Avatar

মুক্তি যুদ্ধের সময়কালে যারা মানবতা বিরোধী অপরাধ তথা খুন-জখম, লুটতরাজ, নারী ধর্ষণ ইত্যাদি কাজের সাথে জড়িত ছিল, তাদের যথাযথ বিচারের দাবীতে সারা দেশের নতুন প্রজন্ম সহ আপামর জনসাধারণ যখন আন্দোলনে ব্যস্ত, তখন যুদ্ধাপরাধীদের অভয়াশ্রম জামাত শিবির সেটা প্রতিহত করার জন্য হেন অপকর্ম নেই, যা তারা প্রয়োগ করছে না। তার মধ্যে সবচাইতে স্পর্শকাতর অস্ত্র যেটা হলো ইসলামী বিদ্বেষ, সেটা দিয়ে বর্তমান আন্দোলনের গতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছে। রাজিব আহমদ যে নাকি থাবা বাবা ছদ্মনামে লিখত তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে চরম ইসলাম বিদ্বেষী হিসাবে প্রচার সহ এ আন্দোলনের সাথে জড়িত সকলকে নাস্তিক হিসাবে প্রচার করার প্রচন্ড চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হওয়ার আশংকায় আশংকিত জামাত শিবির এ ইস্যুটাকেই চুড়ান্ত অস্ত্র হিসাবে গ্রহণ করে শেষ চেষ্টা হিসাবে মরণ কামড় দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ২১শে ফেব্রুয়ারী এরপর গণ মঞ্চের কার্যক্রম যখন সীমিত পর্যায়ে রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, ঠিক তখনই মাঠে নামে জামাত শিবির বিপুল বিক্রমে। জামাত শিবির মূলত: অপেক্ষা করছিল কখন মঞ্চের কার্যক্রমে ভাটা পড়ে, তখনই তারা মাঠে নামবে। এটা তো অত্যন্ত সহজ হিসাব যে আন্দোলন কারীরা অনির্দিষ্ট কালের জন্য মঞ্চে অবস্থান করতে পারবে না। তারপর বিপুল অর্থ বিত্তের ক্ষমতার অধিকারী জামাত শিবির মাঠে ছাড়বে তাদের বেতনধারী ক্যাডার বাহিনীকে যারা অনির্দিষ্ট কালের জন্য মাঠে থাকার জন্য সর্বদা প্রস্তুত। ২১শে ফেব্রুয়ারী শাহবাগের প্রজন্ম চত্তরের ঘোষণার পরপরই জামাত শিবির এক মুহুর্ত দেরী না করে মাঠে বিপুল বিক্রমে ঝাপিয়ে পড়েছে।

 

এখন দেখার বিষয় সরকার কিভাবে এ আন্দোলনের সাফল্যকে ব্যবহার করে। দেখা যাচ্ছে খোদ সরকারই সেই ইসলামী জুজু নিয়ে দোটনার মধ্যে আছে। আর ইতোমধ্যেই জামাত শিবির প্রবল প্রতাপে প্রচার করে চলেছে আন্দোলন কারীদের উদ্যোক্তারা সব গাজাখোর নাস্তিক সম্প্রদায়।তারা নাকি বিভিন্ন ব্লগ সাইট ও ফেসবুকে ইসলাম ও মোহাম্মদ সম্পর্কে নানারকম আজে বাজে মন্তব্য করেছে। তাদের সেসব মন্তব্যের কপি পেষ্ট জামাত শিবির নিয়ন্ত্রিত গন মাধ্যমে প্রকাশ্যে প্রচার করে চলেছে- যেসব প্রচন্ড রকম অশ্লীল ভাষায় পরিপূর্ণ। এক্ষেত্রে সরকার সীমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বিষয়টি নিয়ন্ত্রন করতে। ধরা যাক, যারা আন্দোলন করছে মঞ্চে তারা কেউ কিন্তু ইসলাম বা মোহাম্মদের নামে বাজে কথা বলছে না সেখানে, তাদের একটাই দাবী তা হলো যুদ্ধাপরাধীদের সঠিক বিচার।তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেউ নাস্তিক বা অমুসলিম থাকতেই পারে। এমন কি তারা নিজেদের ফেসবুক বা ব্লগে ছদ্মনামে ধর্মের নামে বাজে মন্তব্য করতেই পারে যা নিতান্তই একটা ব্যক্তিগত ব্যপার আর সেটার প্রচার প্রসার অত্যন্ত সীমিত আকারে, দেশের সিংহভাগ ধর্মপ্রান মানুষের কাছে সেসব অজানা।বর্তমানে ইন্টারনেটের যুগে তাদের মুখ বন্দ করার ক্ষমতা নেই কারও।কিন্তু যারা দেশের ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্টেড মিডিয়া যেমন-টিভি চ্যানেল, পত্রিকা ইত্যাদিতে সরাসরি মোহাম্মদ সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্য প্রকাশ করছে ( নাস্তিকদের কৃত মন্তব্য কোট করে) তাদেরকে সরকার কিছুই বলছে না।শিবিরের কর্মীরা ফটোশপের মাধ্যমে নানারকম ছবিকে এডিট করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অপপ্রচারণা করে চলেছে।যেমন এখানে দেখুন: জামাত শিবিরের মিথ্যাচার সমগ্র 

