Avatar

– দেশ ব্যাপী রাজাকারদের বিচার নিয়ে যে তুল কালাম কান্ড হচ্ছে, মনে হয় না কেউ এরা সজ্ঞানে সেটা করছে। মনে হয় স্রেফ হুজুগে মাতালের মত সেটা করছে। যদি এরা জানত রাজাকার কারা, কি তারা করেছিল তা হলে এরকম হুজুগে মাততে পারত না এরা যদি এরা সত্যিকার মুসলমান হয়ে থাকে। এবার দেখা যাক, কি এরা করেছিল ১৯৭১ সালে।

তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ তারা নারী নির্যাতন করেছিল,নিরীহ মানুষ খুন করেছিল, লুটতরাজ করেছিল। কিন্তু তারা কি সখের বশে সেটা করেছিল? মোটেও না। তারা এটা করেছিল আদর্শিক কারনে। কি সেই আদর্শিক কারন? তাদের আদর্শ ছিল ইসলাম ও ইসলাম রক্ষা। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভেঙ্গে দু’টি দেশ ভারত ও পাকিস্তান তৈরী হয়, সম্পূর্ন ধর্মের ভিত্তিতে। হিন্দুরা মিলে গঠন করে ভারত আর মুসলমানরা গঠন করে পাক্স্তিান।

ভৌগলিক কারনে পাকিস্তান পূর্ব ও পশ্চিম দুই অংশে বিভক্ত থাকলেও তাদের একত্রিত হওয়ার মূলে কাজ করেছিল ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ। এখানে মনে রাখতে হবে – ইসলাম কোন স্বাধীন দেশ বা জাতি ভিত্তিক হয় না। অর্থাৎ বাংলাদেশেী বা ভারতীয় মুসলমান হয় না। ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী – দুনিয়ার সব মুসলমানের একটাই পরিচয় তারা মুসলমান, আর তারা সবাই মিলে একটা জাতি ও দেশ গঠন করবে যা হবে খিলাফত, একজন খলিফা হবে এর প্রধান। মূলত: সে আদর্শের ভিত্তিতেই ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষের সব মুসলমান মিলে একটা রাষ্ট্র পাকিস্তান গঠন করে যার মূল অনুপ্রেরণা ছিল বিংশ শতকের গোড়ার দিকের খেলাফত আন্দোলন। কে না জানে কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের খেলাফত প্রথা উচ্ছেদ করলে দুনিয়ার সব মুসলমানেরা ভারতবর্ষের খেলাফত আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল।

এ খেলাফত আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কি ছিল? এটা ছিল দুনিয়ার সকল মুসলমানদের একটা খেলাফতের অধীনে নিয়ে আসা। সেটা আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার কারনে বা বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের কারনে সম্ভব হয় নি ঠিকই, তাই বলে ইসলামের বিধান তো আর পাল্টে যায় নি। সুতরাং ১৯৪৭ সালে যখন ইসলামকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান গঠন করা হয় তখন দুনিয়ার সব মুসলমানই এদের দিকে তাকিয়ে নুতন করে খেলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছিল। আর এদের আদর্শকেই লালন করত সেই সময়ের জামাতে ইসলামি সহ অন্যান্য ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের সময় জামাত ইসলামের মওদুদি বিরোধীতা করেছিল, কিন্তু সেটা কোন কারনে? তার লক্ষ্য ও স্বপ্ন ছিল সুদুর প্রসারী। তার স্বপ্ন ছিল – একদিন গোটা ভারতবর্ষ ইসলামি পতাকা তলে আসবে, ভারতবাসী ইসলাম কবুল করে একটা খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবে। তার ভয় ছিল মাঝখানে বিশাল ভারতকে রেখে ভৌগলিকভাবে বিভক্ত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান বেশীদিন টিকতে পারবে না, কারন তখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রকাশ্য শত্রুতা তৈরী হবে, আর যার ফলে পাকিস্তান রাষ্ট্রে অস্তিত্বই বিলুপ্ত হবে। তার আশংকা অমূলক ছিল না, আর যা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ সৃষ্টি হওয়ার মধ্য দিয়ে।

