বিয়ে করতে চায় না, তখন নারীটি উপায়হীন হয়ে ধর্ষণের মামলা করে বসে। জেল- জরিমানা থেকে বাঁচতে পুরুষটি তখন বাধ্য হয় বিয়ে করতে। আলোচ্য ঐ মামলাটিতেও ধর্ষক পুরুষটি ১৩ বছরেরও কম বয়সী একটি মেয়ের সাথে যৌনসম্পর্ক করলে যখন মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে, তখন সে তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে, মেয়েটির পরিবার ধর্ষণের মামলা করে বসে এবং গত তিনবছর ধর্ষণের দায়ে জেলখানায় ছিল ঐ পুরুষটি। এ বছর বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ পাশ হওয়ার পরপরেই এই আইনের বিশেষ বিধান মোতাবেক ১৮ বছরেরও কম বয়সী নারীকে বিয়ে করার অনুমোদন মেলায়, ধর্ষণের মামলা তুলে নেয়া হয় এবং ঐ পুরুষটি ১৬ বছরের ঐ মেয়েটিকে বিয়ে করতে রাজি হয়। মেয়েটি ও তার পরিবারও খুশি মনে মেনে নেয়, কেননা বাচ্চামেয়েটির সন্তানের বয়সই এখন ১ বছরের বেশি যে সন্তানটি এই সমাজের জন্যে আবশ্যকীয় পিতৃপরিচয় এর মধ্য দিয়ে লাভ করছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর বিশেষ বিধানের সর্বপ্রথম প্রয়োগ এই মামলাটির রায়ে ঘটে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ধারা ৯ অনুযায়ী (ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম ধর্ষণ) কিংবা পেনাল কোড এর ধারা ৩৭৫ অনুযায়ী (বিবাহিত স্ত্রীর ক্ষেত্রে ১৩ বছরের কম বয়সী নারীর সাথে সম্মতি/ অসম্মতিতে যৌন সঙ্গম-ও ধর্ষণ) আলোচ্য ঘটনাটিতে মেয়েটিকে ধর্ষণই করা হয়েছিল; অথচ আদালত ধর্ষণের বিচার না করে- বিয়ে দেয়ার জন্যে অপেক্ষা করেছে এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর বিশেষ বিধান তাদের অপেক্ষা কার্যত ২ বছর কমিয়ে দিয়েছে বলেই মনে হয়েছে (বিশেষ বিধানটি না থাকলে, সম্ভবত মেয়েটির বয়স ১৮ বছর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতো আদালত, অর্থাৎ সেই অপরাধীকে আরো দুবছর কারাভোগ করতে হতো)!

 

 

এইজ অব কনসেন্ট বনাম এইজ অব ক্রিমিনাল রেসপনসিবিলিটি:

এইজ অব কনসেন্টের কম বয়সী শিশু ধর্ষণের মামলায় অনেক সময় এইজ অব ক্রিমিনাল রেসপনসিবিলিটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আক্রান্তের উপর দোষ (victim blaming) চাপিয়ে দেয়ার নিমিত্তে। যেকোন ধর্ষণের মামলাতেই আসামীপক্ষের আইনজীবীর অন্যতম লক্ষ থাকে যৌন সঙ্গমের ঘটনাটি যে উভয়ের সম্মতিতেই হয়েছে, সেটি প্রমাণ করা এবং সে জায়গা থেকেই ধর্ষিতার ‘চরিত্রহানির প্রচেষ্টা থাকে। এইজ অব কনসেন্টের ক্ষেত্রে যেহেতু শিশুদের কনসেন্ট থাকলেও সেটি ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়, সেহেতু এক্ষেত্রে অন্যভাবে যুক্তি হাজির করা হয়- যেমনঃ আক্রান্তের বয়স সম্পর্কে আসামী অজ্ঞাত ছিল, আক্রান্তই তার বয়স লুকিয়েছিল বা ভুলভাবে বাড়িয়ে উপস্থাপন করেছিল, আসামীর প্রতি শত্রুতাপূর্বক ফাঁদে ফেলার জন্যেই এমনটি করেছিল ইত্যাদি। এক্ষেত্রে এইজ অব ক্রিমিনাল রেসপনসিবিলিটি গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, আইনী পরিভাষায় এর উপরের বয়সী ব্যক্তি শিশু হলেও (অর্থাৎ ১৮ বছরের নীচে হলেও) সে অপরাধ করতে সক্ষম।

 

আমাদের আইনে এইজ অব কনসেন্ট (১৬ বছর) ও এইজ অব ক্রিমিনাল রেসপনসিবিলিটি (৯ বছর, শর্তসাপেক্ষে ১২ বছর) এর পার্থক্য হচ্ছে ৭ বছর। অনেক সময়ে মনে করা হয় যে, ধারা ৯০ অনুযায়ী যেহেতু শিশুর সম্মতির বয়স ১২ বছর বলা হয়েছে,

 

(Unless the contrary appears from the context, if the consent is given by a person who is under twelve years of age.)

