Avatar

আদমই কি পৃথিবীর প্রথম মানুষ? মহাভারতের কাহিনীর মতই এক চমকপ্রদ কল্পনাপ্রসূত চরিত্র এই আদম। একই কাহিনী দিয়ে শুরু করা আব্রাহামিক ধর্মগুলোর কোন সত্যতা নেই। দুনিয়ার তাবৎ ধর্মই আনবিক মিথ্যা দিয়ে শুরু। এটি একটি বিস্ময়ের ব্যাপার – সারা দুনিয়ার এক বৃহৎ অংশ প্রচন্ড মিথ্যাকে বিশ্বাস করে বুদ হয়ে আছে। এরা সবাই মানসিক প্রতিবন্দী। মানুষের মত এত আজব জীব আর দ্বিতীয়টি নেই। একবিংশ শতাব্দীর টেকনোলজিক্যাল বিশ্বে সবচেয়ে বড় বিস্ময় হল – মিথ্যাকেই আকড়ে ধরে থাকা বিশ্বাসী মানবকুল।

আব্রাহামিক রিলিজিয়ন গুলোতে স্পষ্ট বর্নিত আছে – গড, আল্লাহ, বা Yahweh এই পৃথিবীটা ছয় দিনে বানালেন। তারপর মাটি দিয়ে বিশ পচিশ বছরের এক মুর্তি বানালেন। কানে ফু দিলেন। মানব সৃষ্টি হল। নাম হল আদম। একটি স্ত্রীলোক বানালেন। নাম – ইভ বা হাওয়া।  তারপর একটা লুকোচুরি খেলার ব্যবস্থা হল। অতঃপর দুজনকে পৃথিবীতে ছেড়ে দেওয়া হল। যীশু খ্রীস্টের জন্মের কত বছর আগের এই কাহিনীটি?

Third Millennium Press Limited, 1997 প্রকাশিত বইয়ের প্রচ্ছদটি দেখুন। ISBN 0-7607-0970-X. মাত্র এক পাতার বই। পাতাটি ভাঁজ করা। টানলে প্রায় বিশ পচিশ ফুট লম্বা হয়। আদম থেকে শুরু করে বিল ক্লিন্টন পর্য্যন্ত পৃথিবীর তাবৎ খবর আছে এই এক পাতার বইয়ে।

আদম আর হাওয়ার আকর্ষনীয় আঁকা ছবি দিয়ে শুরু। তখন কাপড়-চোপড় ছিল না। তাই এই দশা। দেখতে আমাদের মতই ছিলেন এরা। গাছপালা দৃষ্টে মনে হয় উচ্চতাও ছিল আমাদের মতই। আদি গল্পকার এদের মানুষ করেই বানিয়েছিলেন। কিন্তু আয়ূষ্কাল দিয়েছিলেন খুবই বেশী।

ছবিটির নীচে টাইম স্কেল অনুযায়ী যীশু খ্রিস্টের জন্মের মাত্র ৪০০৪ বছর আগে আদম এবং হাওয়াকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়। তাহলে পৃথিবীতে প্রথম মানুষের উদ্ভব হয় বর্তমান বছর থেকে মাত্র (৪০০৪ + ২০১২) ৬০১৬ বছর আগে। প্রথম মানুষটির আয়ূষ্কাল দেখানো হয়েছে  ৯৩০ বছর। এক রসিক গাল্পিক এই কাজটি করে থাকবেন। তিনি ভাবতে পারেন নি, একদিন তার গল্প থেকেই ঈশ্বর সৃষ্টি হবে, সৃষ্টি হবে একাধিক ধর্ম। পৃথিবীর কোটি কোটি লোক বিশ্বাস করবে এই কাহিনী। কেউ চ্যালেঞ্জ করলে মেরে কেটে ভুত বানিয়ে ছাড়বে।

তখন সততই পুত্র সন্তান জন্ম হত। বংশ বিস্তার কী ভাবে হত এই প্রশ্ন কেউ করত না। এখনও করে না। যীশুর জন্মের ১৯০০-১৮০০ বছর পূর্বের সময়কালে আব্রাহাম বেঁচেছিলেন ১৭৫, ইসমাইল ১৩৭, আইজাক ১৮০ নূহ বেঁচেছিলেন ৯৫০ বছর যীশুর জন্মের মাত্র ২৫০০ বছর আগে। মুসা মারা গেলেন যীশুর জন্মের ১৪২১ বছর আগে ১২০ বিশ বছর আগে। কালে কালে কাহিনীগুলোতে আয়ূষ্কাল স্বাভাবিক হতে থাকে।

