এ জেড হোসেন

আসলে ইসলাম একটি ভোগবাদী ধর্ম, ইহকালেও যেমন নারী সম্ভোগের ব্যবস্থা রয়েছে, পরকালেও রয়েছে ধর্ষণ ও যৌন সম্ভোগের ‘সুবর্ণ সুযোগ’। মোহাম্মদ তার যুদ্ধ ব্যয় মেটানোর জন্য এবং তার সৈনিকদের খুশী করার জন্য যুদ্ধ লুটের মাল (গণিমতের মাল) সকলের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেওয়ার বিধান রেখে গেছেন। এতে তার লুটেরা বেদুইনরা দলে দলে উৎসাহী হয়ে মোহাম্মদের দলে যোগ দিতে থাকে। এর ফলে মোহাম্মদের যুদ্ধে অংশ নিয়ে ওই প্যাগান বেদুইনরা বিভিন্ন গোত্রের মালামাল, গবাদী পশু লুটে নিতো। আর তাদের নারীদের সম্ভোগের সুযোগ পেত। এভাবে মোহাম্মদ বিভিন্ন যুদ্ধে পাওয়া গণিমতের মাল হিসেবে সাফিয়াকে ধর্ষণ ও পরে বিয়ে করেছিল। এভাবে নারী ধর্ষণের যারা সুযোগ খুঁজতে চাইত তাদের জন্য সঠিক ধর্ম হল ইসলাম। এতটুকুতেই যথেষ্ট নয়, ইহকালের নারী ধর্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি মোহাম্মদ। পরকালেও তাদের অনুসারীদের জন্য রেখে গেছেন নারী সম্ভোগের লোভ। বস্তুগতভাবে যেমন ধর্ষণের সংস্কৃতির বৈধতা দিয়ে গিয়েছেন, তেমনি মনস্তাত্ত্বিকভাবেও তাদের ধর্ষকই করে রেখে গিয়েছেন। বেহেস্তে যে নারী ধর্ষণের রগরগে বর্ণনা রয়েছে, তাতে বোঝা গেছে, বেহেস্ত একটা বেশ্যাখানা। সেখানে উপাদেয় খাবার খাওয়া আর হুরদের সঙ্গে সেক্স করা ছাড়া একজনের কোনো কাজই নেই। সেখানে শিল্পকলা ও সুকুমার বৃত্তির চর্চা নেই, প্রেমের মূল্য নেই, শ্রমের মর্যাদা নেই, শুধু খাওয়া আর যৌন সম্ভোগ। এই জন্য একজন মুসলমান ধর্ম চর্চা করে বেহেস্তে যাওয়ার লোভে, মানে নিছক শুধু নারী ধর্ষণের জন্য। এই জন্য বলা যায়, একজন মুসলমানের ধর্ম চর্চার পেছনেও রয়েছে ধর্ষণ। দেখুন বেহেস্তে হুর সম্পর্কে কী রগরগে বর্ণনাঃ

বেহেস্তে হুর পাওয়া যাবে। কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী তা হবে অনিনন্দ্য সুন্দরী, আয়তলোচনা, কুমারী, তার কুমারীত্ব প্রতিদিন নবায়ন হয়ে ফের সতীত্ব ফিরে পাবে। কোরআনের সূরা আদ দোখান এর ৫৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে,

“এটা এমন হবে এবং আমি তোমাদের আয়তলোচনা স্ত্রী দেব।”

সূরা আর রাহমান এর ৫৪, ৫৬ এবং ৫৮ নং আয়াতে বলা হয়েছেঃ

“তারা সেখানে রেশমের আস্তর বিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। উভয় উদ্যানের ফল তাদের নিকট ঝুলে থাকবে। সেখানে থাকবে আয়তলোচনা রমণীগণ। যাদের সঙ্গে কোনো মানুষ কিংবা জ্বীন কোনোদিন সেক্স করেনি। এই নারীগণ দেখতে প্রবাল ও পদ্মরাগের মতো”।

সূরা আর রহমানের ৭০, ৭২, ৭৪, ৭৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে,

“প্রত্যেকের জন্য থাকবে সচ্চরিত্র সুন্দরী রমণীগণ। কালো চোখের কুমারী নারীরা তাঁবুতে আশ্রয় নেবে। এর আগে যাদের কোনো মানুষ কিংবা জ্বীন স্পর্শ করেনি। তারা সবুজ কুশনে এবং উত্তম কার্পেটে হেলান দিয়ে বসবে।”

সূরা আর ওয়াক্কিয়া এর ৩৬, ৩৭,৩৮,৩৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে,

‘আমি তোমাদের জন্য বিশেষভাবে হুর সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তাদের করেছি চিরকুমারী। প্রেমময় সমবয়স্কা। এরা থাকবে ডান হাতের লোকের জন্য। আর থাকবে পুর্ববর্তীদের জন্য।’

সূরা আন নাবা এর ৩১, ৩২, ৩৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে,

“যারা পরহেজগার, তারা অবশ্যই সফল হবে, তাদের দেওয়া হবে উদ্যান এবং শরাব। সমবয়স্ক পূর্ণযৌবনবতী কুমারী। সত্যকারই পূর্ণ পানপাত্র।”