 

সেহেতু এইজ অব ক্রিমিনাল রেসপনসিবিলিটি হচ্ছে ১২ বছর। বাস্তবে ৯০ ধারাটির Unless the contrary appears from the context– নির্দেশ করে যে, এটিতে ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে শিশুদের সম্মতির কথা বলা হয়েছে। এইজ অব ক্রিমিনাল রেসপনসিবিলিটি সম্পর্কিত ধারা পেনাল কোডের ৮২ ও ৮৩ ধারা এবং শিশু আইন ২০১৩।

 

আমাদের আইনে সুনির্দিষ্টভাবেই বলা হয়েছে- ৯ বছরের কমে শিশুদের অপরাধ বোঝার মত বোধ বুদ্ধি হয় না বিধায় তারা কোন অপরাধ করে ফেললেও সাজা দেয়া যাবে না। আবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী বলা হয়েছে- ১৬ বছরের শিশুর যৌনতার ক্ষেত্রে স্বাধীন সম্মতি দেয়ার মত অবস্থা হয়নি- ফলে এই বয়সী কারো সম্মতি থাকার পরেও যৌন সম্পর্ক করলে- সেটিকে সম্মতি হিসেবে না ধরে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রলুব্ধকরণ হিসেবে (খাটি বাংলায়- “ফুসলানো”) ধরা হয় এবং সেটি ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে। আমাদের আইনে যৌনতার ক্ষেত্রে সম্মতির ব্যাপারে এইজ লিমিট ১৬ রাখা হয়েছে। ১৬ এর নীচে কেউ যদি সেই সম্মতি দেয়, তাহলে সে কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ করছে না। ১৬ বছরের নীচের কেউ এইরকম সম্মতি দেয়ার মত পরিপক্ক অবস্থানে নাও থাকতে পারে, তাকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি- তার অবস্থান- অভিজ্ঞতা- অর্থবিত্ত- খেলনাপাতির লোভ ইত্যাদি নানা কায়দায় প্রলুব্ধ করে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত করতে পারে। ফলে সেইসব ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের রক্ষা করতে এবং ঐসব লোক যারা এরকম নারী শিশুকে প্রলুব্ধ করতে পারে, তাদের বাঁধা দিতেই আমাদের আইনের এই এইজ অব কনসেন্টের প্রয়োজন। এটি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। শিশুর যৌন পরিবর্তনের বয়স, সামাজিক পরিমণ্ডলে যৌনতা কেন্দ্রিক ধারণা, অল্পবয়সে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার সমস্যা সংকট সম্পর্কে সোশাল স্টাডি- এসব অনেক ফ্যাক্টরই এখানে বিবেচ্য।

 

আগেই বলেছি, ধর্ষণের মামলায় আসামীপক্ষের আইনজীবীর চেষ্টা থাকে- ধর্ষিতাকেই একিউজড হিসেবে দেখানোর। ফলে সেক্ষেত্রে তিনি ৮২/৮৩/ ৯০ ধারা দেখান এই জায়গা থেকেই যে- যেহেতু ভিকটিমের বয়স ১২ এর বেশী সেহেতু সেও অপরাধ করার এবং কোন একটি অপরাধে সম্মতি দিতে সক্ষম। এখন অপরাধ কর্মটি কি? উভয়ের সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক হয়েছে- কিন্তু যৌন সম্পর্ক তো আইনের চোখে অপরাধ নয়! আইনের ভাষায় ধর্ষণ অপরাধ- যার সংজ্ঞায় একটি নির্দিষ্ট বয়সের নিচের শিশুর সম্মতিতেও যৌন সম্পর্ক হচ্ছে ধর্ষণ, এই অপরাধটিকে গণনায় ধরলে- সে তো ভিকটিম হয়ে যাচ্ছে- অপরাধী হছে না। ফলে অপরাধ করার ব্যাপারে সক্ষম হলেই তো কেবল হচ্ছে না- জানতে হবে অপরাধটি কি? তখন বলতে হবেঃ আসামীকে ফাঁসাতে চেয়েছে, অন্য কোন শত্রুতা থেকে বা জীঘাংসা থেকে আসামীকে প্রলুব্ধ করে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে বিপদে ফেলতে চেয়েছে, কিংবা ব্লাকমেইল করার উদ্দেশ্যে এমন করছে; অর্থাৎ কোন না কোন অপরাধের গল্প হাজির করতে হবে। সেদিক থেকে বলা যায়, Age of Consent আর Age of Criminal Responsibility এক হলে ভালো। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের আইনে এইজ অব কনসেন্ট ও এইজ অব ক্রিমিনাল রেসপনসিবিলিটির পার্থক্য বেশ কম। ইউরোপের অনেক দেশেই এদুটি একই। যেমন-

