অনি

 

শান্তিপ্রিয় মুসলমানরা প্রকাশ্যেই মিয়ানমারের বৌদ্ধদের হত্যা করতে চায়।
শান্তিপ্রিয় মুসলমানরা প্রকাশ্যেই মিয়ানমারের বৌদ্ধদের হত্যা করতে চায়।

 

 

পূর্ব প্রকাশিত‘র পর

 

ব্রহ্মদেশ, রোহিঙ্গা ও বঙ্গদেশ

‘বিচার মানি কিন্তু তাল গাছ আমার’ এই কথা যেই দেশের প্রবাদ বাক্য সেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মনস্তত্বটা বুঝতে আশা করি খুব সমস্যা হয় না। হালকার ওপর ঝাপসা যেটা বোঝা যায় সেটা হচ্ছে- এই দেশের মানুষ বিচার চায়, কিন্তু সেটা স্রেফ নিজের মতের পক্ষেই। যদি সেটা তাঁর বিপক্ষে যায় তাহলে কী হয়? যেটা হয় তাঁর উদাহরণ হচ্ছে বর্তমান রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমাদের ফেসবুক স্ট্যাটাস এবং যার ফেসবুক স্ট্যাটাসও নাই- তার গালাগালি।

বর্তমানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ নারী-পুরুষ মায়ানমার সরকার ও তার আর্মি বাহিনীর ওপর খুবই ক্ষিপ্ত। এমন কোনও গালি নাই, অভিশাপ নাই যেটা তারা মায়ানমারকে দিচ্ছে না। যাদের গালি দিতে সুরুচি ও ভদ্রতাবোধে বাঁধে তারা মায়ানমারকে অমানবিক বা মানবতা বিরোধী বলে তাদের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছেন। মুশকিল হচ্ছে আমার চট করে রাগও ওঠেনা, অবস্থানও নিতে পারি না। গালি দেবার স্বভাবও রপ্ত করতে পারি নি, এর পরিবর্তে প্রশ্ন করার স্বভাব রপ্ত করছি।

বাংলাদেশের মানুষের হচ্ছে উত্তর দেবার স্বভাব। তারা পৃথিবীর যে কোনও প্রশ্নের উত্তর জানে। আর যদি কোনটার উত্তর না জানে তাহলেও প্রবাদ আছে- ‘জানার কোনও শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই‘। আমি বর্তমান রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আর কিছু লিখবো না বলে মনঃস্থির করেছিলাম। কিন্তু আমি বাদে আর প্রায় সকলেই রোহিঙ্গা বিষয়টা বুঝে ফেলেছে, ফেসবুক থেকে এই অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাবলাম তাহলে আমিও একটু তাদের কাছ থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুটা বুঝে নিই।

ভাই ও বোনেরা, আপনাদের তো মায়ানমারের আর্মিদের ওপর অনেক রাগ, অনেক ঘৃণা। কেন তারা রোহিঙ্গাদেরকে পুশ-ব্যাক করছে? নারী শিশু বৃদ্ধ পুরুষদের হত্যা করছে? মায়ানমার আর্মি খারাপ, মায়ানমার খারাপ, অং সান সুচি খারাপ। আচ্ছা, আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে- আপনি নিজে কী কখনো নিজেকে প্রশ্ন করেছেন- কেন মায়ানমার আর্মি এই কাজটি করছে? করেছেন নিজেকে প্রশ্ন? উত্তর আছে আপনার কাছে? আপনি নিজে এত মানবতাবাদী একজন মানুষ, বুদ্ধিমান একজন মানুষ, মায়ানমার ভুল করছে অন্যায় করছে রোহিঙ্গাদের সাথে, এই জাজমেন্টও দিয়ে ফেলেছেন, আর আপনার এটা জানতে ইচ্ছে করলো না মায়ানমার আর্মি কেন রোহিঙ্গাদের সাথে এমন আচরণ করছে? কেন ভাই, মায়ানমারে কী কোনও মানবতা নাই? এত্ত সোজা হিসাব?

