স্থানীয় মশাদের সহিংসতা প্রশমনে জিনোটাইপ ‘ভদ্র’ মশা নিয়ে আসা হয়। লন্ডন থেকে নিয়ে আসা এই ভদ্র মশাদের সম্বর্ধনা জানাতে একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশান এই সম্বর্ধনায় যোগ দিতে স্থানীয় মশাদের নিবন্ধিত হবার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়।

এডিস মশারা অনেকেই নিবন্ধিত হয়। কিন্তু সিটি কর্পোরেশানের ওষুধ খেয়ে নেশা করা কিছু বিপথগামী মশা উপহাস করে বলে, ভদ্র মশা সারাক্ষণ পুলিশ মশার প্রোটেকশান নিয়া তো ঘুরতে পারবে না; এমনিই দেখা হবে; দেখি কতদিন ভদ্র থাকে ওরা।

সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে বিলেতি ভদ্র মশাদের সঙ্গে কথা বার্তা শুরু হয় স্থানীয় মশাদের। এক লাস্যময়ী এডিস মশা গিয়ে ভদ্র মশাকে বলে, একবারেই কী চলে এলেন এখানে; নাকি আবার লন্ডনে ফিরবেন।

–দেখি কী হয়!

এই দেখি কী হয় বলাতে বিলেতি মশার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এডিস মশা। ফিরে এসে বন্ধুদের বলে, লন্ডনে ফিরবে কীনা ঠিক নাই; দেশে ভদ্র মশা তো মাইর খায়া মরবে! আমি আর ইন্টারেস্ট পাইতেছি না।

সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখে এক ভদ্র মশা, অহিংস আদর্শ ছাড়া সুন্দর সমাজ গড়া যায় না। সহিংসতা মানেই হত্যার ট্র্যাজেডি। তাই সহিংসতার পথ ছেড়ে অহিংসতার আলোর পথে আসুন।

এক ইতিহাস বিদ স্থানীয় মশা বলে, বৃটিশ মশার মুখে অহিংসতার কথা শুনতে চাইনা।

সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সহমত পোষণকারী মশা ধমক দেয়, এখন একটু ইতিহাস রাখেন তো ভাই। এই ভদ্র মশারা যদি অভদ্র মশাদের মোটিভেট কইরা সন্ত্রাসের পথ থিকা সরাইয়া আনতে পারে; আমগো তো ক্ষতি নাই।

ইতিহাস মশা বিক্ষুব্ধ হয়, আপনার দেশপ্রেম নাই ভাই। যে বৃটিশ এতো শোষণ কইয়া গেছে; সেই বৃটিশ মশা আনছেন আমগো ভদ্র বানাইতে। আরে ভাই আমগো দেশি মশার কোন দোষ নাই। আকাম-কুকাম সব করতেছে রোহিঙ্গা মশারা; আর দোষ হইতাছে আমগো। ষড়যন্ত্র চারিদিকে।

সম্বর্ধনা শেষে স্থানীয় এডিস মশারা বিলেতি মশার সঙ্গে সেলফি তুলতে শুরু করে।

পরদিন থেকে বিদেশি জিনোটাইপ মশার সঙ্গে স্থানীয় এডিস মশার মেলামেশা শুরু হয়। পার্কে তারা গল্প করার সময় এক নেতা মশা পুলিশ মশা নিয়ে এসে বলে, তোমরা পার্কে কী করতেছো! তোমাদের অভিভাবক মশাদের ফোন নাম্বার দেও। এই পুলিশ মশা এদের থানায় নিয়ে যাও।

ওদিকে শিবিরের মশা ফতোয়া দেয়, এইসব ইহুদি-নাসারা মশার সঙ্গে মেলামেশা হারাম। তুরস্ক থেকে ভদ্র মশা আনা হোক।

শিবসেনা মশা বলে, এতো খরচ করে লন্ডন থেকে মশা আনা কেন! ভারত থেকে মশা আনলে অনেক কম খরচ পড়তো।

এদিকে এডিস মশারা লন্ডনের মশাদের বাখরখানি খাওয়াতে নিয়ে যায়; লন্ডনের মশারা মুগ্ধ হয়ে বিবৃতি দেয়, এখানে কোন সন্ত্রাসী মশা নাই; থাকলে আমাদের চোখে পড়তো।

উন্নয়ন মশা বলে, আগেই কইছিলাম এইগুলি গুজব। আমগো হাজার বছরের শান্তিধামে সন্ত্রাসী মশা আইবো কই থিকা। সবই উন্নয়নের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

লন্ডনের মশার সঙ্গে এডিস মশার বন্ধুত্ব দেখে স্থানীয় এক বন্ড মশা ঈর্ষায় লন্ডনের মশাকে হত্যা করে ফেলে। এই বন্ড মশা সিটি কর্পোরেশানের ছিটানো ওষুধ খেয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলো। এই মাদকের ব্যাপারটা চাপা দিতে বন্ড মশাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়। আর স্থানীয় এডিস মশাটিকে গ্রেফতার করে এই মর্মে স্বীকারোক্তি নেয়া হয়, সে-ই লন্ডনের মশাটিকে হত্যা করেছে।

স্থানীয় কিছু মশার সঙ্গে লন্ডনের মশাদের বন্ধুত্ব হয়। স্থানীয় মশারা প্রস্তাব দেয়, তাদের গচ্ছিত রক্ত সুইস ব্লাড ব্যাংকে জমা রাখা যায় কীনা; লন্ডনে সেকেন্ড হোম তৈরির ব্যাপারে তারা কোন সাহায্য সহযোগিতা করতে পারবে কীনা! ইত্যাদি।

স্থানীয় এডিস মশাদের সঙ্গে লন্ডনের যে মশাদের বন্ধুত্ব হয়; তারা নানারকম টেনশানে পড়ে যায়। এডিস মশারা ঘন ঘন বিবাহের চাপ দেয়; বৃটেনের পাসপোর্টের জন্য চাপ দেয়। অন্য এডিস মশাদের সঙ্গে মিশলে সন্দেহ করে। বিয়ের অঙ্গীকার করে সম্ভ্রমহানি করেছে বলে সবাইকে জানিয়ে দেবে এরকম হুমকি দেয়। ছেলেধরা বলে গণপিটুনী দিয়ে দেবে এমন হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে।

বিপদে পড়ে বৃটিশ জিনোটাইপ মশারা দেশে ফিরে যাবার আবেদন করে। স্থানীয় বিজ্ঞানী মশা বলে, চীনে জিনোটাইপ মশা দিয়ে প্রাণঘাতী মশার বংশ বিস্তার রোধ করা গেলে; এখানে যাবে না কেন!

এক জিনোটাইপ মশা উত্তর দেয়, চীনে এতো টেনশান আর ষড়যন্ত্র মশা নাই বলে।

(এটি একটি কাল্পনিক গল্প; এর সঙ্গে বাস্তবের কোন মিল কাকতাল মাত্র)

0 Shares