Avatar

[[{“type”:”media”,”view_mode”:”media_large”,”fid”:”85″,”attributes”:{“alt”:”লন্ডন অলিম্পিকে মুসলিম সন্ত্রাসী আক্রমণ তৎপরতা”,”class”:”media-image”,”height”:”230″,”style”:”width: 280px; height: 230px; float: right; margin: 3px 5px; “,”typeof”:”foaf:Image”,”width”:”280″}}]]এবার লন্ডনে আয়োজিত অতি সফল অলিম্পিককে বহু কারণে ইসলামি অলিম্পিকও বলা যেতে পারে। কেননা ইসলামের মতো অন্য কোন ধর্মই অলিম্পিকের পরিচালনাকে এমন ওতপ্রোতভাবে প্রভাবিত করে নি। নিম্নে সে-সব প্রভাবের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হল।

১) জিহাদ আক্রমণ প্রকল্পঃ অলিম্পিক জিহাদি আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছে দীর্ঘদিন। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অলিম্পিক চলাকালে আল-কায়েদা জিহাদিগণ সেখানে আমেরিকান এরোপ্লেইন দিয়ে আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেছিল, যা ব্রিটিশ পুশিল সময়মত উন্মোচিত ও বিফল করে।

ওদিকে স্পেইন-ভিত্তিক আরেক আল-কায়েদা জিহাদি দল অলিম্পিকের সময় রিমোট-কন্ট্রোলড এ্যারোপ্লেইন দিয়ে জিব্রালটারের “পুর্টা দ্যা ইউরোপা” শপিং কম্পেক্স-এ বোমা হামলার করার পরিকল্পনা করেছিল। সে পরিকল্পনার সাথে জড়িতে তিন মুসলিম সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে স্পেনের পুলিশ। পরিকল্পনা-কারীদের ধারনা ছিল যে, অলিম্পিক চলাকালীন ব্রিটেনের কাছাকাছি এ আক্রমণ সেখানে গোলমাল সৃষ্টি করবে।

‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি তুলে মুসলিম যুবকের ‘অলিম্পিক মশাল’ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা’র ঘটনা ইতিমধ্যে নবযুগে ব্লগে প্রকাশিত হয়েছে।

ওদিকে ১৯৭২ সালে মিউনিক অলিম্পিক-এ ফিলিস্তিনি ইসলামি সন্ত্রাসীদের আক্রমণে মৃতদের (১১ জন ইসরাইলী প্রতিযোগী ও তাদের কোচগণ, ১ জন জার্মান পুলিশ) স্মরণে ৪০তম বার্ষিকীতে “এক মিনিট”-এর নিরবতা পালনের দাবী অলিম্পিক কমিটি কর্তৃক প্রত্যাখ্যানও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গী থেকে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শুনা যায়, নিরবতা পালন হলে মুসলিম দেশগুলো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং ফিলিস্তিনি প্রতিযোগীরা পুরো অলিম্পিক বর্জনের হুমকি দিয়েছিল।

২) সকল মুসলিম দেশের মহিলা প্রতিযোগী প্রেরণঃ ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গী থেকে ‘লন্ডন অলিম্পিক ২০১২’ এ কারণে ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে যে, এ বছরই প্রথমবারের মত সকল মুসলিম দেশ, তথা বিশ্বের সব দেশ মহিলা প্রতিযোগী পাঠায়। এর আগে কাতার ও সৌদি আরব কখনোই মহিলা এ্যাথলিট প্রেরণ করে নি অলিম্পিকে। এবার উভয় দেশই মহিলা প্রতিযোগী পাঠিয়েছিল। উল্লেখ্য, অনেক সৌদি নাগরিক সৌদি মহিলা প্রতিযোগী দু’জনকে বেশ্যা বলে প্রচারণা চালায় ইন্টারনেটে। অন্যদিকে, তাদের সমর্থক সৌদিরা মহিলাদ্বয়কে বীরাঙ্গনা আখ্যা দিয়ে সে-দেশে নারীমুক্তির অগ্রপথিক হিসেবে বিবেচনা করে। (দেখুন নবযুগে প্রকাশিত সৌদি মহিলা অলিম্পিক খেলোয়াররা “বেশ্যা” নয় “বীরাঙ্গনা” রচনাটি)।