 

Census statistics from Wiki

 

আচ্ছা আচ্ছা, একশ্রেণীর কাছে এর উত্তর আছে। সেটা হচ্ছে ‘রোহিঙ্গারা মুসলমান‘। মায়ানমার আর্মি নিরীহ রোহিঙ্গাদের মুসলমান হবার কারণেই তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয় নি, আবার এইভাবে পুশ-ব্যাক করছে, হত্যাও করছে। এ প্রসঙ্গে আমার নিজের একটা মতামত আছে। সেটাতে পরে আসবো, এখন আপনার কথায় থাকি। যদি মুসলমান হবার কারণেই মায়ানমার রোহিঙ্গাদের সাথে এমন আচরণ করে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার কাছে আমার প্রশ্ন- মায়ানমারে মুসলমানের সংখ্যা কত? মাথা চুলকাচ্ছেন? একটা হাসির ইমো দেই?    আমি জানি আপনি এই সংখ্যা জানেন না। শুনুন, মায়ানমারে মোট মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ২১ লক্ষ ১৫ হাজার। মায়ানমারের মোট জনসংখ্যার ৪.৩ % ই মুসলিম। তাঁরা বেশিরভাগই মায়ানমারের রাজধানীতে থাকে। আর রোহিঙ্গারা কতোজন এটা জানেন? এইটা বোধ হয় জানেন- হ্যাঁ প্রায় ৮ লক্ষ।

এবার একটু আমায় বুঝিয়ে দিন- ওই বাকী ১৩ লক্ষ মুসলমানের সাথে কোনও মারামারি কাটাকাটি নাই, তাদের নাগরিকত্বও আছে, অথচ সব ঝামেলা শুধুই কেবল রোহিঙ্গাদের সাথে, কেন? বলুন! আমি একটু চুপ থাকি, আপনি বলুন? নিজেকে প্রশ্ন করুন। উত্তর নাই? ঘুরে ফিরে সেই ওরা মুসলমান এই চিন্তাই মাথায় আসছে তো? আচ্ছা, এইবার আসুন আমি আপনাকে একটু ঘটনা শোনাই। কিছুটা ঠিকই ধরছেন- তারা মুসলমান বলেই। তবে তারা আপনার মতো সুবিধাবাদী ভণ্ড মুসলিম নয়। তারা হচ্ছে মৌলবাদী মুসলিম। তারা মায়ানমারে মুসলিম খেলাফত চায়। অন্ততঃপক্ষে রাখাইন এলাকাটা তাদের জন্য আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে চায়। এ লক্ষ্যে রোহিঙ্গারা জিহাদ করছে স্যার!  তাদেরকে সাহায্য করছে- সৌদি আরব, পাকিস্তানের আইএসআই (ISI ) আর বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলো।

 

ISI

 

এখন আপনি বলুন, আমি শুনি। রোহিঙ্গারা কবে থেকে জিহাদ করছে? ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যখন অস্ত যায়, তখন পাকিস্তানের জিন্নার সাথে একজোট হয়ে এই রোহিঙ্গারা একটি আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়। কিন্তু সেটা করতেও তারা ব্যর্থ হয়। একবার ভাবুন ভাই, ১৯৪৭ সালে রোহিঙ্গারা মুজাহিদ পার্টি গঠন করে, যারা জিহাদি আন্দোলনকে সমর্থন করতো। মুজাহিদ পার্টির লক্ষ্য ছিল আরাকানে একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

আপনার কাছে জানতে ইচ্ছে করে- মায়ানমার রাষ্ট্র আপনার হলে তখন কেমন লাগতো? ধরুন আপনি বৌদ্ধ কমিউনিটি। সৌদি আরবে গিয়ে থাকতে চাইলেন। সৌদি সরকার আপনাকে থাকতে দিবে? ধরুন আপনারা চাইলেন মক্কা বা মদিনা বৌদ্ধ রাষ্ট্র হবে, এইজন্য সেখানে সশস্ত্র বিপ্লব শুরু করলেন, চীন আর ভূটানের সহায়তায় – তখন সেখানকার সৌদি আর্মি আর মুসলিম জনগণ আপনাদের কী করবে? বলুন ভাই, কী করবে? আচ্ছা, নিজের বেলায় ‘বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার‘ তাইনা?