 

সরকার মাত্র দুই একটি ব্লগ সাইট ও ফেসবুক আ্যকাউন্ট বন্ধ করেছে। সরকার বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে অশ্লীল মন্তব্যকারী ও সে-সকল মন্তব্য সরাসরি উল্লেখকারী, উভয়েই সমান দোষে দুষ্ট। উভয়েই মোহাম্মদকে অবমাননা করেছে। সরকার অশ্লীল মন্তব্যকারীদের ব্যপারে কিছু পদক্ষেপ নিলেও গণ-মাধ্যমে যারা এগুলোর সরাসরি উল্লেখ করছে যেমন – আমার দেশ প্রত্রিকা ও কিছু টিভি চ্যানেল এদের ব্যাপারে বা এদের পরিচালকদের বিরুদ্ধে কোনই ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি। কালক্ষেপন করে নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে ও পক্ষান্তরে আন্দোলন থেকে প্রাপ্ত সুফল ভোগ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এখন সরকার  যত দেরী করবে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে, ততই তারা পিছিয়ে পড়বে আন্দোলনের সুফল পাওয়া থেকে ও পুরো মাঠ জামাত শিবির দখল করে নিলেও তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। আর এরপর দেশে যদি মিশর বা লিবিয়ার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তাহলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। আসলে সরকারের ‘ধরি মাছ না ছুই পানি’ জাতীয় কৌশল দেশ ও জাতিকে অনেক পিছিয়ে দেবে।

জামাত শিবির সর্বপ্রকারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যে চলমান আন্দোলন আসলে কিছু নাস্তিক মুরতাদ ও কাফিরের কারসাজি — এটা প্রমান করতে। সরকার অদক্ষতার কারনে সে ফাঁদেই পা দিতে যাচ্ছে ক্রমশ। অথচ দেশের একদল মেধাবী তরুন সম্পূর্ন নিজেদের মেধা ও শ্রম দিয়ে জামাত শিবিরের অপকৌশল একের পর এক নিজেদের জীবনকে বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েও উন্মোচন করে যাচ্ছে ইন্টারনেটে নানা ব্লগ সাইট ও ফেসবুকে। অথচ এটা বোঝার মত প্রজ্ঞাবান মানুষের বড়ই অভাব সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। তার একটা বড় প্রমান দেখলাম, এক টিভি আলোচনা সভায় কয়েকজন নেতা ব্লগ সাইটকে বলছে ব্লক সাইট হিসাবে। এ থেকে বোঝাই যাচ্ছে এরা ইন্টারনেটা সম্পর্কে কতটুকু ধারনা রাখে।

সরকার যদি এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ কিছু তরুনকে নিয়োগ করত জামাত শিবিরের ইন্টারনেট ব্যবহার করে এসব অপকর্ম ও মিথ্যা প্রচারণা রোধ করার কাজে, তাহলে তা সরকারের যেমন বিপুল অর্থের সাশ্রয় হতো (কারন পুলিশ, বিডিআর দিয়ে জামাত শিবিরকে রুখতে অনেক অর্থ ব্যয় হয়); তেমনি তা হতো সবচাইতে ফলপ্রসু। কারন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তরুন শিক্ষিত প্রজন্ম তখন জামাত শিবিরের মিথ্যা প্রচারণা ও প্রতারনা ধরে ফেলত। কিন্তু এটা বোঝার ক্ষমতা কি আছে সরকারের কোন পর্যায়ের লোকের?

0 Shares

ভবঘুরে এর ব্লগ   ২৬ বার পঠিত