[[{“type”:”media”,”view_mode”:”media_large”,”fid”:”86″,”attributes”:{“alt”:”শরীয়ত অনুমোদিত পোশালে প্রথম সৌদি মহিলা অলিম্পিক প্রতিযোগী”,”class”:”media-image”,”height”:”204″,”style”:”width: 280px; height: 204px; margin: 3px 5px; float: right; “,”typeof”:”foaf:Image”,”width”:”280″}}]]তবে এ প্রসংগে দু’টি বিষয় স্মরণীয় হয়ে থাকবেঃ ১) সৌদি আরব মহিলা প্রতিযোগী পাঠায় এ শর্তে যে, তাদের মহিলা প্রতিযোগীতদের সাথে একজন করে পুরুষ গার্জেন থাকতে দিতে হবে, এবং তাদেরকে শরীয়া মাফিক পোষাক পড়ার সুযোগ দিতে হবে। ২) এ প্রসঙ্গে আরও স্মরণীয় হয়ে যে, অলিম্পিকের চিরাচরিত নিয়ম ভংগ করে নিরাপত্তার ঝুকি উপেক্ষা কোরে সৌদি তথা মুসলিম মহিলাদেরকে হিজাব/বোরখা পোরে জুডোতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

৩) অলিম্পিক গাও-এর সর্বত্র ইসলাম চর্চার সুবিধার বন্দোবোস্তঃ এবারের লন্ডন অলিম্পিক ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে প্রথমবারের মত ‘অলিম্পিক গ্রাম’-এর সর্বত্র নামাজ-রোজার ব্যবস্থা রাখার জন্য। সুনির্দিষ্ট স্থানে মুসলমানদের নামাজের স্থান বরাদ্দ রাখা হয়, রোয়িং (rowing), ক্যানুয়িং (canoeing) ও সেইলিং (sailing) গ্রামগুলোতে পর্যাপ্ত প্রার্থনার কামরা রাখা হয়। এ্যাথলিট গ্রামের রেস্তোরা ও খাবারের ব্যবস্থাপনাগুলোর সর্বত্র ২৪-ঘন্টা হালাল খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়, যাতে কোরে মুসলিম প্রতিযোগী ও দর্শকরা সেহরী ও ইফতার ইত্যাদি উপলক্ষ্যে হালাল খাবার পেতে বেগ না পায়।

৪) মুসলিমদের ইসরাইলী প্রতিযোগীদের থেকে পৃথক গণ্ডির দাবীঃ এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, লেবানিজ জুডো টিম প্রশিক্ষণের সময় ইসরাইলীদের থেকে পৃথক ব্যবস্থার দাবী করে। ইসরাইলীরা দৃষ্টি-সীমার থাকলে তারা প্রশিক্ষণ করবে না বলে অভিযোগ তুলে। অলিম্পিক কর্তৃপক্ষ সে দাবী মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে।

অনুরূপ এক ঘটনায়, আফগানিস্তান থেকে ফিরে আসা এক ব্রিটিশ সৈন্য, যিনি অলিম্পিকে প্রতিরক্ষা-কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন, তাকে “শিশু হত্যাকারী” বলা হয় ও তার গায়ে থুথু ছুড়ে অপমানিত কোরে এক ‘এশিয়ান’, মানে ‘মুসলিম’।

৫) সোমালী প্রতিযোগীতদেরকে হুমকিঃ লন্ডন অলিম্পিকে দু’জন সোমালি প্রতিযোগী মিঃ মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ (১৫০০ মিটার দৌড়) এবং মিস যমযম মুহাম্মদ ফারাহ (৪০০ মিটার দৌড়) সোমালিয়ার মৌলবাদী জঙ্গীদের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছে অলিম্পিকে অংশগ্রহণের জন্য। মিস ফারাহ লন্ডনের ইউনিভার্সাল টেলিভিশনকে বলেন, তাকেই  বিশেষ লক্ষ্য বানানো হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোমালি পতাকা বহন করেছে বোলে, এবং দৌড়ানোর সময় শরীরের অংশবিশেষ উন্মুক্ত করার জন্য, যদিও সে মাথায় হিজাব এবং হাতে-পায়ে মোজা পরেছিল। জানায় মিস ফারাহঃ

ফেইসবুক ও ফোনের মাধ্যমে বহু হুমকি আসছে। দেশে আমার বাবা-মা’কেও ফোন করে বলা হয়েছে যে, আমি যা করেছি তা জঘন্য কাজ এবং ফেরার পর আমাকে শায়েস্তা করবে তারা।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে সোমালিয়ার অলিম্পিক কমিটির সভাপতি আদেন ইয়াবারো উইস এবং সোমালিয়া ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান সাইদ মুহাম্মদ নূরকে এক আত্মঘাতী হামলায় হত্যা করে ইসলামী চরমপন্থীরা।