আপনারা আফগানিস্তানে বৌদ্ধদের সবচেয়ে বড় বুদ্ধের মূর্তি তালিবানদের দিয়ে ভাঙবেন। সমস্ত বৌদ্ধদের আফগান, পাকিস্তান থেকে তাড়িয়ে দেবেন, বাংলাদেশে থেকে খিলিজির হাত ধরে ১২০৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সমস্ত মঠ প্যাগোডা, বিশ্ববিদ্যালয় জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করবেন, সেখানে ইন-টলারেন্স হয় না? আপনারা অন্যের দেশে গিয়ে শরিয়া কায়েম করতে চাইবেন। লন্ডনে শরিয়া চাইবেন, কানাডার কিউবেকে, মন্ট্রিয়ালে, টরেন্টোতে শরিয়া চাইবেন, জার্মানি, জাপান, আমেরিকা, ভারতে, বাংলাদেশে যেখানেই যাবেন আপনাদের জিহাদ চলছে। শরিয়া চাই আপনাদের। কেন ভাই? হিন্দুরা, বা খ্রিস্টানরা, বা ইহুদিরা বৌদ্ধরা গেছে কোনও মুসলিম কান্ট্রিতে ওদের ধর্ম চাপাতে? থাকতে দেন সৌদিতে অন্য ধর্মের লোকদের?

রোহিঙ্গারা বৌদ্ধদের এম্বুস করে হত্যা করে। বৌদ্ধ মেয়েদের রেপ করে মারে। শুধু বৌদ্ধই নয়, সেখানের হিন্দুদেরও রেপ করে, জবাই করে; অতর্কিত হামলা করে মায়ানমার আর্মি আর পুলিশের ওপর। আপনি তো সব জানেন। এইসব জানেন না? হায় হায়? সিরিয়াসলি জানেন না? ক্যামনে ম্যান? অবশ্য জানার কথাও না। আপনি ব্যস্ত ছিলেন ফটোশপ করা হত্যার ছবি বানাতে। নয়তো কবে কোথায় বন্যায় মানুষ ডুবছে সেই ছবি, তেলের ট্যাং বিস্ফোরণে পুড়ে কয়লা হওয়া ছবি, আফ্রিকার নিগ্রোদের পুড়িয়ে হত্যা করার ছবি, নানান দেশের সিনেমা-মুভির হত্যার ভিডিও ক্লিপ সব রোহিঙ্গা হত্যার ছবি বলে ফেসবুকে পোস্ট দিতে বা সেগুলি দেখতে দেখতে আর টাইম পান নাই আমি বুঝতে পারছি। থাক ব্যাপার না। আপনি সত্য না জানলেও সত্য সত্যই থাকে।

আমায় একটু বুঝিয়ে দিন রাষ্ট্র কাকে বলে? থাক, বুঝতে পারছি আপনি রাষ্ট্র বিজ্ঞানের স্টুডেন্ট না। আচ্ছা এটা তো বোঝেন যে- একটা রাষ্ট্রের নিজস্ব আইন থাকে, তার একটা সংবিধান থাকে? তাদের মাটির ওপরে একটা সীমান্ত বেড়া থাকে? বোঝেন না ভাই? তাহলে এবার একটু বলুন- কোন রাষ্ট্র আছে যে নিজের দেশের ভিতরে থাকা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে না? একটা নাম বলুন? আমি অপেক্ষা করছি। যে জনগোষ্ঠী মায়ানমার রাষ্ট্রকে ভেঙ্গে দিতে চায়, দখল করতে চায়, তাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরে অতর্কিত হামলা করে, সেই রাষ্ট্র কী আর্মি একশনে যাবে না? নাকী কবীর সুমনের গানের মতো- গোলাপের তোড়া হাতে কুচকাওয়াজ করবে তোমার তোমার জন্য প্রিয়তমা? তাই যদি বলেন তাহলে আর মায়ানমারের আর্মি আর পুলিশ বাহিনীর দরকার নাই।

