এক

– দেখ দেখ…হেব্বি তো! দেখ না।।

– বাওয়া,তারা গুনছিস না কি!

– তারাই তো, খসে পড়ছে।ওই দেখ…আবাআআআর…পর পর দুটো

– আমরাই শালা খসে যাচ্ছি,কেউ খোঁজও নিচ্ছে না তার আকাশের তারা! না খেয়েই ধরে গেল না কি তোর? নে ধর, শুরু কর। শেষ হত হতে রাত কাবার করে দিবি নইলে।…………………

——–

দুই

– ওরা দেখল আমাদের

– এখনও অলীক? খসে যাচ্ছি আমরা, দেখছ? আর কয়েক মুহুর্ত মাত্র,তারপর আর অস্তিত্ত্ব থাকবে না আমাদের।

– এসব বলল যারা তারা কারা?

– উফফফ…আমি কি করে জানব? ওরা মনে হয় চৌকিদার।অফিসবাড়িগুলোর ছাদে বসে মদ-টদ খাচ্ছে। বাজে লোক।

– হুঁ

তাহলে তুমি বলো এবার

– কি?

– যারা দেখল তারা কারা? আমি আবেগ দিয়ে সহজ বুদ্ধি দিয়ে যা দেখলাম বলে দিলাম।তুমি দেখ প্রজ্ঞা দিয়ে, তোমার দৃষ্টি সত্যকে দেখবে,তুমি বলো ওরা কে?

– ওরা আগামী

– আগামী? আশ্চর্য!

হুঁ, আজ থেকে হাজার বছর পর ওরা বসে আছে।

— তাই? বাঃ! তার মানে হাজার বছর পরেও তোমার আলো পৌঁছল ওদের কাছে! আমার গর্ব হচ্ছে।

– আবার ফাজলামো শুরু করলি?

– কেন? ওরা তো বলছিল যে তারা খসে পড়ছে,অতদিন পরেও ওরা দেখল তুমি একটা তারা।আমিও তোমার পাশে…

– তাহলে খসে পড়ছি কেন? নাঃ, বিশেষ জ্ঞান দ্বারা লব্ধ…

-আমি শুনবই না ওসব কথা।ওরা দেখল, আমিও জানি – তুমি একটা তারকা। আর যারা বিশ্বাস করবে না আমি তাদের বুদ্ধু ভাবি। এখন শান্তিতে মরতে দাও তো ,চললাম

– যাবে,যাবেই তো…। আমিও যাব…উপায় কি বলো? খসে পড়া ছাড়া আর তো উপায় নেই

– কেন অলীক? কেন উপায় থাকল না? তুমি যদি ধ্রুবতারা হতে, ধরো আমি সন্ধ্যা তারাই…

– পারতে না…

– কেন?

– শুকতারা, সপ্তর্ষিরা থাকত, রোহিনী, লুব্ধক, অনসূয়া, অরুন্ধতী …তুমি মানতে পারতে না

– পারতাম, সত্যি! তুমি একটিবার সত্য বললেই পারতাম। সেভাবেই তো চিনতাম তোমাকে তখন

– সত্য? সত্য কি র সাঁঝবেলা? কুয়াশা দেখছিস না? মেঘ? ওরা আমাদের উজ্জ্বলতার পথে বাধা হত।আজ ওরা জয়ী।তুমি বুঝবে না গো শূকতারা। এবার মরতে দাও শান্তিতে,শান্তিতে মরো।আর কয়েক পল মাত্র সময়, তারপর ওই নীল গ্রহের চাদরে লেগে আমরা দুজনেই জ্বলে উঠব…গর্ত করে ফেলব সবুজ মাটি…হয়ত পুড়িয়ে দেব গাছ…

– একটু দাঁড়াও, শুনে যাও

– আমাদের গতি আজ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।বুঝতে পারছ না,ওই মূর্তিমান ধ্বংস তার অভিকর্ষ দিয়ে কীভাবে টানছে আমাদের, আর উপায় নেই দাঁড়ানোর

– তাহলে চলো একসঙ্গে নামি।থাকতে পারিনি একসঙ্গে, জ্বলতেও পারিনি, আজ অন্তত একসঙ্গে মরি

– নাঃ, তা-ও হওয়ার নয়।নিজ অক্ষের পাকে ঐ ধ্বংস ঘুরছে ভয়ানক জোরে,আমরা এবার এলোমেলো হয়ে যাব।কে কোথায় গিয়ে পড়ব তা নিজেরাই টের পাব না

– এবার কি সত্যি তাহলে বিচ্ছেদ,অলীক?

– ওই দেখ, নীল রঙের গ্রহের একদম কাছে চলে এসেছি আমরা-ওই দেখ ওই মাঠ,বিশাল প্রান্তর।কতদিন ওই নদীতে জলের রঙ ছিল মানুষের রক্তের রঙে লাল। এখানেই যুদ্ধ হয়েছিল, মানুষ মরেছে শত-সহস্র। আজ কেউ নেই।সম্রাট বদলে নিয়েছেন মনোভাব, শুধু স্বামীকে খুঁজতে খুঁজতে ওই অন্তস্বত্ত্বা নারীটি আর ফিরে যেতে পারেনি, ওই দেখ ওই ছোট্ট শান্ত উঠোনের প্রদীপের আলো, মা তার শিশুটিকে দেখাচ্ছে তোর দিকে, ওই আকাশে। এত সুন্দর তুই! হলুদ আলো , ওই দেখেই তো… তবে এতটা পথ আসতে আসতে আমার নীল বর্ন খানিকটা লেগে গেছে তোর গায়ে, তোর রঙও পড়েছে আমার ওপর

— হ্যা, দখো, এবার বাচ্ছাটা ছোট্ট হাত তুলে দেখালো তোমার দিকে, ওই তো আমরা অলীক! তাহলে আমরা কি আসলে বেঁচে আছি?

– এখনও হাজার বছর ওদের চোখে আমরা ওভাবেই থাকব,ওরা বুঝবে না ওরা যা দেখছে তা কত বছর আগেই পুড়ে খাক হয়ে গেছে

– দাঁড়াও,দেখছ না,তুমি না থাকলে কেবল পথ ভুল হয়ে যায় আমার।আসলে তো আমি আর অত সুন্দর আর নেই, এ যে মিথ্যে অলীক…আমরা কী তবে মিথ্যে হয়ে থেকে যাব এই হাজার বছর?

– দাঁড়া সেই আগের মত তোকে একটা ধাঁধা বলে যাই,মরার পর কোনো কাজ থাকবে না যখন করিস, ওই পৃথিবীর বিভৎস ক্ষত হয়ে থাকতে থাকতে নিজেকে প্রশ্ন করিস শুকতারা…ওই আকাশের সুন্দর তারা দুটো …

– আমি আর কিছু শুনতে পাচ্ছি না অলীক…জোরে বলো…

– ভেবে দেখিস ওই সুন্দর তারা দুটো কি সত্য নয়…

– কতদূরে চলে গেছ, এত জোরে চলছি আমরা…শুনতে পাচ্ছি না অলীক…

– পৃথিবীর এই বিশ্রী ক্ষতই কি একমাত্র সত্য…

– অ…লী…ক

– একদিন হয়ত তুই উত্তর খুঁজে পাবি, তুই …?  না আমি? …কাল?… না… রূপ.?..অস্তিত্ত্ব না…???????????

0 Shares