১৯৭১ সালে তাই জামাতে ইসলামি প্রানপন চেষ্টা করেছে ইসলামী পাকিস্তান রক্ষার, আর সেটা করেছে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আদর্শ  থেকেই, যা প্রতিটি ধর্মপ্রান মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য হওয়ার কথা।অথচ তখন স্বাধীনতার নামে মানুষ পাকিস্তান থেকে ভাগ হয়ে আলাদা রাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধ শুরু করে যা ছিল প্রকারান্তরে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। অর্থাৎ তখন প্রতিবেশী দেশ পৌত্তলিক ও মুশরিক ভারতের চক্রান্তে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করেছিল আর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে অস্ত্র ধরেছিল। ইসলামিক দৃষ্টি কোন থেকে যা মোনাফেকির সামিল। কারন কোরান ও হাদিসে বার বার হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে কোন অমুসলিমকে বন্ধু রূপে গ্রহণ না করার জন্য। যেমন- 

তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না। (সূরা নিসা ৪:৮৯)   

নবীর আমলে কিছু কিছু মক্কা বাসী মদিনায় এসে বলত তারা ইসলাম গ্রহণ করেছে কিন্তু মক্কায় ফিরে গিয়ে আবার কুরাইশদের সাথে যোগ দিত ও মদিনার মুসলমানদের গোপন তথ্য পাচার করত ও তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করত। এ প্রেক্ষিতেই এ আয়াত নাজিল হয়। আর বলা বাহুল্য এরা হলো সব কাফির মুনাফিক। এর শাস্তি কি তা কিন্তু আয়াতেই পরিস্কারভাবে বলা আছে। তাই এমতাবস্থায় যারাই সেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল, তারা সবাই ভারতের সাথে বন্ধুত্ব করে পাকিস্তান বা ইসলামি রাষ্ট্র তথা ইসলামের ক্ষতি করতে লিপ্ত ছিল। আর তাই আদর্শিক কারনেই ইসলামের আদর্শের অনুসারী মানুষের জন্য একান্ত কর্তব্য হয়ে দাড়ায় এসব কাফের মুনাফিকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারন করা ও তাদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই হত্যা করা। সেই সময়কার ইসলামের আদর্শে উজ্জীবিত রাজাকার, আল-বদররা ঠিক সে কাজটাই করেছে, যা ছিল ইসলাম সিদ্ধ। অর্থাৎ তারা প্রকৃত মুমিন মুসলমানের মত কাজ করেছিল।

মুনাফিকদেরকে কিভাবে শাস্তি দিতে হবে তার আরও নির্দেশ আছে কোরানে, যেমন-

হে নবী, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করুন এবং মুনাফেকদের সাথে তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন। তাদের ঠিকানা হল দোযখ এবং তাহল নিকৃষ্ট ঠিকানা। (সূরা আত তাওবা ৯:৭৩)

অনেকে বলতে পারে এ আদেশ শুধুমাত্র তখনকার নবীর আমলের জন্য। মোটেই তা নয়। কাফের ও মুশরিকদের প্রতি মুসলমানদের এ আচরণ সকল সময়ের জন্য। মুনাফেক যে কারা তার সুস্পষ্ট আরও  নির্দেশ আছে কোরানে –

সেসব মুনাফেককে সুসংবাদ শুনিয়ে দিন যে, তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।যারা মুসলমানদের বর্জন করে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু বানিয়ে নেয় এবং তাদেরই কাছে সম্মান প্রত্যাশা করে, অথচ যাবতীয় সম্মান শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য।সূরা নিসা-৪: ১৩৮-১৩৯

