একটা লম্বা সময়ের জন্য হাইবারনেশনে যেতে পারলে খুব ভালো হতো। আরও ভালো হতো দীর্ঘ ঘুম থেকে উঠে যদি দেখতাম পৃথিবীটা আশ্চর্যরকম সুন্দর হয়ে গেছে।

সেই পৃথিবীতে যুদ্ধের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা মানুষেরা লাশ হয়ে উপকূল ধরে ভেসে আসছে না। যেখানে শুধুমাত্র সন্দেহের বশে মানুষ নামের দানবরা পিটিয়ে মেরে ফেলছে না একজন মা’কে। যেখানে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে না। যেখানে নব বিবাহিত স্বামী স্ত্রীর লাশ ট্রে নের ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে মুচড়ে থাকা মাইক্রোবাসের জানালা দিয়ে বিভৎসভাবে ঝুলে থাকছে না।

সেই পৃথিবীর টিভিতে শুধু আনন্দের খবর পড়া হবে। খবরের স্ক্রলে বারবার ভেসে আসবে না বাংলাদেশে বন্যায় ডুবে বা আগুনে ঝলসে প্রাণহানির খবর।
আর কি কি আমি সেই পৃথিবীতে দেখতে চাই বা চাই না তার তালিকাটা আরও অনেক অনেক দীর্ঘ।

আর সত্যিই পারি না! প্রায়ই ভাবি ফেসবুক, ব্লগ সব অ্যাকাউন্ট ডি-অ্যাক্টিভেট করে রাখবো। আর ভুলেও কখনো খবরের চ্যানেল অন করবো না। করা হয়ে ওঠে না।

অনলাইন আর নিউজ মিডিয়ার সাথে আমার এখন অনেকটা লাভ অ্যান্ড হেইট রিলেশনশিপ চলছে। দীর্ঘ রাতের ঘুমের পরে যখন সেলফোন বা নিউজ চ্যানেল অন করি, তখন না চাইলেও ভিতরে ভিতরে কুঁকড়ে থাকি। না জানি এই ছয় সাত ঘন্টায় আরও কতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেছে।

দুই রথে পা দিয়ে এমনভাবে ব্যালান্স করে চলার নামই বোধহয় জীবন। তবে আজকাল যেন এই ব্যালান্সটা আর করে উঠতে পারছি না।

লেখালেখি প্রায় ছেড়েই দিয়েছি। প্রতিটি সাম্প্রতিক বিষয়ে ফেসবুকে ঝাঁপিয়ে পড়া লেখাগুলোও একদম পড়তে ভালো লাগে না। ভিতরে ভিতরে কষ্ট পাওয়া ছাড়া সাম্প্রতিক কোন বিষয়েই মতামত দেবার মতো আমার আর কোন প্রাণশক্তি অবশিষ্ট নেই।

যাপিত জীবন চলে জীবনের নিয়মে। খাই-দাই, অফিস যাই, দাওয়াত চলে ফাঁকে ফাঁকে, চলে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রন রক্ষা। আমি দাওয়াতে যাই, আমার সাথে সিন্দাবাদের ভূতের মতো চলে অসহায় মুখগুলো। আমি কিছুক্ষণের জন্য সব ভুলে হাসি, আনন্দ করি। সেই ক্ষণিকের আনন্দ ম্লান হয়ে অপরাধবোধের থাবায়।

আমি বোধহীন হতে পারি না। কারো মৃত্যুর খবরে RIP লিখে পাশ ফিরে শুয়ে ঘুমাতে পারি না। নিজেকে অধিকাংশ সময়ই বড্ড বেমানান মনে হয়। আমার মুক্তি যে ঠিক কি সে সেটাই আমার এখনো অজানা।

0 Shares