Avatar

উয়াশিংটন ডি.সি. থেকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রীশ্চিয়ান কনসার্ন (আই.সি.সি.) দাবী করছে যে, তাদের সংগঠন সম্প্রতি বাংলাদেশে মাদ্রাসায় পাচারকৃত ১৯ জন আদিবাসী খৃষ্টান শিশুকে উদ্ধার করেছে।

অসাধু পাচারপকারীরা সেসব শিশুদেরকে খৃষ্টান আবাসিক স্কুলে ভর্তি করার নামে তাদের পিতামাতাকে ধোকা দিয়ে নিয়ে যায় মাদ্রাসায় বিক্রির উদ্দেশ্যে।

আই.সি.সি. সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারী ৩ তারিখে বিনয় ত্রিপুরা নামক পাচারকারীর হাত থেকে উদ্দার করা হয়েছে ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী ১৯ জন শিশুকে। পাচারকারী বিনয় জানায়, ‘সে শিশুদেরকে ঢাকায় এক মিশনারী স্কুলে ভর্তি করার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের বাবা-মার কাছ থেকে সংগ্রহ করে।

প্রত্যেক শিশুর পিতামাতার কাছ থেকে ১৫,০০০ টাকাও সংগ্রহ করে বিনয়। ওদিকে মাদ্রাসায় বিক্রি করে সেখান থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে পাচারকারীরা।

বান্দরবন জেলার প্রত্যন্ত ‘চিম্বুক পাহাড়’ থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সুদীর্ঘ যাত্রাপথে শিশুদের কেউ-কেউ টের পায় যে, কিছু গড়মিল ঘটছে। ফলে যাত্রাপথে এক বিরতিস্থলে তাদের ১২ জন বাস থেকে নেমে পালিয়ে যায় এবং তাদের পিতামাতাকে ফোন করে জানায় তাদের সন্দেহের কথা।

হতভম্ভ পিতামাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত স্থানীয় আদিবাসী ছাত্রদেরকে ফোন ক’রে ঘটনার কথা জানিয়ে সাহায্যের আবেদন করে। বাসটি ঢাকায় পৌঁছালে ছাত্ররা বাসটিকে ধরে ফেলে, পাচারকারী বিনয় ত্রিপুরাকে পাকড়াও করে এবং বাকী ৬ জন শিশুকে উদ্ধার করে। বিনয় ক্রিপুরাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

এবং ইহাই প্রথম ঘটনা নয়। জুলাই ২০১২ থেকে এ পর্যন্ত ১৫০ জনের অধিক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে, দাবী করছে প্রতিবেদনটি। এ বছরই ঢাকার মাদ্রাসাগুলো থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫৫ জন শিশু। জানুয়ারী ২ তারিখে ঢাকার পাঁচটি মাদ্রাসা ও অন্যান্য ইসলামি সংগঠন থেকে ২১ পাচারকৃত শিশুকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত শিশুদেরকে জোর-পূর্বক ইসলামে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল এবং তাদের খৃষ্টান নাম বদলে মুসলিম নাম দেওয়া হয়েছিল। তাদেরকে মুসলিম হিশেবে গড়ে তোলা ও উগ্রবাদী মাদ্রাসা শিক্ষায় মগজ-ধোলাই ক’রে তাদেরকে জিহাদ করার জন্য “আত্মঘাতী বোমারু” বানানো হতে পারত বলে অনুমান করেছে আই.সি.সি.।

আই.সি.সি. এভাবে শিশু পাচারের খবর পেতে শুরু করে ২০১২ সালের জুলাই মাসে এবং সে মাসেই ১০ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়, যাদেরকে কোরান শিখতে, দৈনিক পাঁচবার নামাজ পড়তে ও আরবী শিখতে বাধ্য করা হচ্ছিল। শিশুরা অনীহা প্রকাশ করলে তাদেরকে বিদ্যুতের তার বা রড দিয়ে পেটানো হয়, ভুখা রাখা হয়, ছোট্ট কামড়ায় বন্দী রাখা হয় এবং গালাগাল করা হয়। উদ্ধারকৃত এক শিশু জানায়, “আমাকে অনেক বার পেটানো হয়েছে, কেননা আমি নামাজ পড়তে চাই নি।

এমন আরও প্রায় ২০০ শিশুর উদ্ধারের প্রয়োজন হতে পারে অনুমান করছে আই.সি.সি.।

আই.সি.সি.-র এশিয়া রিজোনাল ম্যানেচার কোরি বেইলি বলেছেনঃ

“খৃষ্টান শিশুদেরকে লক্ষ্য বানানো এবং ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাদেরকে মাদ্রাসায় বিক্রি করা মানুষ পাচারের সমতুল্য এবং তা যে-কোন মূল্যেই রোধ করতে হবে। খুবই সম্ভাব্য যে, এসব শিশুদেরকে মগজ-ধোলাই করে জিহাদে ব্যবহার করা হবে। ইহা কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বৃহত্তর বিশ্বের জন্যও এক সাংঘাতিক হুমকি। এ জঘন্য অপরাধের জন্য দায়ী পাচারকারী ও ক্রয়কারী মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ উভয়কেই বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যথার্থ শাস্তি দিতে হবে।”

এসব শিশুদেরকে আসলে “আত্মঘাতী বোমারু” বানানো হত কিনা, সে ব্যাপারে আমার কিছুটা সন্দেহ আছে। তবে এটা নির্মম বাস্তব যে, পিতামাতা থেকে বিচ্ছিন্ন এসব শিশুদেরকে অবশ্যই উগ্রপন্থী ইসলামি কর্মকাণ্ড, যেমন ‘জামাতে ইসলামি’র পদ-সেনা বানানোর চেষ্টা করা হবে নিঃসন্দেহে। কাজেই বাংলাদেশে শাহবাগ চত্ত্বর থেকে প্রত্যেক কোণে-কোণে যে অভাবনীয় ইসলামি জঙ্গীবাদ বিরোধী জাতীয় জাগরণ চলছে, সে প্রেক্ষাপটে এসব নিষ্পাপ শিশুদেরকে জামাত উৎপাদনকারী মাদ্রাসার কবল থেকে দূরে জন্য আমাদেরকে সচেষ্ট হতে হবে।

0 Shares

অনুবাদক এর ব্লগ   ৩২ বার পঠিত