জিয়া হাসান

বাংলাদেশের কবিরাজরা ঝারফুক দিয়ে অসুখ ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দেয়। কয়েকহাজার মানুষকে তারা এক করতে পারে। অপরদিকে বামপন্থী দলগুলো বছরেরপরবছর সাধনা করে মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন অনুসারীদের নের্তৃত্বের লোভ দেখিয়ে ধরে রাখতে পারে। কিন্তু জনগণকে সাথে পায় না। এর দুইটা কারণ হইতে পারে-

এক. বাংলাদেশের মানুষ দেখে ঝারফুক কবিরাজের কাছে একটা প্রবলেমের সলিউশান আছে কিন্ত বামপন্থীদের কাছে কোন সলিউশান নাই।

দুই. বাংলাদেশের মানুষ এতো সরল যে, কবিরাজদের ধান্দাবাজি ধরতে পারেনা কিন্ত বামপন্থীদের ধান্দাবাজি সহজেই ধরতে পারে। তারা বোঝে এরা মুলত ফ্যাসিস্ট এনাবলার।

এই দেশের একটা সামান্য সিএনজিওয়ালাও যেখানে উপলব্ধি করে, ২০১৪ সালের পরে দুই দুইবার জনগণের বেছে নেওয়ার অধিকার হরণ করা হাসিনার আওয়ামী লীগের সাথে  শুধু বিএনপি নয়- তার আগের এরশাদ, জিয়া, বাকশাল, ইয়াহিয়া খান, সোহরাওয়ার্দী,  লর্ড কর্নওয়ালিশ, রবার্ট ক্লাইভ, সিরাজ-উদ-দৌলা, আলিবর্দী খাঁ, বার ভুঁইয়াসহ কারুরই তুলনা হয় না। তখন বামপন্থীদের বারে বারে বুঝাইতে হয় ২০১৪ সালের পরের আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপি’র কোন অপরাধের তুলনা হয়না।

খেয়াল করে দেখুন, আজকে বাংলাদেশে কী ভয়াবহ দুঃশাসন চলছে। ১০ বছরে ন্যূনতম একহাজার বিএনপির নেতা কর্মী গুম-খুন হয়েছে। ঘরে ঘরে ঢুকে তাঁদের মা বোনদের ধর্ষণ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ন্যূনতম এক লক্ষ বিএনপি নেতা কর্মী জেলে ছিল। এখনো অজস্র নেতা কর্মী জেলে। কিন্ত একজন বামপন্থী নেতা বিগত ১০ বছরে একজন বামপন্থী নেতাও জেলে যায় নি। এবং এই মুহূর্তে একজন বামপন্থী নেতাও জেলে নাই।

দেখুন এই মূহুর্তে জাহাঙ্গীরনগর ইস্যুতে, বেশ কয়েকজন বামপন্থী নেতার বাসায় পুলিশ হামলা করেছে। কিন্ত তাদের ওপরে হামলা হচ্ছে, শিবির ট্যাগ দিয়ে। বামপন্থী দলের সদস্য হিসেবে নয়। কারণ, আওয়ামী লীগ জানে বামপন্থীরা ‘আওয়ামী লীগ বিএনপি’ একই ধারনার যে সোস্যাল লেজেটিমিসি তৈরি করেছে, তার ওপরেই আওয়ামী লীগের ‘এলিট সেটেলমেন্ট’ টিকে রয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ বামপন্থী পিটাইলেও দাবি করে শিবির পিটিয়েছে।

আমি বিএনপির কোন নেতাকে দেখিনি যে বিশ্বাস করে, বামপন্থীরা বিএনপির সাথে আন্দোলন করবে। এইজন্যে বিএনপি বামপন্থীদের গোণায় ধরে না, জামাতকে গোণায় ধরে। কারণ, তাদের পলিটিকাল কথা আছে; তারা জানে বামপন্থীরা কখনই আওয়ামী লীগের লেজুরবৃত্তি ছাড়বেনা।

আমি রাজপথের পলিটিক্স করি নি। আমি ইন্টেলেকচুয়ালও না। আমি একজন সাধারণ ওয়ার্কিং ক্লাস মানুষ, যে ক্রিটিকাল একটা টাইমে কমনসেন্স এবং চোখের দেখার ওপরে আস্থা রেখে একটা ইন্টেলেকচ্যুয়াল রোলপ্লে করার চেষ্টা করছি। আমার সমস্যা হচ্ছে আমি সবকিছু পাওয়ার রিলেশানশিপের দৃষ্টিতে দেখি।

আমি ক্ষমতাকে ব্রুট ফরসের তত্ত্বে দেখি না। আমি দেখি পাওয়ার সমাজে সবস্তরে ছড়ানো। একজন পোশাক শ্রমিকেরও পাওয়ার আছে, তারা অনেকে মিলে এক হয়ে রাস্তায় নেমে দাবী আদায় করতে পারে। বিরোধীদল হিসেবে খালেদা জিয়ারও পাওয়ার আছে। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ভয়াবহ শক্তিশালী মানুষ- উনি বয়ান তৈরি করতে পারেন, আবার বয়ান ভাঙতেও পারেন। আমার নিজেরও পাওয়ার আছে। আমার কথা, দুইটা মানুষ হইলেও শুনে।