 

সুইডেন- ১৫ বছর

অস্ট্রিয়া- ১৪ বছর

বেলজিয়াম- ১৬ বছর

চেক রিপাবলিক- ১৫ বছর

ইতালি- ১৪ বছর ইত্যাদি।

 

ইউরোপে গড়পরতায় এইজ অব কনসেন্ট ১৫ বছর এবং এইজ অব ক্রিমিনাল রেসপনসিবিলিটি হচ্ছে ১৪ বছর। অর্থাৎ গড়পরতায় পার্থক্য মাত্র এক বছর। কিছু দেশে তো এইজ অব কনসেন্ট এর চাইতে এইজ অব ক্রিমিনাল রেসপনসিবিলিটি বেশি। যেমন-

 

স্পেন- ১৩ বছর ও ১৪ বছর

লুক্সেমবার্গ- ১৬ বছর ও ১৮ বছর

পর্তুগাল- ১৪ ও ১৬ বছর।

 

অর্থাৎ, লুক্সেমবার্গ মনে করে– ১৮ বছরের নীচের কোন শিশুই আদতে অপরাধ করতে পারে না, যদিও ১৪ বছর পার হলেই সে নিজ ইচ্ছায় বা সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক করার মত পরিপক্কতা অর্জন করে। একমাত্র মালটায় বাংলাদেশের মত এইজ ক্রিমিনাল রেসপনসিবিলিটি ৯ বছর, উপরন্তু সে দেশে এইজ অব কনসেন্ট ১৮ বছর হওয়ায় এই দুই বয়সের পার্থক্য সেখানে ৯ বছর!

 

১২ বছর থেকে বা ১৩ বছর থেকে বা ১৪ বছর থেকেই একজন নারীশিশুর মধ্যে যৌন আকাঙ্খা, যৌন চাহিদা – এসব তৈরি হতে পারে, প্রেম ভালোবাসার সাথে সাথে যৌন আনন্দ উপভোগের ব্যাপারটিও চলে আসতে পারে, ফলে এই বয়সেই সে স্বেচ্ছায় যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে এই প্রশ্নটি খুব স্বাভাবিক যে, যে সম্পর্ক সে নিজে থেকে ও নিজ উদ্যোগে করেছে সেটির জন্যে আরেকজনকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় কী না, দোষী সাব্যস্ত করা হলেও তার জন্যে তার শাস্তি, আরেকজন যে সম্পূর্ণ জোর করে মেরে পিটে ধর্ষণ করছে তার সমান হতে পারে কী না- এসব প্রশ্নের জবাবে আমি কিছুটা রিলাক্টেন্টই হতে চাইবো। উদাহরণ স্বরূপ ১৯/২০ বছর বয়সের ছেলের সাথে ১৪/১৫ বছরের মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের পরে যৌনসম্পর্কের ক্ষেত্রে যদি ঐ ছেলেটির যাবজ্জীবন যদি দিতে বলেন (আমাদের আইনানুযায়ী এটাই শাস্তি), তাহলে আমিও মনে করি এটি তার জন্যে অতিরিক্ত শাস্তিই হবে; যদিও একই কর্ম যদি ৪০-৫০ বছরের ব্যক্তি করে- আমি তার কঠোর সাজার পক্ষেই। এই কারণেই আমাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অতি কড়া শাস্তির বিধানের সমালোচনা করি আমি (এটি অনেকটা বজ্র আটুনি ফস্কা গেরোর মত অবস্থা)। ইউরোপ কানাডা অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন দেশের আইনে এইজ অব কনসেন্টের ক্ষেত্রে বিশেষ কনসেশনের ব্যাপারও আছে। যেমন- কানাডার আইনে এইজ অব কনসেন্ট ১৬ বছর হলেও, ১২ বছর বয়সের নীচের শিশুর জন্যে কোন কনসেশন নেই, কিন্তু ১২ ও ১৩ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে অনধিক ২ বছর আর ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে অনধিক ৫ বছর বয়স পার্থক্যের ব্যক্তির সাথে প্রেমের সম্পর্ক হিসেবে কনসেশনের আওতায় পড়বে, অর্থাৎ এটি ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

