আমরা নেটিজেনরা এরকম কিছু ভিডিও দেখেছি যেমন অসমের এক বাঙালি হিন্দু বৃদ্ধা অন্নবালা রায়কে পুলিশ ফ্যামিলি থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্পে।
ব্যাকগ্রাউন্ড- সাউন্ডে মড়া- কান্না ।

ক্যাপশনে : বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল শুধু মুসলিমদের দেশ থেকে তাড়ানোর হবে। এখন বিশ্বাস ঘাতকতা করছে। কথা রাখেনি ( সুনীল আগেই সাবধান করে গেছেন কেউ কথা রাখেনা বলে ) আহা,বুক তোলপাড় হওয়ার মতো কথা।
মানবিক হওয়ার আকুতি!

এখন কথা হচ্ছে আমরা ১০০% বোকাচোদা, গান্ডু, অসুস্থ অমানুষ, গরূ হয়ে উঠেছি।
প্রতিশ্রুতি মতো শুধু মুসলিমদের তাড়ানো হলে আমাদের কোন প্রবলেম ছিলনা?
আজীব হ্যায় মাইরি!

মুসলিমরা কি আরবের ডি এন এ বহন করছে? ঘুসব্যায়ঠি? মক্কা থেকে সোজা এসে হাজির ?
তারাও তো অন্য ইন্ডিজিনাস এর মতো এখানেই জন্মে জন্মে ও মরে মরে গেছে যুগ যুগ ধরে।

পিউর দেশী পটল, ছাগল, মুরগী, বাসমতি ধান, পোকা ধরা বেগুনের মতো। ছোট খাটো, কালো, মেটে,উসকো খুস্কো,কৃমি,
পেটের ব্যামো, আ্যসিডিটি, ঠোঁটের উপর গোঁফ একদম এক । কোন পার্থক্য নেই!

মাটির দখলদারির সাথে সাথে “মানষ” জগতের দখলদারি না নিতে পারলে মানুষ কে দাস ও ভক্ত বানানো যায়না ।
যেটা শাসকের জন্য পার্মানেন্ট টেনশনের কারণ।

তাই রাজানুগ্রহে মগজ পলিউটেড করার আউট সোর্সড কাজটা করে যাচ্ছে “ধর্ম”।ধর্মের সাথে রাজতন্ত্র, সামন্ততন্ত্র, বা গনতান্ত্রিক কাঠামোয় কোন
প্রবলেম হয়নি বরং হাতে হাত মিলিয়ে পাবলিক ধর্ষণ করে গেছে একসাথে। কিন্তু সমাজতন্ত্রে হয়েছে প্রবলেম।
ধর্মের আসল চেহারা ধরা পড়ে যাওয়ায়।

এই দখলদারিতে সব ধর্ম সামিল। নিজের নিজের খোঁয়াড়ের আইডেন্টিটির কারনে টিকি,দাড়ি,তিলক,ক্রশ, রক্ত বসন, গেরুয়া, এবং মন্দির, মসজিদের ব্যবস্থা যা চিরকালীন সন্ত্রাস বাদী আখড়া। আমাদের মতো আল্ট্রা মডার্নরাও গদগদ লাইনে।
আশ্চর্যের বিষয় ধর্ম সারা বিশ্বে আজকের মতো কখনো
মাথায় উঠে গলা কাটেনি।

আমরা জানি এই মুসলিম মানুষগুলো সব বেজন্মা,এরা পূর্বে হিন্দু ছিল (ছোট জাতের!),বোদ্ধ ছিল, আদিবাসী ছিল,বা কিছুই ছিল না (যখন আদোও মানুষ কিনা সন্দেহ ছিল) এই হওয়া বা না হওয়া গুলোই বিজ্ঞান যন্ত্রের সাহায্য না পাওয়ায় ধর্ম দাঁত নখ দেখাতে পারেনি।
ব্যবসাও জমেনি।

এখন সভ্য(?) মানুষকে দিয়ে বর্বর চিন্তা করানো যায়।
এই মুসলিম মানুষগুলো বাংলা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানেনা।
মাছ, লাল শাক, নটে শাক, মুরগীর ঠ্যাং, মসুরের ঝোল ,আলুর ভর্তা খেয়েই বাঁচে। ভালোবাসে এবং “হিন্দু” শাসক নিয়ে তাদের কোন সমস্যা নেই।
এখনো “ভালো হিন্দুর” ভরসায় দিন যাপন করছে।

আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা একটা অশিক্ষিত, অলস,পরশ্রীকাতর, প্রিটেনশাস গান্ডু জাতি।
রেনেসাঁর আশীর্বাদ আমরা পেয়েছি, কিন্তু গ্রাস- রূটে পৌঁছয়নি সে আলো ।
তাতে আমাদের কিছু যায় আসে নি।

মুষ্টিমেয় লোকের গোষ্ঠী বানিয়ে ও ন্যাকা রবীন্দ্র সংগীত কপচিয়ে সাংস্কৃতিবান ও শিক্ষিত জাতি ভেবে ল্যাজ নেড়ে গেছি।
আমাদের কোন চরিত্র নেই, মানুষের প্রতি ভালোবাসা।
পাখি দেখলে এয়ার গান দিয়ে মেরে রোষ্ট বানিয়ে খেতে চাই।
কয়েক বছর আগেও শিক্ষিত বাঙালি প্রকাশ্যে ধর্মাচারন
করতো না। কমুনিস্ট হওয়ার দরকার পড়েনি এর জন্য, শিক্ষিত হওয়ার পরিচয়েই।
এখন শা ..ফেবুর ভদ্রলোকদের ও উৎকট ধর্ম ভক্তি দেখে ভিমরি খাওয়ার দশা।