ইউ সি, হাসিনা যে বামপন্থী পেটানোর সময় শিবির ট্যাগ দিয়ে পেটায়, তার কারণ, বামপন্থীরা এলিট সেটেলমেন্টে ভয়াবহ পাওয়ার রাখে। এই পাওয়ার রিলেশানশিপ আমি দেখি, আমাদের বামপন্থী নেতারা তাদের এই পাওয়ারকে, হাসিনা বিরোধী শক্তিকে একত্র করার বদলে, হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার কাজে ব্যবহার করছে।

মঞ্জুরুল ইসলাম যখন এই ইলেকশানের পরে বলেন,

“আমরাও চাই না, গ্রহণযোগ্য বিকল্প তৈরির আগে, হাসিনা ক্ষমতায় রয়ে যাক”

তারপরেও যারা দাবী করে বামপন্থীরা হাসিনার পতনের বিষয়ে আন্তরিক, তারা হয় নির্বোধ; নয় তো দালাল, নয় তো ইম্বেসাইল।

কিন্ত তারপরেও বামপন্থীরা দেশের বাঁকি জনগণের সাথে সহমত আন্দোলন করবে, যুগপদ আন্দোলন করবে; এইসব দাবি করে, তখন জনগণ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে। তাদের প্রতি আরো কৃতজ্ঞ শেখ হাসিনা, কারণ হাসিনা জানেন, এই বামপন্থীরা আন্দোলনের নামে নিজের লেজিটিমেসি তৈরি করে ‘জ্বলন্ত কড়াই থেকে ফুটন্ত উনুন তত্ত্বের মাধ্যমে’; এই সরকার বিরোধী এলায়েন্সের সকল লেজেটিমিসি ধ্বংস করছে।

এই অবস্থায় আমি ‘এই জ্বলন্ত কড়াই থেকে ফুটন্ত উনুন তত্ত্ব’কে আলোচনা করবো আমার অত্যন্ত প্রিয় বামপন্থী বন্ধু গোলাম সারওয়ার ভাই এবং অ্যাংরি ইয়াংম্যান অনুপম দেবাশিষের আহবানে। আমি বিতর্কটা এভয়েড করতে চাইছিলাম। কারণ, আমি বিএনপি সমর্থক নই, তাই বিএনপিকে ডিফেন্ড করাও আমার কাজ নয়।

কিন্ত মনে হল এই আলোচনাটা আমার আগামী বই, ‘দুধ ভাত ইলেকশানেল’-এ একটা চ্যাপটার হতেও পারে।

আমি শুরু করবো একটা গল্প দিয়ে, সেইটা হচ্ছে বিগতবছর কোটাবিরোধী ছাত্রদেরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাদের হাসপাতালে ঢোকার অধিকার বন্ধ করার পরে ছোট্ট একটা স্ট্রিট মুভমেন্টের উদাহরণ দিয়ে।

প্রেসক্লাবের সামনে ছোট্ট একটা জনসভায় পুলিশ আমাদের কর্মীদেরকে পিটিয়ে বের করে দিল এবং মাইক ও ব্যানার কেড়ে নিল। না, আমাদের সামনেই দেখলাম সিপিবির একটা মিছিল গেল। সেখানে সেলিম সাহেবরা আরো বড় মাইক আরো জঙ্গিবাদ নিয়ে রাস্তায় জোর গলায় মিছিল করতে করতে গেল। কিন্তু পুলিশ তাদের ঠেকালো না। এবং এরপরে পুলিশের রমনা থানার একজন এসপি আমাদের সমাবেশে আসা একজন অত্যন্ত সম্মানিত বামপন্থী নেতাকে বললেন,

“স্যার এই মিটিং-এ আপনারা এসেছেন জানলে তো আমরা কিছু বলতাম না, আমাদের বলা হয়েছিল জেনারেল পাবলিককে দাঁড়াতে না দিতে।”

এইটা একটা স্ট্রেঞ্জ কোয়েশ্চেন। কেন পুলিশের প্রতি ইন্সট্রাকশান বামপন্থীদের রাস্তায় নামতে দাও, কিন্ত বাঁকি কাউকে নামতে দিবেনা। এর সাব আলোচনা হবে আগামী পর্বে।

একশান, লাইট, একশান, শট

সেলিমবাদি জ্বলন্ত কড়াই থেকে ফুটন্ত উনুন- কী কেন কীভাবে? কেন ২০১৪ সালের পরে আওয়ামী লীগের সাথে আইয়ুব খানেরও তুলনা হয় না।‘ সেই শো দেখতে পাবেন। বিনা টিকেটে। পপকর্ন ফাউ।

আশাকরি শো দেখতে আসবেন। এবং বন্ধুদের শেয়ার দিয়ে দাওয়াত দিয়ে দোজাহানের অশেষ নেকি হাসিল করবেন।

চিয়ারস!

0 Shares
জিয়া হাসান এর ব্লগ   ৮৪ বার পঠিত