ভাই, আমি জানি আপনি বিরাট মানবতাবাদী। আমাকে একটু বলুন- পৃথিবীর কোন দেশে গৃহযুদ্ধে মাইগ্রেশন আর মাস কিলিং ঘটে নি? একটা উদাহরণ দেখালেই আমি ঠাণ্ডা। দেখাতে পারবেন না আমি জানি। তারচেয়ে স্পষ্ট করে বলুন- মায়ানমার সরকার আর আর্মি তার দেশের বিদ্রোহী জঙ্গিদের হাতে দেশের শাসন ছেড়ে দিক এটাই আপনার চাওয়া। কারণ এটুকু-তো আপনিও জানেন মুসলিম জঙ্গিরা আলোচনার ধার ধারে না। তাদের জীবন শুরু হয় তাদের মৃত্যুর পর বেহেস্তে গেলে। রোহিঙ্গা জঙ্গিরাও এর ব্যতিক্রম নয়। তারা খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবে, আলোচনা করবে না স্যার। আপনি বরং বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা জঙ্গি এখন আশ্রয় দিচ্ছেন তারসাথে বাংলাদেশের জঙ্গিরা মিলে যখন পার্বত্য চট্টগ্রাম আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র বা খেলাফত কায়েমের চেষ্টা চালাবে তখন সব ইহুদি নাসারাদের আর আমেরিকার ষড়যন্ত্র বলে আপনার স্পিচ রেডি করে ফেলুন। ফেসবুকে প্রচুর লাইক কমেন্ট পাবেন।

একটা জিনিশ আমার মাথায় ধরে না। একটু বুঝিয়ে দিন। রোহিঙ্গারা যদি নিরীহ হয় তাহলেতো রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সাথে ওদের নিজেদের মারামারি হবার কথা। নিরীহ রোহিঙ্গারা চাইবে মায়ানমারের সাথে থাকতে। বিশ্ববাসী দেখবে মৌলবাদী রোহিঙ্গা জঙ্গিরা নিরীহ মুসলিম রোহিঙ্গা জঙ্গিদের হত্যা করছে। যেমন দেখেছি সিরিয়ায়, লিবিয়ায়, ইরাকে। তাহলে মায়ানমার আর্মি নিরীহ রোহিঙ্গাদের সহায়তায় খুব সহজেই খেলাফত আন্দোলন করা জঙ্গিদের অ্যারেস্ট করতে পারতো। জঙ্গিরা নাফ নদী বা বঙ্গোপসাগর দিয়ে পালাতে গেলে বা বাংলাদেশে ঢুকলে বাংলাদেশ আর্মির কাছে মার খেতো, ইন্ডিয়াতে ঢোকার তো প্রশ্নই উঠতো না। জাতিসংঘ থেকে বা পশ্চিমা দেশগুলো থেকে সহায়তা দেয়া যেতো। যেমন করে সিরিয়ান রিফ্যুজিদেরকে জার্মানিরা চকলেট ফুল হাতে ট্রেন, বাস-স্টেশনে রিসিভ করেছিল।

আপনার মনে অনেক ক্ষোভ, কেন আশেপাশের দেশ মায়ানমার সরকারকে চাপ দিচ্ছে না। কেন আন্তর্জাতিক বা পশ্চিমা দেশ থেকে চাপ পড়ছে না মায়ানমারের ওপর। রাইট? একটু ভাবুন তো। প্রতিটি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সাথে আরেকটি রাষ্ট্রের কী পররাষ্ট্রনীতি বলে কিছু আছে কীনা? যেই নীতিতে একটি রাষ্ট্রে কোনও বিপদে অন্য রাষ্ট্র তাকে সামরিক বা নীতিগত সমর্থন দেবে। মায়ানমারে রোহিঙ্গারা যেটা করছে সেটা মায়ানমারের সার্বভৌমত্বের জন্য প্রচণ্ড হুমকি। এমতাবস্থায় অন্য দেশ যদি একইবিপদে পড়ে তখন সেই দেশ কার কাছে সাহায্য চাইবে? একবার ভেবে দেখেছেন- এই যে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি উন্নত দেশ এসাইলাম দিয়ে বিপদ্গ্রস্থ মানুষকে তাদের দেশে আশ্রয় দেয়। এত এত মুসলমান পশ্চিমা দেশে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তাহলে শুধু রোহিঙ্গাদেরকে কেউই কেন নিতে চাচ্ছে না? ভেবে দেখেছেন বিজ্ঞ মহাশয়? কারণ একটাই, তারা বিপজ্জনক একটি গোষ্ঠী। যারা এখন কক্সবাজার বা পার্বত্য এলাকাতে রোহিঙ্গাদের কাছে থেকে দেখেছে তারা এটা জানে। এরা হেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নাই যার সাথে জড়িত না। ইয়াবা থেকে শুরু করে অস্ত্র চোরাচালান জঙ্গি কর্মকাণ্ড সবকিছুতেই তারা আছে।