একথা ঐতিহাসিক সত্য যে, সেই ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ করছিল তারা সবাই ছিল মুশরিক ও পৌত্তলিক ভারতের বন্ধু আর যা আল্লাহর কাছে এক অমার্জনীয় অপরাধ।আর তারা কখনই তাদের রাজনৈতিক ইস্তেহারে বলেনি যে তারা ইসলাম রক্ষার জন্য যুদ্ধ করছে।তাদের রাজনৈতিক ইস্তেহারে ইসলাম শব্দটিও ছিল না।যদিও কায়দা করে বলা হয় সারা দেশের সিংহ ভাগ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে ছিল কিন্তু বাস্তবে তখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই তারা স্বাধীনতার যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। আর আওয়ামী লিগের ইস্তেহারে ইসলাম শব্দটি ছিল না, ছিল – বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র যার প্রতিটাই ইসলাম বিরোধী। ইসলাম কোন বাঙ্গালী বা ইন্ডিয়ান বা ইংরেজ জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে না, করে না ধর্ম নিরপেক্ষতাকেও। ইসলাম কঠোর ভাবে নাস্তিক্যবাদী সমাজতন্ত্রকে ঘৃণা করে। গণতন্ত্রের কোন স্থান নেই ইসলামে।সুতরাং যারা ভারতের মত পৌত্তলিক রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব বরণ করেছিল তারা সবাই মুনাফেক বা ভন্ড আর তাদের জন্য আল্লাহ কঠিন শাস্তি নির্ধারন করে রেখেছে কোরানে। আর তাই যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে ছিল তারা ছিল ইসলামিক দৃষ্টিকোন থেকে ১০০% মুনাফিক বা ভন্ড। পক্ষান্তরে যারা পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করছিল তথা রাজাকার আল বদর এরা ছিল প্রকৃত মুসলমান, খাঁটি আল্লাহর বান্দা। কারন তাদের ইস্তাহার ছিল ইসলাম রক্ষা। এখন প্রশ্ন হতে পারে – ইসলাম রক্ষা করতে গিয়ে তারা যে নারী ধর্ষণ, ঘরবাড়ীতে আগুন লাগানো সহ লুন্ঠন করেছিল সেটা কি অন্যায় নয়? মোটেও না।কোরানেই আল্লাহ এসব কাজকে বৈধ ঘোষণা করেছে, যেমন-

নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ। (সূরা নিসা- ৪:২৪)

যারা তাদের যৌন-অঙ্গকে সংযত রাখে। কিন্তু তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানাভূক্ত দাসীদের বেলায় তিরস্কৃত হবে না। (সুরা-আল মা আরিজ-৭০:২৯-৩০)

উক্ত ৪:২৪ আয়াতে কাদের সাথে সেক্স করা যাবে তার তালিকা বয়ান করছে পরম করুনাময় আল্লাহ। আর তা করতে গিয়ে সে বলছে- নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। অর্থাৎ দক্ষিন হস্ত দ্বারা অধিকারভুক্ত নারী ছাড়া বাকি সব সধবা নারী (বিবাহিতা নারী) নিষিদ্ধ যার সহজ অর্থ হলো – যাদেরকে যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে বা ক্রয়ের মাধ্যমে দখল করা হবে, তারা বিবাহিত হোক বা না হোক, তাদের সাথে সেক্স করা যাবে। আর বলা বাহুল্য এসব বন্দিনী নারীরা নিশ্চয়ই স্বেচ্ছায় খুব উৎফুল্ল চিত্তে বিজয়ীদের সাথে সেক্স করতে আসবে না। তার অর্থ বিজয়ীরা তাদেরকে ধর্ষণ বা বলৎকার করবে এবং তা আল্লাহর হুকুম। এখানে উল্লেখ্য, বন্দিনী নারী মাত্রই কিন্তু দাসী হিসাবে গণ্য হবে। অনেকে বলতে পারে – এটা একটা মনগড়া ব্যখ্যা। কিন্তু না, এর উদাহরণ আছে হাদিসে এবং মূলতঃ বন্দিনী নারীদের ধর্ষণ করা যাবে কি না তার ফয়সালা দিতেই আল্লাহ এ আয়াত নাজিল করেন। যেমন-

