হযরত আয়েশা

 

বৃদ্ধ উম্মে কিরফা (Umm Qirfa) ছিলেন বনু ফাজারা (Banu Fazara) গোত্রের প্রধানের স্ত্রী। মুহাম্মদের মদিনা হিজরীর প্রায় ৬ বছর পর, তার নির্দেশেই তাঁর লোকেরা বনু ফারাজা গোত্রের ওপর আকস্মিকভাবে আক্রমণ করে অনেককেই হত্যা করে এবং সেখানে উম্মে কিরফা এবং তাঁর মেয়েকে আটক করা হয়। এই সেই মহিলা যাঁকে মুহাম্মদের সৈনিকরা নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নবি মুহাম্মদের প্রথম জীবনীকার ইব্ন ইসহাকে এবং পরবর্তীতে তাবারিতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

পাঠকদের উদ্দেশে এখানে আমি তা হুবুহু তুলে ধরছি –

”Zayd also raided Wadi-l-Qurra where he met Banu Fazara and some of his companions were killed; he himself carried wounded from the field. Ward b. Amr b. Madash one of B. Sad b. Hudhayl was killed by one of B. Badr whose name Sa’d b. Hudhaym. When Zayd came he swore that he would use no ablution until he raided B. Fazara; and when he recovered from his wounds the apostle sent him against them with a force. He fought them in Wadi-al-Qura and killed some of them. Qays b. al-Musahhar al-Yamuri killed Mas’ada b. Hakama b. Malik b. Hudhayfa b. Badr and Umm Qirfa Fatima was taken prisoner. She was a very old woman, wife of Malik. Her daughter and Abdulla b. Mas’ada were also taken. Zaid ordered Qays b al-Musahhar to kill Umm Qirfa and he killed her cruelly” . [Ibn Ishaq 980]

ইবনে ইসহাকের বইয়ে (পৃষ্ঠা -৯৮০) স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, জাইদ বানু ফারাজা আক্রমণ করে এবং সেখানকার অনেককেই হত্যা করে। উম্মে কিরফা এবং তার মেয়েকে আটক করে, পরবর্তীতে তাকে (উম্মে কিরফাকে) নির্মমভাবে খুন করা হয়, তবে ইবনে ইসহাকের এই গ্রন্থে এই হত্যার কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না, তিনি শুধু ‘নির্মমভাবে‘ (he killed her cruelly) লিখেই এই ঘটনার বর্ণনা শেষ করেন।

কিন্ত ইমাম তাবারী এই নির্মমতার বিবরণ দেন – উম্মে কিরফাকে দুই পায়ে রশি বেঁধে দু’টি উটের সাথে বাধা হয় এবং দুই দিক থেকে টেনে তার দেহ দ্বিখণ্ডিত করে ফেলা হয়। দেখুন এখানে,

“And he killed her cruelly”. It is of the cruel method holy warriors of Muhammad espoused to kill Umm Qirfa Tabari mentions as: “By putting a rope into her two legs and to two camels and driving them until they rent her in two.”

[The History of al-Tabari: the Victory of Islam, trans. Michael Fishbein, vol. 8, SUNYP, 1997, pp. 95-97]

সবচেয়ে অবাক বিষয় হচ্ছে মুসলিম এবং বুখারী শরীফে বনু ফারাজার আক্রমণের কথা এবং বৃদ্ধ উম্মে কিরফা এবং তার মেয়েকে আটক করার কথা উল্লেখ করা থাকলেও,সন্দেহজনকভাবে এই বৃদ্ধ মহিলার হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা অনেকটা ইচ্ছা করে অথবা হয়তো নির্মমতার চরম পর্যায় দেখে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

মুসলিম শরীফ বই নম্বর ১৯ হাদিস নম্বর ৪৩৪৫ (১) উল্লেখ আছে- উম্মে কিরফার মেয়েকে কীভাবে নবি মুহাম্মদ ও তাঁর সৈনিক/ সাহাবারা সালামার কাছ থেকে ধরে নিয়ে যান এবং মুক্তিপণ হিসেবে মক্কায় পাঠান, যেখানে তার কিছু মুসলিম সঙ্গী আটক ছিলেন। তবে মুসলিম শরীফে ওই মুক্তিপণকৃত নারীর কথা লেখা থাকলেও তার মায়ের বিষয়ে অর্থাৎ কিরফার কপালে সেদিন কী ঘটেছিলো তার কোনো বর্ণনাই উল্লেখ নেই। সুতরাং সত্যি জানতে হলে ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম অথবা তাবারির থেকে উল্লিখিত ঘটনা পড়তে হবে, যা আমি উপরে রেফারেন্সসহ উল্লেখ করেছি।

মুসলিম আপোলোজিস্টরা কিরফার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের নানান অজুহাতে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেন। যেমন –

কেউ কেউ বলেন উম্মে কিরফা ভয়াবহ অপরাধের সাথে যুক্ত ছিল (যার কোনো প্রমাণ তারা দিতে পারে না) তাই তার হত্যার প্রক্রিয়া যতোই নির্মম হোক না কেন, সেটা যথোপযুক্ত ছিল।

অনেকেই আবার এটাও বলেন যে, নবি মুহাম্মদ নিজে তো এই খুন করেননি। তাই ওনার দায়ও নেই। অথচ হাদিসের রেফারেন্সে স্পষ্ট করেই বলা আছে নবির হুকুমেই এই আক্রমণ করা হয় এবং কোথাওই কোনো রেফারেন্স নেই যে, তিনি তাঁর সাহাবীদের এই জঘন্য কর্মের জন্য কোনোরকম শাস্তি প্রদান (বিচার) অথবা পরবর্তীতে সাবধান থাকার কথা বলেছেন। উপরন্তু দয়াল নবি উম্মে কিরফার মেয়েকে মুক্তিপণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যা হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। তাই তাঁর এই মৌনতাকে সম্মতি বলেই ধরে নিতে হবে।

 

 

পাঠক, একবার চোখ বন্ধ করে চিন্তা করুনতো উম্মে কিরফার কথা; এবং সাথে সাথে আপনাদের দয়াল নবির (?) কথা, যাঁকে আপনারা ভক্তিভরে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন ন্যায় বিচারের প্রতীক হিসেবে, দয়াল নবি হিসেবে। তিনি আসলেই আপনাদের এই সরল বিশ্বাসের যোগ্য কীনা? আর কতোটা নির্মম মানসিকতার হলে, আর কতোটা জঘন্য হলে একজন মানুষকে, যাকে আপনারা মহান ও দয়ালু বলে মানেন তিনি প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে নানান অজুহাতে মানুষ খুন করেছেন! এমনকী বৃদ্ধ মহিলাও তাঁর হাতে রেহাই পায় নি?

নাকী ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইমাম তাবারীকে আপনারা এড়িয়ে/ না মেনেই ইসলাম বিশ্বাস করতে চান? তাহলে ইয়ে, মানে ওনাদের লেখা বিশ্বাস না করলে যে ইসলাম আর ইসলাম থাকবে না দয়াল নবির মা, বাপের নামই যে অজানা থেকে যাবে।

চলবে…

রেফারেন্স:

১) Sahih Muslim Book 019, Hadith Number 4345

 

হযরত আয়েশা এর ব্লগ   ১৩৩ বার পঠিত