ইংরেজ যেমন বুঝেছিল, এই গুজুরাও বুঝেছে বাঙালির
ধ্বজভঙ্গ রোগ। বাঙালির কোনো চরিত্র নেই। বাগাড়ম্বর যতো, ততো বর্ষাবে না!
বার বার ভাগ করা যায়, বে-ঘর করা যায় বাঙালিকে। তাই এক গুজু বাঙলার মাটিতে দাঁড়িয়ে হুমকি দেওয়ার সাহস পায়।
আমাদের বিপ্লবী রক্ত ডিপ ফ্রিজে।

মন্বন্তরে লক্ষ মানুষের মৃত্যু আমাদের “আকালের সন্ধান”
বানাতে উদ্বুদ্ধ করে।
স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘চড়ে’ গিয়ে রক্ত বিপ্লব করে ফাঁসি যাবে, আবার এদেরই কেউ ধরিয়ে দেবে। এবং পাওয়ারে যাবেনা, কেন্দ্রের বিমাতৃ সুলভ আচরনে দুঃখিত হয়ে থাকবে বছরের পর বছর। সো, ডিভাইড এন্ড রুল!

চলেছে, চলছে, চলবে।

সত্যি, শুধু মুসলমানদের তাড়াতে পারলে এবারের পূজো উৎসব জমে ক্ষীর হয়ে যেতো!
সবই কপাল! বাঁশ কি আর মুখ চেনে , পশ্চাত তার লক্ষ্য।

সংবিধানে নাগরিকত্বের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই।
কারণ সংবিধান ভারতের শিক্ষিত স্বাধীনতা সংগ্রামী ও দেশের রুপকাররা বানিয়ছিলেন। দেশ মানে যাঁরা মানুষ জানতেন।
ল্যাঙট পরা ভারতকে জগত সভায় বসাতে পেরেছিলেন শিক্ষায়, বিজ্ঞানে, মেধায় ,এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচারে।
লুপ-হোলস মেনে নিয়েও বলা যায়।

ধর্মের প্রধান কাজ সাইন্সের বিরোধিতা করা । কিন্তু ধর্মই সবচেয়ে বেশী ব্যাবহার ও অপব্যবহার করছে সাইন্সের
ইনভেনশন, যন্ত্র। ঝাঁপিয়ে পড়েছে। মিডিয়া তার প্রমাণ।
স্মার্ট ফোনের সাহায্য ধর্মীয় কুসংস্কার ছড়াচ্ছে!
পানুও দেখছে!

“আমার ধর্ম শ্রেষ্ঠ” ( মোস্ট সন্ত্রাসবাদী উচ্চারণ) এই বাক্য যখন মগজে ঢোকানো হয়, তার মানে অন্যরা ” বাল”! সিধা হিসেব। তাই ধর্ম কখনও মানুষের ছিলনা এবং মানবতার শত্রু।

জাস্ট স্পট ইট!

যে ভারত শ্রীলঙ্কান, আফগানিস্তান, মায়ানমারের মানুষ বা টিবেটিয়ানদের আশ্রয় দিয়েছে,
সেই ভারভ নিজের দেশের মানুষকে রাষ্ট্র হীন করার চক্রান্তে। “মা- যা ছিলেন, মা যা হইয়াছেন !”

যেটা দিয়ে শুরু করেছিলাম, আসাম-
ভাবতে ঘেন্না করে যে অসমের এই বাঙালি হিন্দুরা, বাঙালি মুসলিমদের দেশ থেকে তাড়ানোর শর্তের পক্ষে ভোট দিয়েছিল।
একদল মানুষকে অসহায় রাষ্ট্রহীন করার আনন্দে খুশি ছিল। এটাকে চরিত্র বলে ? কারণটা কি শুধুই দারিদ্র্য ও অশিক্ষা!
ভগবানকে বলেও তো মুসলিমদের জন্মানোই বন্ধ করে দেওয়া যেতো।

বলছিলাম কি এবার তো আর ভাতের নয় জাতের লড়াই,
বাঙালির সম্মানের লড়াই। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় সমগ্র বাঙালির পরাজয় ছিল। সকল বাঙালি কেঁদেছে।
আবারও বাঙালি জাতিসত্ত্বার সম্মানের প্রশ্ন।
বাঙালির শিক্ষা সংস্কৃতির অহংকারকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার
প্লান। বর্গী তাড়াও।ভাবা প্রাকটিস কর বাঙালি।

ঠিক কোন কারণে আপনি এদেশের নাগরিক,অন্যরা নয়?
যে কোন প্রানী জন্ম সুত্রে সেই মাটির অধিকারি। আপনি
কোন বাড়তি যোগ্যতায় নয়, সুবিধাবাদী শ্রেনীর হওয়ায়
নাগরিক। তাই বাকিদের দিকে আঙ্গুল তুলবেন না।

0 Shares