আবু সাদ খুদরি বর্ণিত: হুনায়নের যুদ্ধের সময় নবী একদল সৈন্যকে আওতাস এ পাঠালেন, তারা সেখানে যুদ্ধ করল ও একদল নারীকে বন্দী করল। কিন্তু সৈন্যরা বন্দিনী নারীদের সাথে সেক্স করতে ইতঃস্তত করছিল কারন তাদের পৌত্তলিক স্বামীরা তখনও জীবিত ছিল। আর তখনই নাজিল হলো – নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম।( সূরা ৪:২৪)।[সহি মুসলিম, বই ৮, হাদিস ৩৪৩২]

হুবহু এরকম আরও অনেকগুলো হাদিস আছে অন্যান্য সহি হাদিস বই গুলোতে যেমন-

Abu Said al-Khudri said: “The apostle of Allah sent a military expedition to Awtas on the occasion of the battle of Hunain. They met their enemy and fought with them. They defeated them and took them captives. Some of the Companions of the apostle of Allah were reluctant to have intercourse with the female captives in the presence of their husbands who were unbelievers. So Allah, the Exalted, sent down the Quranic verse, “And all married women (are forbidden) unto you save those (captives) whom your right hands possess”. That is to say, they are lawful for them when they complete their waiting period.” [The Quran verse is 4:24] (Abu Dawud 2:2150)

 

Abu Sirma said to Abu Sa’id al Khadri (Allah he pleased with him): 0 Abu Sa’id, did you hear Allah’s Messenger (may peace be upon him) mentioning al-‘azl? He said: Yes, and added: We went out with Allah’s Messenger (may peace be upon him) on the expedition to the Bi’l-Mustaliq and took captive some excellent Arab women; and we desired them, for we were suffering from the absence of our wives, (but at the same time) we also desired ransom for them. So we decided to have sexual intercourse with them but by observing ‘azl (Withdrawing the male sexual organ before emission of semen to avoid-conception). But we said: We are doing an act whereas Allah’s Messenger is amongst us; why not ask him? So we asked Allah’s Mes- senger (may peace be upon him), and he said: It does not matter if you do not do it, for every soul that is to be born up to the Day of Resurrection will be born। (Sahih Muslim 8:3371)

 

Narrated Ibn Muhairiz: I entered the Mosque and saw Abu Said Al-Khudri and sat beside him and asked him about Al-Azl (i.e. coitus interruptus). Abu Said said, “We went out with Allah’s Apostle for the Ghazwa of Banu Al-Mustaliq and we received captives from among the Arab captives and we desired women and celibacy became hard on us and we loved to do coitus interruptus. So when we intended to do coitus interrupt us, we said, ‘How can we do coitus interruptus before asking Allah’s Apostle who is present among us?” We asked (him) about it and he said, ‘It is better for you not to do so, for if any soul (till the Day of Resurrection) is predestined to exist, it will exist.” (Sahih Bukhari 5:59:459)

 

বিখ্যাত কোরান তাফসিরকারগণ, যেমন ইবনে কাথির, জালালা্ইন সবাই উক্ত ৪:২৪ আয়াতের ব্যখ্যা করতে যেয়ে একমত হয়েছে যে বন্দিনী নারীদের সাথে সেক্স করার বৈধতার জন্যই তা নাজিল হয়েছিল। সুতরাং রাজাকার আলবদররা যদি সেই ১৯৭১ সালে তাদের হাতে বন্দি নারীদেরকে ধর্ষণ করে থাকে, তাহলে সেটা ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যায় কিভাবে? এর পর থাকে লুন্ঠন?সেটাও আল্লাহ বৈধ করে গেছে।

আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, গনীমতের হুকুম। বলে দিন, গণীমতের মাল হল আল্লাহর এবং রসূলের। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য কর, যদি ঈমানদার হয়ে থাক। (সূরা আনফাল ৮:১)

আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোন বস্তু-সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনীমত হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্নীয়-স্বজনের জন্য এবং এতীম-অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য; যদি তোমাদের বিশ্বাস থাকে আল্লাহর উপর এবং সে বিষয়ের উপর যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি ফয়সালার দিনে, যেদিন সম্মুখীন হয়ে যায় উভয় সেনাদল। আর আল্লাহ সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল। (সূরা আনফাল ৮:৪১)

তাহলে কাফির মুনাফিকদের সাথে যুদ্ধে জয়ী হলে যে সব মালামাল অধিকৃত হবে তা গণীমতের মাল হিসাবে ভাগাভাগি করে নেয়া যাবে। শুধুমাত্র শর্ত হলো এক পঞ্চমাংশ পরিমান ‘বায়তুল মাল’-এ জমা দিতে হবে, কারন সেটা আসলে নবীর আমলে নবীর জন্য বরাদ্দ ছিল, কিন্তু এখন তো নবী নেই তাই তা বায়তুল মালে জমা দিতে হবে যা ব্যয় করা হবে এতিম ফকির মিশকিনদের জন্য। এ যদি হয় আল্লাহর বিধান তাহলে প্রশ্ন হলো – রাজাকার আল বদররা  ইসলামি বিধান মতে অন্যায় টা কি করল? বর্তমানে বাচ্চু রাজাকার, আব্দুল কাদের, গোলাম আযম, দেলোয়ার সাইদি ইত্যাদি সব বিখ্যাত ইসলামের সেবকদেরকে বর্তমান সরকার বিচার করে তাদেরকে ফাঁসি দিতে চাচ্ছে। আবার তারাই দাবী করছে তারা হলো ধর্মপ্রাণ মুসলমান। ধর্মপ্রাণ মুসলমান কিভাবে ইসলামের জন্য নিবেদিত-প্রান সৈনিকদেরকে বিচার করে ফাঁসি দিতে পারে?  সুতরাং মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে বিচার করলে ১৯৭১ সালে যারা নরহত্যা, নারী ধর্ষণ সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল তারা সত্যি সত্যি অপরাধি, কিন্তু ইসলামের দৃষ্টি কোন থেকে বিচার করলে তাদেরকে কি অপরাধী বলা যায়? তখন তো তাদেরকে মহান জিহাদী বলেই মনে হচ্ছে, তাই নয় কি ? এখন প্রশ্ন হলো – আমরা সাধারন মানুষরা তাদেরকে কোন্ দৃষ্টিকোন থেকে বিচার করব ? মানবিক নাকি ইসলামের দৃষ্টি কোন থেকে ?

এই যদি হয় প্রকৃত অবস্থা তাহলে আমরা যে সব সময় বলে বেড়াই ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম– তার কি হবে ?

ইসলাম যে কি পরিমান শান্তির ধর্ম তা বিস্তারিত জানতে নিচে ক্লিক করতে হবে-

বেগম জিয়া কর্তৃক নাস্তিক ঘোষণা এবং শান্তির ধর্ম ইসলাম

তাহলে বিষয়টি কি এমন যে খোদ ইসলামের মধ্যেই কোন রহস্য আছে ? কি সেই রহস্য? মুক্তমনে আসুন না আমরা সবাই কোরান হাদিস পড়াশুনা করি আর প্রকৃত ইসলাম জানি । আর কতদিন অন্ধের মত ধর্মকে অনুসরণ করব ? যা অনুসরণ করব তা কেন একটু যাচাই করে দেখব না ?

0 Shares

ভবঘুরে এর ব্লগ   ৭০ বার পঠিত