 

অসামাজিক কার্যকলাপ:

অসামাজিক কার্যকলাপ– এটি কোন আইনী ভাষা নয়, এবং আইনের কোথাও এই অসামাজিক কার্যকলাপ এর জন্য কোন বিধান রাখা হয়নি, এর জন্যে শাস্তি বা পুরস্কার কোন কিছুই নেই। পেনাল কোডের ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী ব্যাভিচার বা এডাল্টেরি’র উল্লেখ আছে। কিন্তু সেটি যেকোন বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কের জন্যে প্রযোজ্য নয়। এটি হচ্ছে- আমাদের প্রচলিত ভাষায় যেটা পরকীয়া- তার জন্যে। সেটিও কেবল, পরস্ত্রীর সাথে ঐ স্ত্রীর স্বামীর সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সম্পর্ক (পরস্বামীর সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে কোন বিধান নেই) এবং এই অপরাধ কেবল যে পুরুষ পরস্ত্রীর সাথে যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে তার- শাস্তি হবে সর্বোচ্চ ৫ বছর, কিন্তু সেই পরস্ত্রী যিনিও এরকম যৌন সম্পর্কে স্বেচ্ছায় লিপ্ত হচ্ছেন, তিনি কিন্তু আইনের চোখে নিরপরাধ। এর বাইরে আর কোন যৌন সম্পর্ক যেটি ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়ন না, সেটি অপরাধ নয়। বিয়ে হোক বা না হোক। সমাজে একে ব্যভিচার- লাম্পাট্য- অসামাজিক কার্যকলাপ- যা কিছুই বলা হোক না কেন, আইনের চোখে এইসব যৌন সম্পর্কের জন্যে কারোর কোন শাস্তি হবে না (অপ্রাকৃতিক যৌন সম্পর্কের জন্যে অবশ্য শাস্তি পেতে হবে- পশুকাম, সমকাম- এগুলোর আওতায়- ৩৭৭ নাম্বার ধারা অনুযায়ী)।

 

এক্ষেত্রে, এইজ অব কনসেন্ট আর বৈধ বিবাহের ন্যুনতম বয়স সংক্রান্ত আইন দুটোর দিকে দেখা যায়- তাহলে ব্যাপারটি আরো পরিস্কার হবে। আমাদের রাষ্ট্র জানাচ্ছে- ১৬ বছরের কম বয়সের নারীর সাথে যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হলে ধর্ষণ হবে, আবার একই সাথে জানাচ্ছে নারীর বৈধ বিবাহের ন্যুনতম বয়স ১৮। অর্থাৎ ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত নারীর বিয়ে করার অনুমতি নেই, কিন্তু যৌনসম্পর্ক করার ক্ষেত্রে আইনগত কোন বাঁধাও নেই। ফলে এটি স্পষ্ট যে, এক্ষেত্রে আমাদের রাষ্ট্র এতখানি মানবিক যে, বিবাহ বহির্ভূত যৌনসম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আইন কোনরকম খবরদারি করে না (যদিও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পার্কে, হোটেলে পুলিশী/ মেজিস্ট্রেটীয় অভিযান ভিন্ন কথা বলছে)।

 

আবার একই সাথে এটাও বলা যায় যে, রাষ্ট্র ঠিক ততোখানিই অমানবিক যে, বিবাহ বহির্ভুত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে যে সন্তান জন্ম নিচ্ছে- তার জন্যে ও তার মায়ের জন্যে পদে পদে বাঁধা তৈরি করে রেখেছে; বিশেষ করে, সন্তানের পিতৃপরিচয়ের আবশ্যকয়ীতা তৈরি করে রাখার মধ্যে। সিঙ্গেল মায়ের স্বীকৃতি রাষ্ট্রের কাছে নেই। রাষ্ট্রীয় সমস্ত কাগজপাতিতে পিতার নাম আবশ্যক।

 

আর আইনের সীমা বাদ দিয়ে যদি সামাজিক- অর্থনৈতিক- ধর্মীয়- সাংস্কৃতিক এসব দিক দিয়ে বিবেচনা করি, এ সমাজে এখনো ধর্ষণের চাইতে প্রেমের সম্পর্ক বড় অপরাধ, এখানে ধর্ষকের চাইতে ধর্ষিতা সামাজিকভাবে ঘৃণিত।