 

মিয়ানমারের বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চাপাতি দিয়ে এভাবেই হত্যা করে রোহিঙ্গা মুসলিম জিহাদিরা

 

তবুও আপনি দোষ দেখছেন এক চক্ষু হরিণীর মতো মায়ানমার আর্মির। গুড। কী করবে বলুন? ওই আর্মিদের দেশ রক্ষা করাই কাজ। দেশের জন্য ওরাও প্রাণ দেয় স্যার। ওই আর্মিরাও মায়ানমার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ওরা ওদের দেশের হিরো, স্যার।

তবুও মায়ানমার সরকার এই রোহিঙ্গাদের ১৯৪৭ থেকে সহ্য করে এসেছে। মেরে ফেলেনি। কোনও কোনও দশকে কিছু দাঙ্গা হয়েছে। রোহিঙ্গারা কখনো মেইনস্ট্রিমে আসেনি। তারা বিচ্ছিন্নতাই চেয়ে এসেছে। তবুও সুচি সরকার ওদের সাথে আলাপ করছে । হ্যাঁ জনাব, এখনো করছে। এই কারণে আট লক্ষ রোহিঙ্গা এখনো রাখাইনে বিদ্যমান। নইলে এই কয়েক লক্ষ মানুষকে কয়দিন লাগে দেশত্যাগ করাতে বা সবাইকে মেরে ফেলতে? বাংলাদেশে পাকিস্তানিরা ৩০ লক্ষ মেরেছে। আমরা তাই ভুলে গেছি। পাকিস্তান বলতে এখনো অজ্ঞান আমরা। মায়ানমার তো বৌদ্ধদের দেশ। তাই এতো ধৈর্য।

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ১৯৪৭ সাল থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন চলছে। প্রতিদিন হত্যা খুন গুম হচ্ছে। জেনোসাইড হচ্ছে। মুসলিম বিশ্ব সেখানে মুখের ভিতর কুলুপ দিয়ে বসে থাকে। বাংলাদেশে একটা লোক এটা নিয়ে কথা বলে না। কেন স্যার? পাকিস্তানিরা মুসলমান বলে? বেলুচরা মানুষ নয়? মায়ানমার বৌদ্ধ বলেই বুঝি এত অমানবিক লাগে?

আপনি চাইছেন রোহিঙ্গাদের সাথে মায়ানমার একটা সমঝোতা করুক? প্রিয় বিজ্ঞ পাঠক, রোহিঙ্গারা কেন বলে না আমরা মায়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী চলবো? সেখানে তো তাদের আরও ১৩ লক্ষ মুসলমান ভাইরাও বাস করে। কী স্যার করে না? যদি রোহিঙ্গারাই এর আমৃত্যু সমাধান না চায়, তাহলে আপনি এর সমাধান কীভাবে দিবেন স্যার? লাদেনের আল-কায়দার সাথে আলোচনার টেবিলে বসবেন আপনি? তারা বসবে? বলুন না? কিংবা আই.এস.আই.এস?

এরচেয়ে সব থেকে ভালো হয়- যারা শরিয়া চায় তারা শরিয়াসম্মত দেশে ইমিগ্রেশন এর জন্য আপিল করে সপরিবারে সেই দেশে বসবাস করুক। মনে মনে শরিয়া চেয়ে, বৌদ্ধ, হিন্দু, ইহুদি, খ্রিস্টান, নাসারাদের দেশের ইমিগ্রেশন লাইনে এইসব ভণ্ড মানুষদের দেখলে আমার লজ্জা লাগে।