নীচের তালিকাটি দেখুন।  আজ থেকে যত বছর আগে সক্রেটিস জন্মেছিলেন, আদম সক্রেটিসের তুলনায় মোটামুটি তত বছর আগে পয়দা হয়েছিলেন। কিন্তু বেঁচেছিলেন ৯৩০ বছর। সক্রেটিস বাঁচলেন স্বাভাবিক মাত্রায় মাত্র ৭০ বছর। নূহ নবী খ্রিষ্টপূর্ব ১৯৯৮ সালে মারা গেলেন।   সক্রেটিসের মৃত্যুর মাত্র ১৫৯৯ বছর আগে। নূহ বাঁচলেন ৯৫০ বছর আর সক্রেটিস আমাদের মতই মাত্র ৭০ বছর। কী সব কাহিনী!

গল্পের কাঠামো মন্দ ছিল না। কিন্তু একেবারে রসহীন।  সেকালের গল্পগুলোতে রোমান্টিকতা ছিল না। আজ কোটি কোটি মানুষ বিশ্বাস করে আদমই পৃথিবীর প্রথম মানব। যে ঈশ্বরটিকে আদমের স্রষ্টা বিশ্বাস করা হয়, তিনিই নাকি এই পৃথিবীটা বানিয়েছেন।  

প্রফেসর আব্দুস সালাম electroweak unification of the electromagnetic and weak forces এর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল প্রাইজ পেলেন। ভাবা যায় না, তিনিও  বিশ্বাস করতেন আদমই পৃথিবীর প্রথম মানব। যদিও তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত,  পদার্থ বিজ্ঞানী হিসেবে নীচের সংবাদটি নিশ্চয় তিনি অবিশ্বাস করতে পারতেন না।

By David Keys, Archaeology Correspondent and James Burleigh
Sunday 06 March 2005
Scientists in Ethiopia have found the world’s oldest early human skeleton. Dating back 3.8-4 million years, it still has its ribs, vertebrae and pelvis, according to reports from Addis Ababa.

তিনি ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের সংঘাত দেখতে পেতেন না। স্টিফেন হকিং বলেছেন বিশ্ব সৃষ্টিতে ঈশ্বরের দরকার নেই। তাঁর জন্ম ভারতে হলে তিনি শিব লিঙ্গে* দুধ ঢালতে ঢালতেই এ কথাটি বলতেন। ধর্ম এমন একটি আবেশকারী বিষয় যে প্রফেসর সালামের মত মানুষও জানতেন না যে তিনি পরস্পর বিরোধী সত্ত্বায় বিশ্বাসী একজন বিকৃত চরিত্রের মানুষ ছিলেন। তাঁর কাছে মাত্র ছয় হাজার বছরের আগের আদমের গল্পটি যেমন সত্য, তেমনি ৩.৮ থেকে ৪ মিলিয়ন আগে মানুষের অস্তিত্বও সত্য।  পরস্পর বিরোধিতার এটি একটি বিরাট উদাহরণ।

মাত্র ৬০১৬ বছর আগে পৃথিবীতে সর্ব প্রথম মানুষের আবির্ভাব হয়। এই দাবীটি মিথ্যা।  যে কথিত ঈশ্বর আদম সৃষ্টি করলেন তিনি মিথ্যা। সেই মিথ্যা ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে যে ধর্ম সমূহের উদ্ভব হয়েছে তাও মিথ্যা। এই মিথ্যা ধর্মকে বিশ্বাস করে লতানো গাছের মত ঝুলে আছে বিলিয়ন বিলিয়ন মানসিক প্রতিবন্দী বিভ্রান্তরা।

যারা এইসব অলীক ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে ধর্মগুলো সৃষ্টি করেছে তারা মানুষকে বড়ই ঠকিয়েছে। প্রতিবন্দী মানুষগুলো ঠকছে।  এরা ৩.৮ থেকে ৪ মিলিয়ন বছরে আগে এই পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্বকেও বিশ্বাস করছে।  আবার আদমকেও প্রথম মানব হিসেবে বিশ্বাস করছে। ধর্মীয় মোহাচ্ছন্নতা থেকে যে বিশ্বাস মানুষের মগজে স্থায়ী বাসা বেঁধে আছে,  তা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।

*পূনশ্চঃ  শিবলিঙ্গের বিবর্তন ঘটেছে। হিউস্টন দূর্গাবাড়ী মন্দিরের শিবলিংগটি ধুতি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ওরা আমাকে এখনও মার দেয়নি।

এন সরকার এর ব্লগ   ৭১ বার পঠিত