[[{“type”:”media”,”view_mode”:”media_large”,”fid”:”87″,”attributes”:{“alt”:”লন্ডন অলিম্পিক ‘নো শরীয়া’ নগ্ন-উলংগ বিক্ষোভ, ইসলামি ম্যারাথন “,”class”:”media-image”,”height”:”312″,”style”:”width: 400px; height: 312px; float: right; margin: 3px 5px; “,”typeof”:”foaf:Image”,”width”:”400″}}]]ইসলামি শাসন-বিরোধী উলংগ বিক্ষোভঃ উপরে বর্ণিত হলো এবারের লন্ডন অলিম্পিকে ইসলামি জয়জয়কারের দিক। তবে কিছু ক্ষীণ বিক্ষোভের মুখোমুখিও হতে হয়েছে ইসলামকে। ইউক্রেইনে উদ্ভূত “ফেমেন” নামক আন্তর্জাতিক নারীবাদী সংঘের চার ফ্রান্স সদস্য উলংগ হয়ে লন্ডনে এক ‘ইসলামি ম্যারাথন’-এ অংশগ্রহণ করে মুসলিম বিশ্বে নারীদের নির্যাতন-নিষ্পেষণ ও অধিকারহরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ। আরব ও ইসলামী বিশ্বে জন্মগ্রহণকারী সে চার বিক্ষোভকারী মহিলার নগ্ন বুকে লিখা ছিল “No Sharia”, অর্থাৎ ‘শরীয়ত নিপাত যাক’ — কেননা তা মুসলিম সমাজে নারীর অধিকারহরন ও বঞ্চনার জন্য দায়ী।

ফেমেন বিক্ষোভ সংগঠনকারী ইনা শেবচেঙ্কো ব্রিটেন-ভিত্তিক হাফিংটন পোস্ট পত্রিকাকে জানায়,

“আমরা বলতে চাচ্ছি যে, কিছু কিছু মুসলিম দেশ কেবলই লোক-দেখানোর জন্য দু’এক জন মহিলা প্রতিযোগী অলিম্পিকে পাঠায় সে-সব দেশে লাখো-কোটি নারীর দুর্ভাগ্যের চিত্রকে ধবলীকরণের লক্ষ্যে মাত্র। তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে; তাদেরকে হত্যা করা হয় মান-সম্মানের নামে, করা হয় ধর্ষণ।…

ফেমেন দাবী করে যে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি যেন ইসলামি রাষ্ট্র-কর্তৃক নারী-নির্যাতনের নিন্দা করে।

ফেমেন চায় যে, যেসব দেশ শরীয়তী আইন প্রয়োগ করে সেসব দেশকে অলিম্পিক প্রতিযোগীতা থেকে বহিষ্কার করা হোক, কেননা এ আইন অমানবিক, যা অলিম্পিকের “শান্তি ও উদারতা” মূলক নীতির পরিপন্থী।

অলিম্পিক কমিটির সহায়তায় এসব ইসলামি সরকারগুলো অলিম্পিকে দু’এক মহিলার প্রতিযোগীর অংশগ্রহণকে লাখো নির্যাতিত ও ভোক্তভোগী নারীর দুর্দশা ঢাকার চেষ্টা করে।

অলিম্পিক কমিটি যদি এভাবে মৌলবাদী ইসলামের সাথে লুকোচুরি বা চিনালীপনা খেলা খেলতে থাকে, তাহলে অলিম্পিকে নতুন প্রতিযোগীতা হিসেবে যেমন পাথর-ছুড়ে হত্যা, দ্রুত-ধর্ষণ ইত্যাদি যুক্ত হবে।”

এটা সুস্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও পুরুষ সমাজ এবারের অলিম্পিকে ইসলামের যে জয়জয়কার চলেছে তাকে মেনে নিয়েছে, এমনকি মদদও দিয়েছে। কিন্তু নারীরা ইসলামের সে জয়জয়কারকে কণ্টকাকীর্ণ করতে চেয়েছে।

কে জিতবে এ লড়াইয়ে? পুরুষতন্ত্রের মদদ-পুষ্ট ইসলাম, না প্রতিপক্ষ নারী?

0 Shares

অনুবাদক এর ব্লগ   ৩২ বার পঠিত