সমাধান বলে যান প্রাজ্ঞ। রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাফিরের দেশে না থেকে আপনারা সবাই পাক আর পবিত্র শরিয়াসম্মত দেশে চলে গেলে কেমন হয়? সেখানে আপনারাও সুখে থাকবেন। আর যারা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি তারাও একটু গলাটা বাঁচিয়ে শান্তিতে নিজ নিজ দেশে থাকতে পারবে। কারণ, আপনাদের সাথে পৃথিবীর কোনও জাতের মানুষের শান্তির সহাবস্থানের নজির নেই। এটা সম্ভব নয়। এমনকী আপনারা নিজেরাও নিজের সাথে কামড়াকামড়ি করেন। এখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে এই বাংলাদেশের বৌদ্ধদের ওপরে খেপেছেন। এটাই বাকী ছিল হে ন্যায়বান। তাদেরকে থ্রেট দিচ্ছেন। মেন্টালি ফিজিক্যালি এবিউস করছেন। আপনার লজ্জা লাগে না? পৃথিবীর যে দেশেই যান সেখানে গিয়েই ঝামেলা করেন। নিজের দেশে থেকে পর্যন্ত নিজের ছেলে মেয়ের নাম নিজের ভাষায় না রেখে অন্য ভাষায় রাখেন। নিজের দেশের ভাষাকে পর্যন্ত লজ্জিত করেন অপমান করেন। নিজের সংস্কৃতিকে ঘৃণা করেন। নিজের ভাষাকে অপমান করেন, আপনি কীসের ন্যায় দেখাবেন হে ন্যায়পরায়ণ পাঠক? আপনার চেয়ে একজন বাংলাদেশের বৌদ্ধ অনেক বেশি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে আপনাকে দরকার নাই, যতোটা একজন দেশপ্রেমিক বৌদ্ধকে প্রয়োজন।

নিজের ভুল যে দেখে না, শোধরায় না, নিজের বা তার পূর্ব পুরুষের কোনও অন্যায় যারা স্বীকার করে না তারা কেমন জাতি? বাঙালি-তো এমন ছিলও না। নিজের বাড়িতে ডাকাত পড়লে পিটিয়ে মেরে ফেলতে আপনার দোষ নাই। আর অন্যের বাড়ির ডাকাতের গায়ে হাত তুললে- আহা মানুষ কত নিষ্ঠুর! আপনি যদি মানবিক হয়ে থাকেন- তাহলে রোহিঙ্গা এবং মায়ানমার উভয়ের পরিস্থিতি আপনার নিজের বাড়ির সদস্যের মতো আন্তরিকতা নিয়ে বিচার করবেন। আপনার অন্ধের মতো একপেশে মানবতাবাদ, মানবতাবাদের মতো পবিত্র বিষয়কেই যেনো প্রশ্নবিদ্ধ না করে। একটা প্রবাদ দিয়ে লেখাটা শুরু করেছিলাম আরেকটা প্রবাদ দিয়ে লেখাটার ইতি টানছি।

খনা বলেছেন-

দুগুনা দুত্তার, চৌগুনা যুযার।
অর্থঃ দুইগুণ দিলে চারগুণ ফেরত পাবে।

 

আগের পর্ব এখানে: 

https://nobojug.blog/node/3310

 

 

 

নোটঃ 
লেখাটায় ইচ্ছে করেই ডিটেইল ইনফরমেশন বাদ দিয়ে গেছি। যার আরো পড়ার বা জানার তেজ আছে, তারা ১ম পর্বে যান।

 

পাঠকদের জন্য সহায়ক রেফারেন্স:

Radical Rallies in Jakarta Call for Deadly Jihad in Myanmar
Hundreds of members of radical Islamic groups rally at Hotel Indonesia traffic circle to protest violence against Rohingya Muslims in Myanmar.
আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) দাবি করে যে তারা সন্ত্রাসবাদী সংগঠন নয়। তাদের হাতে ফুল থাকে। ফটো: Associated Press (AP)

 

১) Wiki: Islam in Myanmar

২) Wiki: Religion in Myanmar

৩) Wiki: Inter-Services Intelligence

৪) Rohingya News Agency: Radical Rallies in Jakarta Call for Deadly Jihad in Myanmar

৫) The Muslim Issue: Bangladeshi Rohingya rejects from Myanmar ‘rescued’ in Indonesian waters.

৬) PRI: Indonesia radicals rally for ‘Myanmar jihad’ after Jakarta bomb plot foiled.

৭) Jakarta Globe: Radical Rallies in Jakarta Call for Deadly Jihad in Myanmar.

৮) Associated Press (AP): Myanmar’s Rohingya Muslim militants deny terrorist links

অনি এর ব্লগ   ২৩৪ বার পঠিত