সূরা আর রহমানের ৫৪,৫৬, ৫৮, ৭০, ৭২, ৭৪, ৭৬ নং আয়াতে যে সকল কথা বলা হয়েছে, সেই একই কথা বলা হয়েছে সূরা আত্ব তুর এর ২০ নং আয়াতে এবং  সূরা আল ওয়াক্কিয়া এর ২২-২৪ নং আয়াতেও প্রায় একই কথা বলা হয়েছে। সুতরাং দ্বিরুক্তির জন্য তা আর উল্ল্যেখ করা হল না।

এতো গেল কোরআনের কথা। সেখানে হুরদের সম্পর্কে যা যা বলা হয়েছে তার উল্ল্যেখ করা হল। এবার হাদিসে তাদের সম্পর্কে কী বলা হয়েছে তা একবার খতিয়ে দেখা যাক।

হুরাইরা থেকে বর্ণিত: নবী বলেছেন, প্রথম ব্যাচের যারা বেহেস্তে প্রবেশ করবেন, তারা পূর্ণিমার চাঁদের মত জ্বলতে থাকবেন। পরবর্তী ব্যাচে যারা প্রবেশ করবেন, তারা আকাশের উজ্জ্বল তারার মত জ্বলতে থাকবেন। তাদের সকলের হৃদয় হবে যেন একজন মানুষের হৃদয়। তাদের পরস্পরের মধ্যে কোনো শত্রুতা ও প্রতিহিংসার অনুভূতি থাকবে না। প্রত্যেকেই হুরদের মধ্য থেকে দুইজন করে স্ত্রী পাবেন। যারা এতটাই সুন্দর এবং নিখাদ এবং স্বচ্ছ্ হবে যে তাদের হাড়ের ভেতরটাও দৃশ্যমান হবে। (সহিহ বুখারী, ৪র্থ খণ্ড-৪৭৬)

আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, ‘নবী বলেছেন, প্রথম যে গ্রুপটি বেহেস্তে প্রবেশ করবে, তারা আকাশের পূর্ণ চন্দ্রের মত জ্বল জ্বল করবে। এরপওে যারা তাদেও অনুসরণ করবে, তারা আকাশে উজ্জ্বলতম তারকার মত জ্বল জ্বল করবে। তাদের কোনো পেশাব পায়খানা হবে না। সর্দি কাশি হবে না। তাদের চিরুনি হবে স্বর্ণের, তাদের শরীরের ঘাম হবে মেশকের মত সুগন্ধিযুক্ত। তাদের পালং হবে চন্দন কাঠের। হুরদের ভেতর থেকে তাদের স্ত্রী হবে। সকলকেই দেখা যাবে বাবা আদমের মত। সবাই হবে ৬০ হাত লম্বা।’ (সহিহ বুখারী, ৪র্থ খণ্ড-৫৪৪)

আরো দেখুন, সহিহ মুসলিম-৬৭৯৩

প্রখ্যাত মুসলিম স্কলার ইবনে কাথির সূরা আন নাবা এর কাওয়া’ইব এর অর্থ সম্পর্কে বলেছেন, ‘আয়তলোচনা কুমারী, গোলাকার ভরাট স্তন’। ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ প্রমুখ বলেছেন, ‘গোলাকার স্তন, ঝুলে পড়া স্তন নয়। কারণ তারা হলো ভার্জিন (Virgin) বা কুমারী।

বেহেস্তে যৌনতা নিয়ে রগরগে বর্ণনা রয়েছে। সহবাসের জন্য একজনকে একশ’ জনের শক্তি দেওয়া হবে। একশ’ জন যে খাবার খাবে, যতটা শরাব পান করবে, একাই ততটা খেতে ও পান করতে পারবে। তিরমিযি শরীফে আছে, আনাস হতে বর্ণিত, নবী বলেছেন, ‘বেহেস্তে বিশ্বাসীদের সহবাস করার জন্য এতটাই শক্তি দেওয়া হবে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর নবী সে কি এতটাই করতে সক্ষম হবে? জবাবে নবী বলেন, তাকে একশ’ মানুষের শক্তি দেওয়া হবে। (তিরমিযি-২৪৫৯)

মোহাম্মদ এই কথাই বলেছেন, যে আল্লাহ হুর সৃষ্টি করেছেন পুরুষের সহবাসের জন্য। তাদের সৃষ্টি করেছেন, মুসলমান পুরুষের যৌন লালসা পুরণের জন্য। তাদেও বলা হয়েছে স্ত্রী বলা হলেও আসলে তারা স্ত্রী নয়। কারণ পুরুষরা বিয়ে করে শুধু যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য নয়। তাদের সঙ্গে সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ, সবকিছু ভাগাভাগি করার জন্য। বিপদে-আপদে একে অপরের পাশে থাকে। পরস্পরের বন্ধু হয়। কিন্তু হুরদের সঙ্গে শুধুই যৌনতা ছাড়া আর কিছু করার কথা বলা হয় নাই। এরা হল ‘সেক্স ডল’। এরা হল বেহেস্তের বেশ্যা। মুসলিম পুরুষের যৌন সম্ভোগের জন্য মোহাম্মদের আল্লাহ হুর সৃষ্টি করেছেন। আসলে বেশ্যার সর্দার, বা পতিতার দালাল যে ভূমিকা পালন করে, মোহাম্মদের আল্লাহও একই ভূমিকা পালনকারী।

এ জেড হোসেন এর ব্লগ   ৯৩ বার পঠিত